চট্টগ্রামসহ সাত বিভাগীয় শহরে অত্যাধুনিক মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প শুরু

মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস আজ

আজাদী ডেস্ক | শুক্রবার , ২৬ জুন, ২০২৬ at ৫:১৪ পূর্বাহ্ণ

মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস পালিত হবে আজ। এ উপলক্ষ্যে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানায়, বর্তমানে দেশে মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য ৪টি সরকারি এবং ৩৮৬টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব কেন্দ্রে ডিটক্সিফিকেশন, চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাসেবা, মনোসামাজিক কাউন্সিলিং, গ্রুপ ও ফ্যামিলি থেরাপি, পুনর্বাসন এবং পুনরায় সমাজে সম্পৃক্তকরণসহ সমন্বিত চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের সুস্থ, স্বাভাবিক ও কর্মক্ষম জীবনে ফিরিয়ে আনাই এসব কেন্দ্রের মূল লক্ষ্য। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, দেশে বর্তমানে প্রায় ৮২ লাখ মানুষ (মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪.৮৮ শতাংশ) মাদকাসক্ত। মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে সরকারের নানামুখী পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঢাকার তেজগাঁওয়ের নিরাময়কেন্দ্রসহ তিনটি বিভাগীয় শহরের কেন্দ্রের শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকাস্থ কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণের কাজ চলমান রয়েছে। একই সাথে দেশের ৭টি বিভাগীয় শহরে (চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ) ১ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০ শয্যা বিশিষ্ট অত্যাধুনিক মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণের প্রকল্প শুরু হয়েছে।

ডিএনসি জানায়, নিরাপদ ও সুস্থ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সরকারের নীতিগত নির্দেশনা অনুযায়ী তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন২০১৮ অনুযায়ী মাদক অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। মাদকের ধরন ও পরিমাণভেদে কারাদণ্ড, অর্থদণ্ডসহ বিভিন্ন শাস্তির বিধান রয়েছে। মাদক কারবারি ও সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের এবং বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। মাদক অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে।

ডিএনসি জানায়, মাদকের বিরুদ্ধে সারাবছরই নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। এর পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ ও লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান চলছে। মাদক উৎপাদন, পরিবহন, মজুদ, বিপণন ও সেবনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে অধিদপ্তর বদ্ধপরিকর। অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশব্যাপী মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। মাদক নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনএই তিনটি ক্ষেত্রকে সমান গুরুত্ব দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা রয়েছে। সরকারের নীতিগত অঙ্গীকার বাস্তবায়নে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন২০১৮কে সংশোধনপূর্বক যুগোপোযোগী করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

বর্তমান সরকার মাদক, সন্ত্রাস ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করেছে। এছাড়াও পথশিশুসহ যারা মাদকাসক্ত হয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে তাদেরকে সরকারি ও বেসরকারি নিরাময় কেন্দ্রের মাধ্যমে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধজোড়া ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ, নিহত ১৬৪
পরবর্তী নিবন্ধএমবাপ্পে নাকি হালান্ড?