ক্রাসিং মিলে ভিড় কমছে,প্যাকেটজাতে বাড়ছে চাহিদা

মরিচ-হলুদ

জাহেদুল কবির | সোমবার , ২৫ মে, ২০২৬ at ৯:০৮ পূর্বাহ্ণ

কুমিল্লার বাসিন্দা মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম ১৯৭২ সালে নগরীর মির্জারপুল এলাকায় গড়ে তোলেন চালডাল ও হলুদমরিচসহ বিভিন্ন পণ্যের ক্রাসিং (ভাঙানো) মিল। একসময় তার মিলে কোরবানির ঈদের আগে আশপাশসহ দূর দূরান্ত থেকে বাসিন্দারা মরিচ, হলুদ, ধনিয়া, জিরা ভাঙাতে আসতেন। মানুষের ব্যস্ততা ও প্যাকেটজাত পণ্যের সরবরাহ বাড়ার কারণে এসব পণ্য ক্রাসিং করতে লোকজন আসার পরিমাণ আগের চেয়ে কমেছে। বেশির ভাগই রেডিমেড বা প্যাকেটজাত পণ্যের দিকে ঝুঁকছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগরীতে ঠিক কত পরিমাণ মরিচমসলার ক্রাসিং মিল রয়েছে তার সঠিক হিসাব না থাকলেও এসব মিলের ভোক্তাদের যাতায়াত আগের তুলনায় কমেছে। এর সবচেয়ে বড় কারণ হলো গোটা পণ্য শুকিয়ে মিলে গিয়ে ক্রাসিং করাকে অনেকে ঝামেলা মনে করেন। মির্জাপুর এলাকার মফিজ সওদাগরের ক্রাসিং মিলের স্বত্বাধিকারী মফিজুল ইসলামের ছেলে জাহিদুল ইসলাম তানজির বলেন, আমাদের মিল গত ৫৪ বছর ধরে এই এক জায়গায় পরিচালিত হয়ে আসছে। দীর্ঘ সময় একই জায়গায় থাকার কারণে আশপাশের মানুষের আস্থাও অর্জন করেছি। তবে এটা ঠিক, মানুষ এখন আর আগের মতো মরিচমসলা ক্রাসিং করতে করতে আসেন না। তারা রেডিমেড পণ্যের দিকে ঝুঁকছেন। মানুষের চাহিদার কথা বিবেচনা করে আমরাও নিজেরা এখন পণ্য ক্রাসিং করে বিক্রি করছি। ক্রেতাদের সাড়াও পাচ্ছি। তবে এখন বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে আমাদের কাজেও বিঘ্ন ঘটছে। তারপরও এখন সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত আমাদের মিল চলছে। বর্তমানে আমরা মরিচ, হলুদ, ধনিয়া, জিরার ক্রাসিং (ভাঙানো) করতে প্রতি কেজিতে ৪০ টাকা এবং চালের ক্ষেত্রে কেজিতে ১৫ টাকা নিচ্ছি।

মফিজ সওদাগরের ক্রাসিং মিলে কথা হয় মুরাদপুরের বাসিন্দা আবদুর রহমানের সাথে। তিনি বলেন, মরিচমসলা, হলুদধনিয়া এসব নিজে কিনে রোদে শুকিয়ে ভাঙানোতে একটা মানসিক শান্তি আছে। যেটা প্যাকেটজাত বা খোলা মসলায় পাওয়া যায় না। তাই কোরবানির জন্য একটু কষ্ট হলেও নিজেই এসব পণ্য রেডি করে ক্রাসিং করতে এসেছি।

মির্জারপুল এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ নূর জানান, আমি একটি বেসরকারি চাকরি করি। আমার স্ত্রীও চাকরিজীবী। মরিচহলুদ কিনে শুকিয়ে ভাঙানোর সময় নেই। তাই গত বেশ কয়েক বছর যাবত রেডিমেড মরিচ মসলা কিনছি।

অপরদিকে নগরীর তুলনায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দারা এখনো মরিচহলুদধনিয়া শুকিয়ে ক্রাসিং করতে অভ্যস্ত। কোরবানি ঈদের দুই সপ্তাহ আগে থেকে শুরু হয় কর্মযজ্ঞ। তাই এখন গ্রামের বিভিন্ন হাটবাজারের মিলগুলোতে ব্যস্ততার যেন শেষ নেই।

হাটহাজারীর পশ্চিম ধলই সফিনগর এলাকার বাসিন্দা রাশেদুল আলম বলেন, প্যাকেটজাত মসলায় রান্নার প্রকৃত স্বাদ পাওয়া যায় না। বিশেষ করে তারা উত্তরাঞ্চলের মরিচ ক্রাসিং করে প্যাকেটজাত করে। এসব মরিচের ঝাল বেশি হয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবোয়ালখালীতে চোর সন্দেহে পিটুনিতে যুবকের মৃত্যু, আটক ৩
পরবর্তী নিবন্ধআজ থেকে ভাড়ার ২৫% ছাড় পাচ্ছেন প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীরা