ঘরের অর্ধেক কর্ণফুলীতে, বাকি অংশে ফাটল

রাঙ্গুনিয়ার ফকিরখীলে ভাঙনের মুখে শতাধিক পরিবার

জগলুল হুদা, রাঙ্গুনিয়া | শুক্রবার , ১৪ আগস্ট, ২০২৬ at ৫:২১ পূর্বাহ্ণ

ঘরের অর্ধেক গিলে খেয়েছে কর্ণফুলী। বাকি অর্ধেক নদীর কূলে কোনোভাবে টিকে থাকলেও শয়নকক্ষের মেঝেতে ধরেছে চওড়া ফাটল। ঝুঁকিপূর্ণ সেই মেঝের উপর এক চিলতে বিছানা পেতে বৃদ্ধা মা ও পরিবার নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন দিনমজুর আব্দুল্লাহ।

নদীতে ভিটেমাটি হারানোর এই লড়াই এখন শুধু আব্দুল্লাহর একার নয়, রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের ফকিরখীল গ্রামের নদীপাড়ের শতাধিক পরিবারেরও। কর্ণফুলীর তীব্র ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ফকিরখীল গ্রামের সিঁড়িঘাট এলাকা থেকে ইস্টার্ন কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ পর্যন্ত প্রায় ৩০০ মিটার এলাকার বাসিন্দারা।

নদীর পাড়ে গিয়ে দেখা যায়, দিনমজুরি ও নদীতে মাছ শিকার করে সংসার চালানো আব্দুল্লাহর মাথা গোঁজার শেষ সম্বলটুকুও এখন বিলীনের পথে। নিজের অসহায়ত্বের কথা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘ঝুঁকি আছে জেনেও বাধ্য হয়েই এখানে থাকতে হচ্ছে। কারণ, আমাদের অন্য কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। সহায়সম্বল বলতে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। এখন যদি ঘরের এই শেষ অংশটুকুও নদীগর্ভে চলে যায়, তবে পরিবার নিয়ে কোথায় গিয়ে দাঁড়াব, তা ভেবে কূল পাচ্ছি না।’

বিগত কয়েক বছরে এই এলাকার বেশ কিছু পরিবার নদীভাঙনে সহায়সম্পদ হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। বর্তমানে আরও শতাধিক পরিবার বসতবাড়ি হারানোর চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। এদিকে, এলাকাটির দুরবস্থার খবর পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যান উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ভিপি আনছুর উদ্দিন। তিনি নদীপাড়ের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন, সান্ত্বনা দেন এবং বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে সাময়িকভাবে আশপাশের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্যের কাছে এলাকার দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরে দ্রুত ব্লক বা স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তয়ন কুমার ত্রিপুরা বলেন, সরেজমিনে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপটিয়ায় অপহরণের তিন দিন পর যুবক উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২
পরবর্তী নিবন্ধগ্যাস সংকটের অজুহাত, কাপ্তাই সড়কে সিএনজি টেক্সিতে ভাড়া নৈরাজ্য