ছায়াতল

সিকতা কাজল | বুধবার , ১৫ মে, ২০২৪ at ৭:২৭ পূর্বাহ্ণ

সময়ের সাথে থাকে জীবনের কত কী আয়োজন। রোদের দিন, কুমারী সকাল, ঝঞ্ঝাকবলিত রাত আকাশের শরীর থেকে খসে পড়া নক্ষত্ররাশি নরম স্পর্শে হয়ে ওঠে বিপুল জলরাশি। মানুষের ভিতরে বাহিরে কান্না অদৃশ্য, অনাহুত সে কান্নার থাকে কত রকম রঙ। দুটো হাত সমস্ত অন্ধকারকে অতিক্রম করে কেবলই লম্বা হতে থাকে। কুৎসিত শকুনের ছায়ায় ভূলুণ্ঠিত হয সজনে ফুলে আটকে থাকা কষ্টগুলো।

কী বিপুল দৃঢ়তায় দাঁড়িয়ে থাকেন, বিষণ্ন সুন্দর ভাতের ভিতর লুকিয়ে থাকা আঁঠালো স্যাঁতসেঁতে দুঃখদের খুব কাছটিতে। আমাদের জলহাওয়ায় বেড়ে ওঠা মানুষ ক্লান্ত, বিদগ্ধ, বিস্তীর্ণ শস্যের জমিন ছাপিয়ে কৃষকের মুখচ্ছবি। হরিজনদের দরজায় দাঁড়িয়ে তেজপাতা রঙের কষ্টের গল্প শোনা হয় মধ্য দুপুর বা রাত গভীরে। বুকের ভিতর তীব্র যন্ত্রণা বয়ে বেড়ানো মানুষগুলো তাদের অভিন্ন কন্ঠস্বর করে নেয় কবি ও কবিতাকে।

আমিআমরা হাঁটি। দীর্ঘশ্বাসের পথে ঝরে পড়ে শিশিরকণা। এরই মধ্যে অগণন তারা ছিটকে পড়ে পৃথিবীর কোথাও না কোথাও….. তবুও জগতের সমস্ত গোঙানি হাতের মুঠোয় নিয়ে, মহতী কবিতার কাছে নুয়ে পড়ি।

আহারে পাখি বিশ্বাসী মায়াপথ ধরে হাঁটে আজন্ম কাল ধরে। সাতমাথা, ফুলপট্টি, খোকনপার্কে ঘুরে বেড়ানো তরুণীর লাল ওড়নায় জীবনের ক্যানভাস।

এখানে কাছাকাছি থাকে না কেউ। তারপরও খুব কাছাকাছি। শহর, গ্রাম ও নগরের কপাট খুলে যায় নির্ভরতায়। অবশেষে, মানুষেরা ছুটে যায় ফুল ও ফলে শোভিত ছায়াতলে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধমায়ের বুকে
পরবর্তী নিবন্ধদূরের টানে বাহির পানে