কোমর ব্যথার রোগীদের সচেতনতা জরুরি

মোঃ আসাদুজ্জামান মিলন | শনিবার , ২৯ নভেম্বর, ২০২৫ at ৬:৩৪ পূর্বাহ্ণ

বর্তমানে আমাদের দেশে চখওউ একটি খুব পরিচিত সমস্যা। অনেকেই প্রথম দিকে ব্যথাকে সাধারণ কোমরব্যথা ভেবে অবহেলা করেন। কিন্তু সময়মতো সচেতন না হলে এই ব্যথা বাড়তে বাড়তে স্নায়ুর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং চলাফেরায় সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই চিকিৎসার পাশাপাশি রোগ সম্পর্কে সচেতন হওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

কোমর ব্যথা রোগের সমস্যাটা কি শুধু ডিস্ক, নাকি মাংসপেশিও?

মেরুদণ্ডের নিচের ডিস্ক সরে গেলে স্নায়ুর ওপর চাপ পড়ে। এই অবস্থাকেই কোমর ব্যথা বলা হয়। আমাদের দেশে এটি কোমর ব্যথার একটি বড় কারণ। কোমর ব্যথা সমস্যা শুধুই ডিস্কের নয়, কোমরের মাংসপেশীও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যেমন, রোগীর মাল্টিফিডাস পেশি ১ মাসের মধ্যে শুকিয়ে যেতে পারে। এটি মেরুদণ্ডের পেছনের দিকে, হাড়ের পাশে ছোট অংশে থাকে এবং মেরুদণ্ডকে স্থিতিশীল রাখে। কোয়াড্রেটাস লাম্বোরাম দুর্বল হয়ে যায়, যা কোমর হাড় থেকে মেরুদণ্ডের নিচ পর্যন্ত লম্বভাবে থাকে। এছাড়া সোয়াস মেজর শক্ত হয়ে ভঙ্গি পরিবর্তন করে, যেমন ফ্ল্যাট ব্যাক বা একপাশে বাকা হয়ে যাওয়া।

মাত্র কিছুক্ষণ হাঁটলেই কোমরুপায়ের ব্যথা বাড়ে, এর কারণ কী?

মাংসপেশির এই পরিবর্তন ঠিক না হলে, ডিস্কের চিকিৎসা সত্ত্বেও রোগী পুরোপুরি সুস্থ হয় না। অনেক ক্ষেত্রে নতুন লেভেলে ডিস্ক প্রোলাপ্সও ঘটতে পারে। হাঁটাচলায় বা সিঁড়ি ওঠানামায় সমস্যা স্পষ্ট হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, হাঁটার সময় ইরেক্টর স্পাইন, মাল্টিফিডাস ও কোয়াড্রেটাস লাম্বোরাম মাংসপেশী স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি কাজ করে। শুরুতে এটি সহায়ক হলেও, কিছুদিন পর পেশি ক্লান্ত হয়ে ব্যথা বাড়ায়।

কোমর ব্যথা রোগীর ট্রাকশন ও ইলেক্ট্রোথেরাপি কেন যথেষ্ট নয়?

কোমর ব্যথা রোগীদের শুধু ট্রাকশন ও ইলেক্ট্রোথেরাপি যথেষ্ট নয়। সুস্থ হতে হলে প্রয়োজন ম্যানুয়াল থেরাপি, যা ক্ষতিগ্রস্ত মাংসপেশীকে পুনরায় শক্তিশালী করে।

কোমর ব্যথা রোগীর সার্জারি কখন প্রয়োজন?

সার্জারি সবসময় প্রয়োজন হয় না। শুধু ব্যথা থাকার কারণে সার্জারি নেওয়া সঠিক নাও হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, কোমর ব্যথা অপারেশন করা রোগীদের ৬৭% এরই ব্যথা থেকে গেছে। তবে ২৩% রোগী সার্জারির পর পুরোপুরি সুস্থ হয়েছেন। সার্জারি তখনই দরকার যখন ফিজিওথেরাপি, এক্সারসাইজ ও ঔষধ নেওয়ার পরও পায়ে দুর্বলতা, অবশতা বা প্রস্রাবনিয়ন্ত্রণে সমস্যা থাকে।

পরামর্শ : কোমর ব্যথাএর চিকিৎসায় ভালো ফিজিশিয়ানের পরামর্শে ঔষধ গ্রহণ করুন এবং অভিজ্ঞ ফিজিওথেরাপিস্টের কাছ থেকে ম্যানুয়াল থেরাপি ও এক্সারসাইজ করুন।

লেখক: ফিজিওথেরাপিস্ট,

চট্টগ্রাম বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতাল।

পূর্ববর্তী নিবন্ধএবার বিশ্বমানের জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ কমপ্লেক্সের কাজ শুরু করুন
পরবর্তী নিবন্ধরশীদ করীম : এক বিস্মৃতপ্রায় লেখক