চিকিৎসা নেই, ডিএমডি আক্রান্ত দুই ভাইয়ের জীবন যেভাবে কাটছে

মোহাম্মদ জিপন উদ্দিন, ফটিকছড়ি | রবিবার , ১১ জানুয়ারি, ২০২৬ at ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ

যে বয়সে স্কুলে যাওয়া আর শৈশবের দুরন্তপনায় মেতে থাকার কথা ছিল, সে বয়সে মৃত্যুর প্রহর গুণছে দুই ভাই। ফটিকছড়ি উপজেলায় ডিএমডি (ডুচেন মাসকুলার ডিসট্রোফি) রোগে আক্রান্ত হয়েছে দুই শিশু। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মতে, এটি মারাত্মক জিনগত ব্যাধি, যা পেশি দুর্বল করে ও ধীরে ধীরে পেশির ক্ষয় ঘটায়। প্রধানত ছেলেদের প্রভাবিত করে এবং ডিস্ট্রোফিন নামক প্রোটিনের অভাবে ঘটে। এর ফলে হাঁটাচলা, সিঁড়ি ভাঙা এবং পেশি নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হয়, যা সাধারণত ২৩ বছর বয়স থেকে শুরু হয়। নির্দিষ্ট চিকিৎসা না থাকলেও সাপোর্টিং যে চিকিৎসা রয়েছে তা করলেও এক পর্যায়ে ২০২৫ বছর বয়সে এ রোগে আক্রান্তরা মারা যায়। আক্রান্ত দুজনের বাড়ি ফটিকছটি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের আতাউল্লাহ পাড়ায়। ছেলেদের জন্য প্রবাস জীবন ছেড়েছেন। দেশে এসে সর্বস্বাস্ত বাবা মোজাহেরুল ইসলাম। নিজের সকল আয় দিয়ে দুই ছেলেকে ঢাকায় চিকিৎসা করিয়েছেন; কিন্তু কিছুতেই কিছু হয়নি।

তিনি বলেন, চার বছর বয়সে বড় ছেলে মারওয়ান ইসলামের ডিএমডি রোগ ধরা পড়ে। বর্তমানে তার বয়স ১৩ বছর। সে এখন পঙ্গু হয়ে শয্যাশায়ী। পেছনের হাড় বেঁকে গিয়ে এক পাশে চলে গেছে। ভালো করে কথাও বলতে পারছে না। ছোট ছেলে মারসাদুল ইসলামের রোগ ধরা পড়ে ছয় বছরের দিকে। এখন বয়স বাড়ার সাথে সাথে তার হাতপা বেঁকে যাচ্ছে। সেও শয্যাশায়ী হওয়ার পথে।

কথা বলতে বলতে কেঁদে দেন মোজাহেরুল। তিনি বলেন, তাদের দেখাশোনা করার জন্য প্রবাস জীবন ছেড়ে দিয়েছি। সারারাত তাদের দেখে রাখতে হয়। রাতে তারা ঘুমাতেও পারে না। আমার তিন ভাইয়ের উপর ভরসা করে সংসার কোনোমতে চলছে। তারা না থাকলে পথে বসতে হতো। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এ রোগে আক্রান্তরা ২০২২ বছর বয়সে মারা যায়। একজন পিতা হয়ে দুই ছেলের মৃত্যুর প্রহর গোনার চেয়ে কঠিন কোনো কিছু পৃথিবীতে আছে? তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

মারওয়ান ও মারসাদুলের রোগ নির্ণয়কারী চিকিৎসক ডা. জয়নাল মুহুরী বলেন, এটি একটি মরণ ব্যাধি; যার কোনো চিকিৎসা এখনো বিশ্বে আবিষ্কার হয়নি। এ রোগের বাহক মা। তবে এটি শুধু ছেলেদের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। যে মায়ের যত ছেলে হবে সবাই এ রোগে আক্রান্ত হবে। সাপোর্টিং চিকিৎসা চলার পরও বয়স ২০২৫ বছর হওয়ার পর এ রোগে আক্রান্তরা মারা যায়। ফটিকছড়িতে এ দুজনসহ ৪৫ জন রোগীর খবর পেয়েছেন বলে জানান তিনি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধরাঙ্গুনিয়ায় অপহৃত উদ্ধার, অস্ত্র ও মাদকসহ গ্রেপ্তার ৩
পরবর্তী নিবন্ধচুনতি অভয়ারণ্যে টিলা কেটে পাগলীর ছড়ায় বাঁধ