নগরীর খুলশীর আলোচিত ওয়াকিল হোসেন বগাকে চাঁদাবাজির একটি মামলায় কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। গতকাল দুপুরে আত্মসমর্পণ করে জামিন চেয়ে আবেদন করলে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মহিদুল ইসলাম তা নাকচ করে দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানোর এ আদেশ দেন। নগর পুলিশের উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) হাসান ইকবাল চৌধুরী দৈনিক আজাদীকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, নগরীর খুলশী থানায় গত ৮ অক্টোবর দায়ের হওয়া একটি চাঁদাবাজি মামলায় বগা আত্মসমর্পণ করে আদালতের কাছে জামিন চেয়ে আবেদন করেছিলেন। শুনানি শেষে বিচারক তার উক্ত আবেদনটি নাকচ করে দেন এবং তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বগার বিরুদ্ধে সবমিলে ২৩ টি মামলা রয়েছে বলেও জানান তিনি। ওয়াকিল হোসেন বগা বিহারী বগা হিসেবেও পরিচিত। তিনি নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিস্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক। তাকে গ্রেপ্তার করতে নানা সময় অভিযান চালিয়েও ব্যর্থ হয় পুলিশ। সর্বশেষ গত ৬ অক্টোবর নগরের টাইগারপাস এলাকায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) নগর ভবনে ওয়াকিলের অবস্থানের খবর পেয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে যায় পুলিশ। তবে সেখানে তাকে পাওয়া যায়নি। পরদিন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ওয়াকিল নগর ভবনে ছিলেন না। তার দুই ভাই মেয়রের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। এ সময় ওয়াকিলকে সন্ত্রাসী নয়, জুলাই যোদ্ধা বলে দাবি করেন মেয়র। পাশাপাশি খুলশী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন তিনি। ওই দিনই আবদুর রহিমকে খুলশী থানা থেকে সরিয়ে নগর পুলিশের সিটিএসবিতে বদলি করা হয়। পরদিন তাকে চট্টগ্রাম থেকে খুলনা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে বদলি করা হয়।
এর আগে পাহাড়তলী কলেজের এক শিক্ষককে ডেকে নিয়ে মারধরের অভিযোগে হওয়া একটি মামলায় গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে খুলশী থানা পুলিশ বগাকে আটক করতে ওয়্যারলেস কলোনি এলাকায় একটি অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় বগার অনুসারীরা পুলিশের উপর হামলা চালায়। এতে ৬ পুলিশ সদস্য আহত হয়। এ ঘটনার কিছুদিন পর গত ২৯ সেপ্টেম্বর খুলশী থানাধীন ওয়্যারলেস কলোনি এলাকায় ১৬ বছর বয়সী এক সবজি বিক্রেতা খুনের ঘটনা ঘটে। এতেও নাম আসে বগার। পুলিশের সূত্র বলছে, চাঁদাবাজি, মাদক, মারামারি, পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি সম্পদ ভাঙ্চুর ও বিস্ফোরক–সংক্রান্ত অভিযোগে খুলশীসহ আশপাশের বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া মোট ২৩ টি মামলার আসামি ওয়াকিল হোসেন বগা ওরফে বিহারী বগা।











