শিক্ষার্থীদের মেধা শুধু তাদের ব্যক্তিগত সম্পদ নয়, বরং তা বাংলাদেশের সম্পদ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, দক্ষ পেশাজীবী, সৎ উদ্যোক্তা ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার পাশাপাশি কর প্রদান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মানসিকতাও তৈরি করতে হবে। শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি মানবিক গুণাবলির বিকাশ ঘটাতে হবে। এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে তরুণেরা নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী সুযোগ পাবেন এবং নতুন শিল্প ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবেন।
গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমের সভাপতিত্বে অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন, সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, মোহাম্মদ এনামুল হক ও সরোয়ার আলমগীর, বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান প্রমুখ।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী রওশন ইসলাম। সঞ্চালনা করেন নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মো. ইখতিয়ার উদ্দীন আরাফাত। অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের উদ্যোগে ২০২৬–২৭ অর্থবছরে চট্টগ্রাম জেলার কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ২২৬ শিক্ষার্থীকে প্রায় ৩০ লাখ টাকার শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ করা হয়।
ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, সিঙ্গাপুর সীমিত প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়েও পরিকল্পনা, শৃঙ্খলা, সুশাসন ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার মাধ্যমে বিশ্বমানের অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করেছে। বাংলাদেশেরও এ অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। মানসম্মত শিক্ষা, কার্যকর প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তির ব্যবহার, বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অন্য দেশের সাফল্যের গল্প শোনাই বাংলাদেশের তরুণদের লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়; বরং নিজেদের সাফল্যের গল্প তৈরি করতে হবে। ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য অর্জনে তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও কঠোর পরিশ্রম প্রয়োজন।
মেধাবী শিক্ষার্থীদের চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু চাকরির প্রত্যাশা নিয়ে এগোলে হবে না। প্রযুক্তি, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে নতুন উদ্যোগ গড়ে তুলতে হবে। তরুণদের মেধা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। শুধু সরকারি চাকরির ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজেদের উদ্যোগে অন্যদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা জানান, তরুণ উদ্যোক্তাদের সহায়তায় সরকার ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা করেছে। তবে এ সুযোগ কাজে লাগাতে তরুণদের নিজেদেরও উদ্যোগী হতে হবে।
সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বর্তমান বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ নতুন সম্ভাবনার পাশাপাশি বড় চ্যালেঞ্জও তৈরি করেছে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ হওয়ার পাশাপাশি শৃঙ্খলা, সময়ানুবর্তিতা ও অধ্যবসায়ের চর্চা করতে হবে। এসব গুণ অর্জন করতে পারলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, শুধু ভালো ফলাফল অর্জন করাই শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য নয়; বরং শিক্ষাকে মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোই প্রকৃত সাফল্য। তিনি বলেন, একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়তে হলে মেধাবী, মানবিক ও আলোকিত প্রজন্ম তৈরি করতে হবে। শুধু শিক্ষার হার বাড়ালেই হবে না, শিক্ষার গুণগত মানও নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের মেধা ও যোগ্যতার বিকাশের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। আমাদের লক্ষ্য হতে হবে আলোকিত মানুষ তৈরি করা। ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে। সবার আগে বাংলাদেশ–এই চেতনাকে ধারণ করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।












