প্রতিষ্ঠার তিন দশকের মাথায় বিমসটেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের যে বৈঠক ভারতের নয়া দিল্লিতে হতে যাচ্ছে, তাতে যোগ দিচ্ছেন না বাংলাদেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে বিমসটেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের এ বৈঠক। সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতিনিধিত্ব করবেন স্বরাষ্ট্র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর যোগ না দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম বলেছেন, সোমবার বিমসটেকের সদস্য দেশগুলোর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং পরদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক হবে। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাতে যাচ্ছেন না। খবর বিডিনিউজের।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে বাংলাদেশ স্বরাষ্ট্র সচিব মোর্শেদ চৌধুরীসহ তিন সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের দিল্লি সফরের কথা বলা হয়েছে। ওই আদেশ অনুযায়ী, ১২ ও ১৩ তারিখ দিল্লিতে বিমসটেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা পর্যায়ের এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের প্রথম বৈঠকের কথা বলা হয়।
‘সার্ক, বিমসটেক এবং অন্যান্য অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়াবলীর’ দায়িত্বে থাকা এ অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল করিমও বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে রয়েছেন। ওই দুজনের সঙ্গে প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রেবেকা খানের নামও রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশ ছাড়া অন্য ছয় সদস্য দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর অংশগ্রহণের কথা একটি গণমাধ্যমকে বলেছেন বিমসটেক মহাসচিব ইন্দ্র মনি পান্ডে।
দুদেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন না ঘোচার মধ্যে আমন্ত্রণ পেয়েও দিল্লিতে ব্রিকসের আউচরিচ সেশনে যোগ দেননি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিমসটেক সভাপতি হিসাবে তাকে ওই আয়োজনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এর আগে জুনে ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতা হিসাবে যোগ দিতে গিয়ে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ‘হেনস্তার’ শিকার হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। আগে থেকে কূটনৈতিক চ্যানেলে বৈঠকে তার অংশগ্রহণের কথা ভারতকে জানানো হলেও বিমানবন্দরে ‘জিজ্ঞাসাবাদের’ মুখে পড়তে হয়েছিল। উপদেষ্টা হওয়ার আগে থেকে ভারতের ‘ওয়াচলিস্টে’ তার থাকাকে এর কারণ হিসেবে ওই সময় লিখেছিল বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।
এরপর বৈঠক যোগ না দিয়েই দেশে ফিরে এসেছিলেন তিনি। তবে, প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা তার আগেই বিমানবন্দর ছেড়েছিলেন এবং বৈঠকে যোগ দেন। সে সময় ঢাকায় ভারতীয় দূতকে তলব করে ওই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ঢাকা–দিল্লির সম্পোর্কোন্নয়নের চেষ্টার মধ্যে ভারতের নয়াদিল্লিতে ৮ ও ৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ–ভারত বাণিজ্যবিষয়ক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক।












