বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকায় আসা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে পাঠানো চিঠিতে এ আমন্ত্রণ জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী। গতকাল মঙ্গলবার তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতে ওম বিড়লা চিঠিটি হস্তান্তর করেন বলে টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে। চিঠি হস্তান্তরের বিষয়টি নিজের এক্স হ্যান্ডেলে জানিয়েছেন ভারতে বাংলাদেশের হাই কমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহও।
চিঠিতে নরেন্দ্র মোদী লিখেছেন, বাংলাদেশের সদ্য সমাপ্ত সংসদ নির্বাচনে বিএনপির জয় এবং নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমি এই পদে আপনার সাফল্য কামনা করি। মোদী বলেন, এই বিজয় আপনার নেতৃত্বের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের অগাধ আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন। এই বিজয় দেশকে শান্তি, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে আপনার ভিশনের প্রতি এক বিশাল জনসমর্থনও। খবর বিডিনিউজের।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক তুলে ধরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী চিঠিতে লেখেন, এই সম্পর্কের ভিত্তি হলো আমাদের অভিন্ন ইতিহাস, সাংস্কৃতিক বন্ধন এবং শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য আমাদের উভয় দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা। চিঠিতে যোগাযোগ ব্যবস্থা, বাণিজ্য, প্রযুক্তি, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, জ্বালানি, স্বাস্থ্যসেবা এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা তুলে ধরে মোদী।
তিনি বলেন, দুটি দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশ একে অপরের টেকসই প্রবৃদ্ধির অনুঘটক হতে পারে; একে অপরের নিরাপত্তার জন্য কাজ করতে পারে এবং পারস্পরিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পারে। চিঠিতে তারেক রহমানকে সপরিবারে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে মোদী লেখেন, আমি এই সুযোগে আপনাকে, জুবাইদা রহমান ও আপনার কন্যা জাইমাকে সুবিধাজনক সময়ে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। ভারতে আপনাদের জন্য উষ্ণ অভ্যর্থনা অপেক্ষা করছে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল আসার আগে শুক্রবার সকালে তারেক রহমানকে এক বিবৃতিতে অভিনন্দন জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এরপর পূর্ণাঙ্গ ফল ঘোষণার পর বিকালে তারেকের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন তিনি। ওই ফোনালাপে তাকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি তার কাজে সমর্থনের দেওয়ার কথা বলেন।
অন্যদিকে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ নরেন্দ্র মোদীকে আমন্ত্রণ জানায় ঢাকা। তবে ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিটের’ কারণে তিনি শপথ অনুষ্ঠাতে আসতে পারবেন না বলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফে জানানো হয়। তার হয়ে শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন ওম বিড়লা।
চীনের প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা : বাসস জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং। বাংলাদেশের নতুন সরকারের প্রতি বেইজিংয়ের সমর্থনও পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি। গতকাল পাঠানো এক শুভেচ্ছা বার্তায় চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। লি কিয়াং বলেন, চীন ও বাংলাদেশ ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী এবং সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদার; দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ আদান–প্রদান কয়েক দশক পুরনো।
তিনি স্মরণ করেন, কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫১ বছর ধরে বেইজিং ও ঢাকা ধারাবাহিকভাবে একে অপরকে সম্মান করেছে, সমতার ভিত্তিতে আচরণ করেছে এবং পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতা ও উইন উইন ফলাফলের পথে অগ্রসর হয়েছে, যা তার ভাষায় রাষ্ট্রের সঙ্গে রাষ্ট্রে সম্পর্কের এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ তৈরি করেছে। চীনের প্রধানমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন, তার সরকার সুশাসন ও জাতীয় উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের নতুন সরকারকে সমর্থন করে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে লি কিয়াং বলেন, তিনি দুই দেশের ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্ব এগিয়ে নেওয়া, বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় উচ্চমানের সহযোগিতা জোরদার করা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে আদান–প্রদান সম্প্রসারণের প্রত্যাশা করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, যৌথ প্রচেষ্টায় চীন–বাংলাদেশ সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্ব নতুন উচ্চতায় উন্নীত হবে এবং উভয় দেশের জনগণের জন্য আরো বেশি সুফল বয়ে আনবে।











