জালিয়াতির মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ৬ষ্ঠ একাডেমিক ভবনের ২য় পর্যায়ের নির্মাণকাজ হাসিলের মামলায় দেশজুড়ে আলোচিত ঠিকাদার গোলাম কিবরিয়া শামীম প্রকাশ জি কে শামীমের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে আদালত। গতকাল রোববার চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান শুনানি শেষে চার্জ গঠনের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে বিচার শুরুর এ আদেশ দেন।
আগামী ২০ সেপ্টেম্বর থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হবে জানিয়ে দুদক পিপি রেজাউল করিম রনি দৈনিক আজাদীকে বলেন, যুবলীগ নেতা জি কে শামীমের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের দিন ধার্য ছিল আজ (গতকাল)। এরই ধারাবাহিকতায় চার্জ গঠন করে তার বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন বিচারক।
আদালত সূত্র জানায়, ২০২০ সালের ২২ নভেম্বর জি কে বি অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক জি কে শামীম ও দি বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স এসোসিয়েটস্ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল করিমের বিরুদ্ধে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম–১ এর তৎকালীন সহকারী পরিচালক মো. ফখরুল ইসলাম নিজ কার্যালয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে গত বছরের ২৭ মে জি কে শামীমের বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম–১ এর সহকারী পরিচালক সায়েদ আলম আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
এতে বলা হয়, জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে রেকর্ডপত্র তৈরি করে দরপত্রের সাথে দাখিল করা হয়। এরপর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ একাডেমিক ভবনের (২য় কলা ও মানবিদ্যা অনুষদ) ২য় পর্যায়ের নির্মাণ কাজ হাসিল করে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন জি কে শামীম। এ কাজে কোনোরকম সম্পৃক্ততার প্রমাণ না মেলায় মামলার অপর আসামি মো. ফজলুল করিমকে চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়া হয়।
দুদক পিপি জানান, শুনানির সময় জি কে শামীম কাঠগড়ায় হাজির ছিলেন। তবে তিনি জামিনে রয়েছেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়। ওই বছরের ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকার গুলশান এলাকায় থাকা জি কে শামীমের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা, এফডিআর, আগ্নেয়াস্ত্র ও মদ উদ্ধারসহ জি কে শামীম ও তার সাত দেহরক্ষীকে গ্রেপ্তার করা হয়।












