নগরীর পোর্ট কানেকটিং রোড প্রকল্পের অলংকার থেকে নিমতলা পর্যন্ত সড়কের উন্নয়ন প্রকল্পের টাকার ক্ষতিসাধন ও জাল–জালিয়াতির মাধ্যমে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবিএল) ২৪ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তাসহ তিনজনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। গতকাল আত্মসমর্পণ করে জামিন চেয়ে আবেদন করলে চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালত তা নাকচ করে দেন। পাশাপাশি তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। কারাগারে যাওয়া তিনজন হলেন, চসিকের তৎকালীন প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, ইউসিবিএল ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের তৎকালীন স্পেশাল অ্যাসেটস ম্যানেজমেন্ট ডিভিশনের মো. সরোয়ার আলম এবং এনআরবি ব্যাংক কুমিল্লা শাখার তৎকালীন এভিপি ও শাখা প্রধান মোহাম্মদ তোফায়েল। বর্তমানে মামলাটির অভিযোগ গঠন শুনানি পর্যায়ে রয়েছে উল্লেখ করে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোকাররম হোসাইন দৈনিক আজাদীকে বলেন, মামলার প্রধান আসামি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজের মালিক জাকির হোসেন হাইকোর্ট থেকে জামিনে আছেন। আদালতসূত্র জানায়, এ মামলায় গত বছরের অক্টোবরে সাইফুদ্দিনসহ চারজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে দুদক। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দুদক প্রধান কার্যালয়ের পরিচালক মো. বেনজীর আহম্মদ অধিকতর তদন্ত শেষে এ চার্জশিট দাখিল করেন। আদালত সূত্র আরো জানায়, ২০২২ সালের ১০ মে দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আনোয়ারুল হক মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, পরস্পর যোগসাজসে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজেরা লাভবান হওয়ার ও অপরকে লাভবান করার অসৎ উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পোর্ট কানেকটিং রোডের অলংকার থেকে নিমতলা পর্যন্ত সড়কের উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষতিসাধন করেছেন আসামিরা। প্রকল্পের কার্যাদেশ পাওয়ার পর নিজে কাজ না করে, অবৈধভাবে আমমোক্তার নিয়োগ করে কাজের সম্পূর্ণ দায়িত্ব অপরকে প্রদান করা হয়। এছাড়া কাজটি শেষ না করে গণভোগান্তির সৃষ্টি করা হয়। এর মাধ্যমে সরকারি ২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা টাকার আর্থিক ক্ষতিসাধন করা হয়। এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়, আসামি মো. জাকির হোসেন চসিকের উক্ত প্রকল্পের কার্যাদেশপ্রাপ্ত ঠিকাদার মোহাম্মদ আলম কর্তৃক অবৈধভাবে আমমোক্তার নিযুক্ত হন। তিনি মিথ্যাভাবে নিজেকে রানা বিল্ডার্স অ্যান্ড সালেহ আহম্মেদের ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে উপস্থাপন করেন এবং সে অনুযায়ী স্বাক্ষর প্রদান করে ইউসিবিএল কুমিল্লা শাখার সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় ২৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করেন। আসামি মো. জাকির হোসেন রানা বিল্ডার্স অ্যান্ড সালেহ আহম্মেদ নামে হিসাব নম্বর খুলেন এবং মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজ নামে লোন হিসাব নম্বর খুলে ঋণ গ্রহণ করে তা উত্তোলন করেন। তার এই কাজে ব্যাংক কর্মকর্তারা সহযোগিতা করেন।












