সিএমপির নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই শিক্ষার্থী ও জুলাইযোদ্ধা পরিচয়ে টাইগারপাসে জুলাই স্মৃতি গ্রাফিতি আঁকতে গেলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি, তিনজনকে আটক ও পরে ছেড়ে দেওয়া, গ্রাফিতি মুছে ফেলা নিয়ে মেয়রের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে এনসিপি’র সংবাদ সংম্মেলন এবং নিজের অবস্থান তুলে ধরে মেয়রের দুই দফা প্রেস বিফ্রিং নিয়ে গতকাল সোমবার দিনভর উত্তেজনা ছিল নগরে। আবার রাতে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন নিজেই বিএনপি নেতাকর্মীসহ জুলাইযোদ্ধাদের নিয়ে গ্রাফিতি অঙ্কন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। একইসঙ্গে এনসিপি ও ইসলামী ছাত্রশিবির নেতাকর্মীরাও বিনা বাধায় বিভিন্ন স্পটে গ্রাফিতি আঁকতে শুরু করে। পুলিশও প্রত্যাহার করে নেয় তাদের পূর্বের নিষেধাজ্ঞা। এর মধ্য দিয়ে গ্রাফিতি মুছে ফেলাকে ঘিরে বিএনপি–এনসিপি’র মধ্যে যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় তার সমাপ্তি ঘটে।
জানা গেছে, জুলাই–আন্দোলনের গ্রাফিতি ‘মুছে ফেলা’কে কেন্দ্র করে সোমবার দিবাগত রাতে টাইগারপাসস্থ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) প্রবেশমুখে মুখোমুখি অবস্থান নেয় এনসিপি এবং বিএনপি ও দলটির অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এর জের ধরে গতকাল সোমবার সিএমপি কমিশনার গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে জিইসি মোড় থেকে দেওয়ানহাট পর্যন্ত প্রধান সড়ক ও আশপাশের এলাকায় জনসমাবেশ ও মিছিল–মিটিং নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, এ দিকে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই দুপুর ১২টার পর টাইগারপাসে জড়ো হন একদল তরুণ–তরুণী। এসময় তারা নিজেদের ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’ ও ‘জুলাইযোদ্ধা’ পরিচয় দেন। তখন পুলিশ তাদের সরে যেতে মাইকিং করে। এসময় তারা না সরে পুলিশকে জানায়, তারা বেশি সংখ্যায় এক জায়গায় জড়ো হবে না। তিনজন করে গিয়ে গ্রাফিতি আঁকবে। এরপর তারা শহীদ ওয়াসিম আকরাম এক্সপ্রেসওয়ের পিলারে গ্রাফিতি আঁকার চেষ্টা করলে বাধা দেয় পুলিশ। এসময় উভয়ের মধ্যে রংয়ের কৌটা নিয়ে ধস্তাধস্তি হয়। এতে পুলিশ সদস্য ও গ্রাফিতি আঁকতে যাওয়া তরুণ–তরুণীদের গায়ে রং ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশি বাধার পর গ্রাফিতি আঁকতে আসা এক তরুণী উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, তিনি চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা, পুলিশ তাকে ধাক্কা মেরেছে। আরেকজন দাবি করেন, পুলিশ তাকে টানতে টানতে নিয়ে গেছেন, এতে তিনি আহত হয়েছেন। এসময় পুলিশ কয়েকজনকে আটক করে ভ্যানে নিয়ে রাখে। এর প্রতিবাদ জানাতে থাকে গ্রাফিতি আঁকতে আসা তরুণ–তরুণীরা। পরে পুলিশ যাদের আাটক করে তাদের ছেড়ে দেয়। এরপর তারা সেখান থেকে চলে গিয়ে সিএমপি কমিশনারের সাথে দেখা করতে যাান।
এ সময় ঘটনাস্থলে থাকা সিএমপি’র উপ–কমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম বলেন, টাইগার পাস এলাকায় মেট্রোপলিটন অধ্যাদেশের ৩০ ধারা জারি আছে। তা অমান্য করে সাধারণ শিক্ষার্থী পরিচয়ে ৫০–৬০ জন জড়ো হয়েছিল। তাদের সরে যেতে বললেও সরেনি। সরিয়ে দিতে গেলে তারা পুলিশের গায়ে রঙ মারে।
এদিকে বিকেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি চট্টগ্রাসম মহানগরের সদস্য সচিব আরিফ মঊনুদ্দিন বলেন, আমাদের বাধা দেওয়ার পর আমরা বলেছি জনগণ নেমে যান, তখন কিছু শিক্ষার্থী নিজেদের সচেতন জায়গা থেকে স্বতস্ফূর্তভাবে এখানে এসেছিল। সেখানে আমাদের মাত্র একজন সমর্থক ছিল। অন্যরা আমাদের পার্টির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত না। সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ করার জন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছিল। গ্রাফিতি আঁকার জন্য করেনি। কিন্তু সেটাতে কেনো বাধা দেবে?
এদিকে সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে সিএমপি তাদের পূর্বের দেয়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়। এরপর টাইগারপাস এলাকায় মেয়র নিজই গ্রাফিতি আঁকেন। চসিকের জনসংযোগ বিভাগ জানায়, সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ গ্রাফিতি অংকন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মেয়র। এসময় শিক্ষার্থী, তরুণ শিল্পী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে এনসিপি, ছাত্রশিবির গ্রাফিতি আঁকা শুরু করে। এতে যোগ দেন নগর জামায়াতের নেতৃবৃন্দও।












