টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ সীমান্ত দিয়ে আবারও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ

উখিয়ার ক্যাম্পে আশ্রয়—উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের

উখিয়া প্রতিনিধি | সোমবার , ২৩ মার্চ, ২০২৬ at ৭:৪১ অপরাহ্ণ

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপ সীমান্ত দিয়ে আবারও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। নারী-পুরুষ ও শিশুসহ একই পরিবারের ১০ সদস্য সীমান্ত অতিক্রম করে বর্তমানে উখিয়ার ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (২৩ মার্চ) ভোর সাড়ে ৭টার দিকে মিয়ানমারের মংডু টাউনশিপ থেকে দালালচক্রের সহযোগিতায় শিশুসহ পরিবারের সদস্যরা শাহপরীর দ্বীপ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। সীমান্ত পার হওয়ার পর তারা উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১৫ এ অবস্থানরত আত্মীয়ের শেল্টারে আশ্রয় নেয়।

আগতদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু হওয়ায় বিষয়টি আরও উদ্বেগজনক হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে রয়েছে—ছমুদা (১৮), সাবেকুন্নাহার (১৫), মো. সলিম (১৩), জবিউল্লাহ (১২), মো. আনোস (১১), জিয়াবুর রহমান (১০), শায়েকা (৮), উম্মে হাবিবা (৭), মো. ইসমাইল (৬) ও রেহেনা (৫)। তাদের পিতা মো. হারুন।

এদিকে, আশ্রয়দাতা হিসেবে ক্যাম্প-১৫ এর বাসিন্দা মো. আয়ুব (৩২), পিতা সুলতানকে শনাক্ত করা হয়েছে। তার শেল্টার নম্বর ১৬, এফসিএন নম্বর ২২৮৭১০ এবং সাব-ব্লক ই-১।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত এলাকায় দালালচক্রের সক্রিয়তার কারণে নতুন করে অনুপ্রবেশের ঝুঁকি বেড়েছে। এতে একদিকে যেমন সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে মানবিক ও সামাজিক চাপও বাড়ছে।

এ ব্যাপারে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান বলেন এ ধরনের কোন তথ্য আমার জানা নেই। খোঁজ খবর নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দায়িত্বরত এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসেছে একটি পরিবার। বর্তমানে উখিয়ার জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এক আত্মীয় বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের মার্চ মাসে কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গার উদ্দেশে বক্তব্য দিয়েছিলেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। পরবর্তীতে এপ্রিল মাসে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেছিলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা যেন পরবর্তী ঈদ নিজেদের মাতৃভূমিতে উদযাপন করতে পারে।তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। এখনো প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় উল্টো নতুন করে অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটি তাদের নজরে রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধজনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ