ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির নতুন চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে রাজধানীর মতিঝিলে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’। গতকাল সোমবার সকাল থেকে চলা এ কর্মসূচিতে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারশেল, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। এতে কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে আন্দোলনের মুখেও খুরশীদ আলমকে চেয়ারম্যান পদ থেকে সরানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেই বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঈদের ছুটির পর প্রথম কর্মদিবসে গতকাল সকাল ৯টার দিকে মতিঝিলের দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। তারা সদ্য নিয়োগ পাওয়া চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের নিয়োগ বাতিল এবং পদত্যাগকারী চেয়ারম্যান ড. এম জুবায়দুর রহমান ও সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ওমর ফারুক খানের পুনর্বহালের দাবি জানান। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট–পাটকেল নিক্ষেপের অভিযোগ ওঠে। এরপর পুলিশ জলকামান, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। পরে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে আন্দোলনকারীরা পুনরায় ব্যাংকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখেন। আন্দোলনকারীদের দাবি, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আগে যারা পরিচালনা পর্ষদে ছিলেন, তাদের মাধ্যমেই ব্যাংক পরিচালনা করতে হবে। তাদের অভিযোগ, নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম এস আলম গ্রুপের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং তার নিয়োগ ব্যাংকটিকে আবারও বিতর্কের মুখে ফেলবে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে একই দিনে চেয়ারম্যান ড. এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। খুরশীদ আলম ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। তবে ওই বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কয়েক কর্মকর্তার সঙ্গে তাকেও পদত্যাগ করতে হয়। চলমান আন্দোলনের কারণে গতকাল সোমবার ইসলামী ব্যাংকের নির্ধারিত পরিচালনা পর্ষদের সভা সশরীরে আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনে সভাটি অনলাইনে আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেটিও শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়নি।
ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলতাফ হুসাইন সাংবাদিকদের বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনে জুম প্ল্যাটফর্মে পর্ষদ সভা আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। তবে আন্দোলনকারীদের দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে সভাটি আর করা হয়নি। স্থগিত হওয়া পর্ষদ সভার নতুন তারিখ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পর্ষদ সভা আহ্বানের সিদ্ধান্ত চেয়ারম্যানের। তিনি নতুন তারিখ নির্ধারণ করলে কোম্পানি সচিব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
এদিকে নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে আন্দোলন চললেও বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, খুরশীদ আলমকে চেয়ারম্যান পদ থেকে সরানোর কোনো আলোচনা নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পরিবর্তনের কোনো আলোচনা বাংলাদেশ ব্যাংকে হচ্ছে না। আজ আন্দোলনের কারণে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হলে আগামীতে অন্য কোনো পক্ষও একইভাবে সিদ্ধান্ত বদলের দাবি নিয়ে আন্দোলনে নামবে। বাংলাদেশ ব্যাংক তার নিজস্ব প্রক্রিয়া ও নীতিমালা অনুসারেই চলবে। তিনি আরও বলেন, কয়েকদিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন প্রচারণার কারণে পরিস্থিতি স্বাভাবিক নাও থাকতে পারে বলে আশঙ্কা ছিল। সে কারণেই পরিচালনা পর্ষদের প্রথম বৈঠকটি অনলাইনে করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
দিনভর বিক্ষোভের কারণে নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রবেশ করেননি। ফলে তার আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবস্থান অনুযায়ী তিনি চেয়ারম্যান পদে বহাল থাকছেন এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।












