তুমি রবে নীরবে

রত্না বণিক | শনিবার , ৬ আগস্ট, ২০২২ at ৫:২৪ পূর্বাহ্ণ

আজ বাইশে শ্রাবণ। বিস্ময়কর প্রতিভার অধিকারী, আধুনিক বাংলা ভাষার রূপকার কবিশ্রেষ্ঠ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮১তম প্রয়াণ দিবস। ১৩৪৮ বঙ্গাব্দের আজকের এই দিনে এক ঘনঘোর বর্ষায় অনন্তের পথে পাড়ি জমিয়েছিলেন। তিনি কোলকাতার অভিজাত জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ শে বৈশাখ জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর পিতার নাম মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও মাতার নাম সারদা সুন্দরী দেবী। ছয় বছর বয়স থেকেই শুরু হয় তার বিদ্যাচর্চা। কিন্তু বিদ্যালয়ের গতানুগতিক পঠন পাঠনে আকৃষ্ট হয়নি তাঁর শিশু মন। তিনি শিক্ষা গ্রহণ করেছেন গৃহশিক্ষকের কাছে। মাত্র আট বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথের কবিতা লেখায় হাতেখড়ি। কিশোর বয়সে তিনি লিখলেন ‘ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী’। ‘সোনার তরী’ কাব্য তাঁর অমর সৃষ্টি। তিনি ৫৬টি কবিতার বই লিখেছেন তাতে এক হাজারেরও বেশি কবিতা রয়েছে। তিনি শুধু কবিতাই লিখেন নি। বাংলা সাহিত্যের এমন কোনো শাখা নেই যা তাঁর হাতের ছোঁয়ায় সমৃদ্ধ হয় নি। ছোটগল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, শিশু সাহিত্য, রসরচনা ভ্রমণ কাহিনি সব ধরনের লেখাতেই তিনি ছিলেন সাবলীল।
সংগীতে ছিল তার বিশেষ পারদর্শিতা। তিনি নিজের গানে নিজেই সুর সংযোজন করতেন। এর ফলে তার গানের একটা বিশেষ ধারার সৃষ্টি হয় তার রচিত সংগীত ‘রবীন্দ্র সংগীত’ নামে পরিচিত। তিনি প্রায় ১৯১৫টি গান রচনা করেছেন তার লেখায় তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন সূক্ষ্ম জীবন বোধ এবং মানুষের মনের বিভিন্ন অনুভূতির কথা। তিনি তার লেখনি দিয় উজ্জীবিত করেছেন সমাজ, দেশ, জাতিকে আঁধারে জ্বালিয়ছেন আলোর দীপশিখা। প্রকৃতির চিরন্তন সৌন্দর্যের কবি যার দানের ঐশ্বর্যে ভরে আছে বাঙালির প্রাণ। তাঁকে নিয় আমাদের গৌরবের অন্ত নেই। বিশ্বখ্যাত কবি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সবার হৃদয়ের মনিকোঠায় থাকবেন সযত্নে, শ্রদ্ধায় অনন্ত কাল।