ক্রিসেন্ট-বাকলিয়া ম্যাচে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা

সিসিএস ট্যালেন্ট কাপ ক্রিকেট । টিম আইএসসিএলের তৃতীয় জয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক | শনিবার , ৪ এপ্রিল, ২০২৬ at ৬:০১ পূর্বাহ্ণ

সিসিএস ট্যালেন্ট কাপ টিটোয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্টে গতকাল শুক্রবার ৫ম রাউন্ডের ‘সি’ গ্রুপের দ্বিতীয় খেলায় অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে। টসে জিতে ক্রিসেন্ট ক্লাব প্রথমে ব্যাট করে। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৬৯ রান তোলে তারা। দলের হয়ে ওপেনার নীলাচল সেঞ্চুরী হাঁকান। ৬৭ বল খেলে ১৪টি চার এবং ৫টি ছক্কার সাহায্যে তিনি ১০৭ রানের ইনিংস খেলেন। বাকলিয়া একাদশের সামি ৩টি উইকেট লাভ করেন। জবাব দিতে নেমে বাকলিয়া একাদশের ইনিংসে ঘটনার সূত্রপাত হয়। অবশ্য এর আগেই তাদের খেলোয়াড় ইভান রহমানকে নিয়ে আপত্তি উঠে। জানা গেছে,চট্টগ্রাম জেলা দলের হয়ে খেলার সময় কোচের সাথে শৃঙ্খলাভঙ্গ জনিত কারণে তার রেজিস্ট্রেশন স্থগিত রাখে আয়োজকরা। এ বিষয়ে সদ্য সাবেক এডহক কমিটি বৈঠক করলেও সিদ্ধান্ত না হওয়া ও সিসিএস’র বৈঠকেও ইভানের শৃঙ্খলা বিষয়ে নিষ্পত্তি না হওয়ায় তিনি অনিবন্ধিতই থেকে যান। পুরো বিষয় জানতে পেরে গতকালের প্রতিপক্ষ ক্রিসেন্ট ক্লাব প্রতিবাদ জানায় এবং কমিটির হস্তক্ষেপে দ্বিতীয় ওভারের ৫ম বলে ব্যাটিংরত অবস্থায় ইভানকে তুলে নেয়া হয়। এর পর বাকলিয়ার পরের ব্যাটাররা সকলেই হিট উইকেট হয়ে একে একে ফিরে যান।

.৫ ওভারে বাকলিয়া একাদশ মাত্র ২৩ রানে অলআউট হয়। সুবাদে ক্রিসেন্ট ক্লাব জয় পায় ১৪৬ রানে। ম্যাচ সেরা হন সেঞ্চুরিয়ান নীলাচল।

টুর্নামেন্টের তিন সদস্যের শৃঙ্খলা কমিটির একজন আলী হাসান রাজু বলেন, এটা প্রমাণিত যে কোচ আমিনুল হক অনিবন্ধিত ক্রিকেটার মাঠে নামিয়েছেন। এ ব্যাপারে ক্রিকেটার ইভান রহমান ও বাকলিয়া একাদশের কোচের বিরুদ্ধে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বাকলিয়া একাদশের কোচ আমিনুল হক বলেন জেলা দলে সামান্য ঘটনা নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে সাসপেনশনের কোন চিঠি নাই। পরে এনিয়ে আমরা মীমাংসার কথাও বলেছি। তিনি দাবি করেন সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারের নিবন্ধন হয়েছে। যা আম্পায়ার এবং সংশ্লিষ্টরা চেক করেছেন। এরফলেই সে খেলতে নেমেছে। পরে ক্লাব মালিকের নির্দেশে ইভানকে খেলা থেকে তুলে নেয়া হয়। এরপর যা হয়েছে তাকে কোচ আমিনুল হক বললেন এটা আমাদের প্রতিবাদের ভাষা।

এর আগে টিম আইএসসিএল এবং ক্রিসেন্ট ক্লাব তৃতীয় জয় পেয়েছে। টিম আইএসসিএল ৪২ রানে শহীদ শাহজাহান সংঘ জুনিয়রকে পরাজিত করে। শাহজাহান সংঘ চার খেলার তিনটিতে পরাজিত হয়েছে এবং ১টি খেলায় জয় পেয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দিনের প্রথম খেলায় টসে হেরে আইএসসিএল প্রথমে ব্যাট করতে নামে। নির্ধারিত ২০ ওভার খেলে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৪৮ রান সংগ্রহ করে তারা। দলের পক্ষে সাদমান হোসেন ৩৪,মুশফিকুল আলম ২৫, মারওয়ান চৌধুরী ১৬, ইশতিয়াক হোসেন ১৫ এবং সালমান বিন আজিজ ১০ রান করেন। খুরশিদ আলম ১৩ রানে অপরাজিত থাকেন। অতিরিক্ত রান হয় ২২। শহাজাহান সংঘ জুনিয়রের পক্ষে সাকিব ২টি উইকেট পান। ১টি করে উইকেট নেন সিফাত এবং মাহতাব।

জবাব দিতে নেমে শহীদ শাহজাহান সংঘ জুনিয়র ১৯ ওভারে ১০৬ রানে সব উইকেট হারায়। দলের পক্ষে বক্কর ৩৪,তামিম ১৮ এবং বিশপ ১০ রান করেন। অতিরিক্ত থেকে আসে ১৭ রান। আইএসসিএল এর পক্ষে মারওয়ান চৌধুরী ৩টি উইকেট পান। ২টি করে উইকেট নেন তামিম বিন হায়াত এবং মনজুরুল আলম। ১টি উইকেট পান সাইদ মো. জুনাইদ। প্লেয়ার অব দি ম্যাচ নির্বাচিত হন বিজয়ী দলের মারওয়ান চৌধুরী। তার হাতে পুরস্কার তুলে দেন সিজেকেএস কাউন্সিলর আবু জাহেদ এবং সাবেক ক্রিকেটার নাজমুল ওয়াহাব চৌধুরী।

পূর্ববর্তী নিবন্ধআজ চীনের মুখোমুখি বাংলাদেশ
পরবর্তী নিবন্ধফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিটের দাম সাড়ে ১৩ লাখ টাকা