মহেশখালীতে জ্বীন তাড়ানোর নামে মুখে কেরোসিন ও হাতে আগুনের উজাল নিয়ে রোগীর শরীরে আগুন দেয় বৈদ্য। আর এতে ঝাড়ফুঁকের সময় আগুনে দগ্ধ হন নুরুন্নবী (৫৮) নামে ওই রোগী। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনাটি স্বয়ং নিহতের পরিবারও ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে মহেশখালীর মাতারবাড়ী ইউনিয়নের তিতামাঝির পাড়া গ্রামে। নিহত নুরুন্নবী উক্ত গ্রামের মৃত খলিলুর রহমানের পুত্র।
এলাকাবাসী ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১২ জুন রাতে অসুস্থ নুরুন্নবীকে ঝাড়ফুঁকের জন্য স্থানীয় বৈদ্য মাওলানা বেলাল হোছাইনের কাছে নেওয়া হয়। এ সময় বেলালের ভাই মোহাম্মদ হোসাইনও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
পরিবারের অভিযোগ, ঝাড়ফুঁকের একপর্যায়ে বৈদ্য মাওলানা বেলাল হোছাইন বলেন যে, এই রোগী জ্বীনের মেয়ে বিয়ে করেছে। ওই জ্বীনের মেয়েকে ছাড়াতে আগুন দিয়ে ঝাড়ানো ছাড়া কাজ হবে না। এই বলে তিনি বোতলে কেরোসিন ও হাতে আগুনের উজাল নিয়ে মুখ থেকে উজালে কেরোসিন মেরে রোগীর শরীরে আগুনের ছ্যাকা দিতে থাকেন। এতে নুরুন্নবীর শরীরে আগুন ধরে যায়। তিনি গুরুতর দগ্ধ হন। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেন এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চারদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৬ জুন তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি প্রথমে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকেও ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিহতের অগ্নিদগ্ধ ভিডিও প্রকাশ হলে বিষয়টি জানাজানি হয় এবং স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা অভিযোগ করেন, আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার যুগেও ঝাড়ফুঁক ও কুসংস্কারের নামে মানুষের জীবন নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাওলানা বেলাল হোছাইন ও তার ভাই মোহাম্মদ হোসাইনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবদুস সুলতান বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’











