গ্যাস সংকটের অজুহাত, কাপ্তাই সড়কে সিএনজি টেক্সিতে ভাড়া নৈরাজ্য

লোকাল বাস সার্ভিস চালুর দাবি

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি | শুক্রবার , ১৪ আগস্ট, ২০২৬ at ৫:২২ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রামের ব্যস্ততম কাপ্তাই সড়কে গ্যাস সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া নিয়ে চলছে চরম নৈরাজ্য। এই রুটে লোকাল বাস সার্ভিস বন্ধ থাকায় চালক সিন্ডিকেটের খামখেয়ালিপনায় জিম্মি হয়ে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে রাঙ্গুনিয়ার চন্দ্রঘোনা লিচুবাগান পর্যন্ত প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করলেও নিয়ম না মেনে ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন যাত্রীরা।

অন্যদিকে সড়কের গোডাউনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে গাড়ি দাঁড়ালেই নিয়মবহির্ভূতভাবে টোকেন ধরিয়ে দিয়ে জোরপূর্বক টাকা আদায় করা হচ্ছে চালকদের কাছ থেকে, যার পরোক্ষ প্রভাব পড়ছে যাত্রীদের ওপর। অন্যদিকে, দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়েও ঘণ্টার পর ঘণ্টা গ্যাস না পাওয়ার সেই ক্ষোভ যাত্রীদের ওপর ঝাড়ছেন চালকরা।

প্রতিদিনের এই যাতায়াতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নারী ও শিশুরা। সকালে ছোট বাচ্চা এবং স্কুলকলেজের ব্যাগ কাঁধে নিয়ে বাবামায়েরা যখন স্টেশনে আসেন, তখন দীর্ঘক্ষণ গাড়ির জন্য অপেক্ষা, আবার সিএনজিচালকদের মুখের ওপর বাড়তি ভাড়া দাবি করায় শুরু হয় চরম বিপত্তি। চাকরিজীবী ও পেশাজীবী যাত্রীদের কাছ থেকেও গন্তব্যের সুযোগ বুঝে আদায় করা হচ্ছে দ্বিগুণতিনগুণ ভাড়া।

শিশু সন্তানকে নিয়ে নিয়মিত ভবানিমিল থেকে চুয়েটে যাতায়াতকারী নিলু আক্তার নামে এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সকালে বাচ্চাকে নিয়ে স্কুলে যাওয়ার সময় সিএনজি পেলে তো স্বস্তি, কিন্তু ভাড়া শুনলে মাথা ঘুরে যায়। গত কয়েকদিন ধরে এই পথে নির্ধারিত ২০ টাকার ভাড়া ৪০৫০ টাকা চায়।’

আরেক পেশাজীবী যাত্রী শিক্ষক এস এম পেয়ারুল হক জানান, ‘গোডাউন বা অন্য স্টেশনে গাড়ি দাঁড়ালেই টোকেনের নামে চাঁদা নেওয়া হয়। আর চালকরা গ্যাস না পাওয়ার অজুহাত দিয়ে আমাদের ওপর ভাড়া বাড়িয়ে প্রতিশোধ নেন। লোকাল বাস বন্ধ থাকায় আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি।’

অন্যদিকে সিএনজি চালকদের দাবি, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও গ্যাস না পাওয়া এবং স্টেশনে টোকেন ফি ও যন্ত্রাংশের বাড়তি খরচের কারণে তাদের গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় কোনোভাবেই সমাধান হতে পারে না।

রেজাউল করিম নামে এক চালক জানান, বাড়তি ভাড়া চাওয়ার অবশ্যই যৌক্তিকতা আছে। ৫৬ ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়েও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। ভাগ্য ভালো হলে পাওয়া যায়, না পেলে গাড়ি নিয়ে সেখানেই থেকে যেতে হচ্ছে। ঘুমানো, খাওয়া সব বাদ। এসব সংগ্রাম করে কোনোরকমে সড়কে নামলেও স্টেশনে স্টেশনে টোকেন। তার উপর সবকিছুর দাম বাড়তি। এতোসব করার পরও আমরা ৫১০ টাকা বাড়তি ভাড়া চায়। তবে একেবারে দ্বিগুণতিনগুণ ভাড়া আদায় করা অন্যায় বলে স্বীকার করেন তিনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিনে রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন স্টেশনে দেখা যায়, যাত্রীদের উপচে পড়া ভীড়। একটা সিএনজি অটোরিকশা আসলে সেটার উপর যাত্রীদের উঠার প্রতিযোগিতা। এই সুযোগে বাড়তি ভাড়াও চাচ্ছেন চালকরা। যাত্রীরা বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া মেনে নিয়ে গাড়িতে উঠছেন।

এদিকে এর সমাধানে লোকাল বাস সার্ভিস পুনরায় চালুর দাবি জানিয়ে চুয়েট স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক শহীদুল্লাহ কায়ছার বলেন, ‘গ্যাস সংকটের অজুহাতে কাপ্তাই সড়কে সিএনজি অটোরিকশার লাগামহীন ভাড়া বৃদ্ধিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী। চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের এই দুর্ভোগ লাঘবে লিচুবাগান থেকে বহদ্দারহাট রুটে অবিলম্বে পর্যাপ্ত নিয়মিত লোকাল বাস সার্ভিস চালুর জোর দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করছি।’

এই বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান বলেন, ‘সিএনজি ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের ভোগান্তির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। চালকেরা নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া নিতে পারবেন না। যাত্রী ও চালকদের সঙ্গে আলোচনা করে বাস্তবসম্মত ভাড়া নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। গ্যাস ও যন্ত্রাংশের দাম বাড়ার বিষয়টিও আলোচনায় বিবেচনা করা হবে। কেউ ইচ্ছামতো ভাড়া নির্ধারণ করতে পারবেন না। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পূর্ববর্তী নিবন্ধঘরের অর্ধেক কর্ণফুলীতে, বাকি অংশে ফাটল
পরবর্তী নিবন্ধদেশে গণিত অলিম্পিয়াডের কার্যক্রম বিস্তৃত করতে সব ধরনের সহযোগিতা করবে সরকার