টানা বৃষ্টি আর দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যার মধ্যে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা না পেছানো, শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগির’ সঙ্গে তুলনা করায় মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে গতকাল আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থী ও পরীক্ষার্থীরা। তারা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দিনভর সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছেন।
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড় অবরোধের পর সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অবস্থান করা এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করে সরিয়ে দেয় পুলিশ। গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আন্দোলনরতদের সরিয়ে দেওয়া শুরু করে পুলিশ। শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটার পাশাপাশি ধাওয়া দিতে দেখা যায় পুলিশ সদস্যদের। এ সময় ছত্রভঙ্গ হয়ে যান শিক্ষার্থীরা। খবর বিডিনিউজের।
তিন দাবিতে আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবিগুলো হলো ১. দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলমান দুর্যোগের (অতি বৃষ্টিতে বন্যা) প্রাদুর্ভাব পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত রাখতে হবে। ২. বৈরী আবহাওয়ার কারণে যেসব পরীক্ষার্থী ১৩ জুলাইয়ের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি, তাদের জন্য পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা। ৩. শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ।
এদিকে পৌনে দুই ঘণ্টা পর ফের শিক্ষার্থীরা সংসদ ভবনের সামনে জড়ো হতে শুরু করেছেন। রাত সোয়া ৮টার দিকে তারা দ্বিতীয় দফায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে গাড়ি চলাচল আটকে দিয়ে সেখানে অবস্থান নেন। এরপর তারা খামারবাড়ি থেকে আসাদগেটের দিকে যাওয়ার রাস্তায়ও অবরোধ করেন। ফলে ওই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। রাত ৯টা ৪০ মিনিটের পর তারা সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে সরে যান। এরপর সড়কটিতে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। কর্মসূচি শেষ করার আগে আজ বুধবারের পরীক্ষা স্থগিত করা না হলে সচিবালয় অভিমুখে লং মার্চ করার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
দিনভর সড়ক আটকে আন্দোলন হলেও বন্যাকবলিত চট্টগ্রাম বিভাগ বাদে অন্যান্য জেলায় পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় সরকার। গতকাল রাত ১০টার দিকে ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বর্তমানে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বিকালে জাতীয় সংসদে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিলের ওপর আলোচনার সময় পটুয়াখালী–২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন ও তাদের দাবির প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, সংসদের বাইরে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়েছে এবং তাদের দাবিগুলো দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত।
এর পরিপ্রেক্ষিতে বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, গতকালকে যে পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষা হয়েছে, হিসাববিজ্ঞান এবং যুক্তিবিদ্যা এই পরীক্ষার সময় বৃষ্টি ছিল। অনেকে ভিজেছে এবং পরীক্ষা সঠিকভাবে দিতে পারেনি। এই ধরনের কমপ্লেইন এসেছে। তিনি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ছিল। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ বিবেচনায় নিয়ে পুনঃপরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বন্যার কারণে আমরা চিটাগাং বোর্ডের প্রত্যেকটি জেলার পরীক্ষা বন্ধ করে দিয়েছি এবং আমাদেরকে পুনরায় দিতেই হবে। এই ক্ষেত্রে আমরা ভেবেচিন্তে দেখেছি যে, চিটাগাং বোর্ডের পরীক্ষা আরেকটি প্রশ্নপত্র সেটে যখন আমরা নিতে যাব, ফিজিঙ, যুক্তিবিদ্যা এবং হিসাববিজ্ঞান, সেই সময়ে আমরা এই পরীক্ষাটি পুনরায় নেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারব ইনশাআল্লাহ।
আন্দোলনরতদের পিটিয়ে সরাল পুলিশ : রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড় অবরোধের পর সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অবস্থান করা এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করে সরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আন্দোলনরতদের সরিয়ে দেওয়া শুরু করে পুলিশ। শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটার পাশাপাশি ধাওয়া দিতে দেখা যায় পুলিশ সদস্যদের। এ সময় ছত্রভঙ্গ হয়ে যান শিক্ষার্থীরা।
এর আগে সন্ধ্যা ৬টার দিকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ সংলগ্ন বটতলার গেটে অবস্থান নেন পরীক্ষার্থীরা। অ্যাভিনিউয়ের দুই পাশে আটকে রাখার ফলে আসাদগেট থেকে খামারবাড়ির দিকে এবং খামার বাড়ি থেকে আসাদ গেইট অভিমুখে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
সংসদ ভবনের সামনে অবরোধের আধা ঘণ্টা পর পুলিশ শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেওয়া শুরু করার পাশাপাশি তাদের দেওয়া ব্যারিকেডও সরিয়ে দেয়। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে বিকাল সাড়ে ৫টায় জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দপ্তরে তার সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
ছত্রভঙ্গ শিক্ষার্থীরা ফের সংসদ ভবনের সামনে : সংসদ ভবনের সামনে অবস্থান করা এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করে পুলিশ সরিয়ে দিলেও পৌনে দুই ঘণ্টা পর ফের তারা সেখানে জড়ো হতে শুরু করেছেন। রাত সোয়া ৮টার দিকে তারা দ্বিতীয় দফায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে গাড়ি চলাচল আটকে দিয়ে সেখানে অবস্থান নেন। এরপর তারা খামারবাড়ি থেকে আসাদগেটের দিকে যাওয়ার রাস্তায়ও অবরোধ করেন। ফলে ওই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। পরে রাতে শিক্ষার্থীরা সড়ক থেকে সরে যান।












