চাকরি জীবনের কথা

সত্যব্রত বড়ুয়া | শুক্রবার , ৫ আগস্ট, ২০২২ at ৭:৩৭ পূর্বাহ্ণ

হোসেন আবদুল মান্নান একজন মেধাবী এবং সৃষ্টিশীল লেখক। এরই মধ্যে তাঁর বেশ কয়েকটি বই প্রকাশিত ও পাঠকের কাছে সমাদৃত হয়েছে। বইটির নাম ‘একটুখানি চাকরি’ হলেও এই একটুখানি হলো তাঁর একত্রিশ বছরের চাকরি-জীবনের বিচিত্র অভিজ্ঞতার কথা। এ-ধরনের বই অনেকেই চাকরি হতে অবসর গ্রহণের পর লিখেছেন। লেখকের প্রকাশভঙ্গিমা একটু ব্যতিক্রমী। তিনি আলাপচারিতার ভঙ্গিতে তাঁর বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। আবদুল মান্নানের ভাষা জটিলতামুক্ত। সারল্য রয়েছে। তিনি তাঁর চাকরিজীবনের বিভিন্ন ঘটনা এমনভাবে বর্ণনা করেছেন যে, পাঠকের মনে হবে জীবনের একটি চলচ্চিত্র দেখছেন।

এটা অবশ্যই বইটিকে করে তুলেছে আকর্ষণীয়। বইটিতে ৪৬টি লেখা রয়েছে। প্রতিটি লেখা নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ এখানে নেই। শুধুমাত্র কয়েকটি লেখার ওপর আলোকপাত করলাম। আবদুল মান্নান তাঁর ‘আমার নিষ্কর্ম সময়’ লিখেছেন চাকরি হতে অবসর গ্রহণের পর। তিনি বলেছেন, ‘আমি যথারীতি স্নানাহার সেরে গুরুত্বপূর্ণ একজন কাজের মানুষের মতো ঐচ্ছিক পোশাকে মধ্য দুপুরে বের হয়ে পড়ি। কোনো প্রশ্ন নেই, উত্তরও অজানা। লিফটে ভর করে ভবনের নিচে নেমে আসি। সহসা কোলাহল-কলরবে প্রবেশ করি। নিমিষেই অচেনা হয়ে যাই আমি’। ঐচ্ছিক পোশাকের মতো জনকলহে নিজেকে ঢেকে ফেলা যেন চাকরিজীবনের অলিখিত নিয়ম। এসব বর্ণনায় একজন সৃষ্টিশীল মানুষকে চিনতে সহজ হয়। তিনি তাঁর একটি লেখায় কিছুটা অভিমানভরে বলেছেন, আমার স্ত্রী হসপিটালে ‘করোনা’য় আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন।

এর পরপরই আমাকে ‘স্বাস্থ্য সচিব’ হতে বদলি করা হলো ‘পাট ও বস্ত্র’ মন্ত্রণালয়ে। অল্প কিছুদিন পরই এখান হতে অবসর গ্রহণ করি। ‘চাকরিকে কখনো না বলতে পারিনি’ পড়ে বুঝতে পারি তিনি একজন নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা ছিলেন। বইটি উৎসর্গ করেছেন ছেলে ডাঃ ইমতিয়াজ আবদুল্লাহ আদিত্যকে। প্রচ্ছদ করেছেন ধ্রুব এষ। ‘চিত্রে জীবনের ঝরনা ধারায়’ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র রয়েছে। ‘একটুখানি চাকরি’ বইটি সংগ্রহে থাকলে আপনি ঋদ্ধ হবেন।