মাঝবয়সী একটি পুরুষ হাতি রাবার বাগানের ছড়ার গভীর খাদে পড়ে যায়। যে স্থানে হাতিটি কাঁত হয়ে পড়েছিল সেখান থেকে উঠে দাঁড়ানোর মতো পরিস্থিতি ছিল না। চারিদিকে শক্ত মাটির ভিত থাকায় স্বাভাবিকভাবে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতে থাকায় আরও বেকায়দায় পড়ে যায় হাতিটি। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পায়। সেই বিষয়টি দেখতে পায় স্থানীয় লোকজন। তারা দীর্ঘসময় চেষ্টা করেও কিছুই করতে পারছিল না। পরে লামা বনবিভাগকে খবর দেয়া হলে বনকর্মী এবং স্থানীয় লোকজনের চার ঘণ্টার যৌথ চেষ্টায় হাতিটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। হাতিটি কৃতজ্ঞতাস্বরূপ উদ্ধারকারী দলকে শুঁড় উঁচিয়ে সালাম দিতে দিতে বনের মধ্যে ফিরে যায়।
লামা বনবিভাগ জানায়, গত শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে দলছুট মাঝবয়সী পুরুষ হাতিটি বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের একটি রাবার বাগানের ঝিরি বা ছড়াখালের গভীর খাদে পড়ে যায় পাহাড়ের ওপর থেকে। এরপর হাতিটি কাঁত হওয়া অবস্থায় সেখানে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। কিন্তু কোনোভাবেই উঠে দাঁড়ানোর মতো পরিস্থিতি ছিল না। এরপর স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে বনবিভাগের সরই ক্যাম্প ইনচার্জ মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে বনবিভাগের একদল কর্মী স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় হাতিটিকে উদ্ধারে শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান শুরু করে। এরপর চার ঘণ্টার আপ্রাণ চেষ্টার পর হাতিটিকে জীবিত এবং অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

এ ব্যাপারে লামা বনবিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন সরই ক্যাম্প ইনচার্জ মিজানুর রহমান দৈনিক আজাদীকে জানান, মাঝবয়সী পুরুষ হাতিটি পাহাড়ের ওপর থেকে গভীর খাদে গড়িয়ে পড়ে অল্প জায়গার মধ্যে কাঁত হওয়া অবস্থায় ছিল। এরপর থেকে হাতিটি স্বাভাবিকভাবে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও আশপাশে শক্ত মাটির আবরণ থাকায় কোনোভাবেই উঠে দাঁড়াতে পারছিল না। এতে হাতিটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফুলা জখম হয়। খবর পেয়ে হাতিটিকে জীবিত এবং অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ শেষে শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান শুরু হয়। এ সময় বনকর্মীরা হাতিটির চারিদিকের শক্ত মাটি অপসারণের পর এমনভাবে রাস্তা তৈরি করা হয় যাতে হাতিটি স্বাভাবিকভাবে দাঁড়িয়ে নিজেই পাহাড় বেয়ে উপরে উঠতে সক্ষম হয়। অবশেষে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ দেখা দেয় চার ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান শেষে।
মিজানুর রহমান বলেন, হাতিটি গভীর খাদ তথা মৃত্যুফাঁদ থেকে স্বাভাবিকভাবে পায়ে হেঁটে উপরে উঠতে সক্ষম হয় এবং তাকে যখন আমরা বনের মধ্যে ফিরিয়ে দিচ্ছিলাম তখন সেটি তার শুঁড় তুলে আমাদের বারংবার সালাম জানাতে জানাতে বনের মধ্যে ফিরছিল। কৃতজ্ঞতাস্বরূপ হাতিটির সেই বিরল দৃশ্য দেখে আমরা সবাই বেশ আনন্দ পাই। এর চেয়ে আর বেশি কিছুই পাওনা নেই হাতিটির কাছে।









