কেইপ ভার্দের বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ের প্রশংসা মেসির

স্পোর্টস ডেস্ক | রবিবার , ৫ জুলাই, ২০২৬ at ১০:৪৯ পূর্বাহ্ণ

কেইপ ভার্দের লড়াকু মানসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করার পাশাপাশি নিজেদের মাঠের কঠিন বাস্তবতার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন মেসি। ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমে মেসি বলেন, ‘আমরা জানতাম ম্যাচটা অনেক কঠিন হতে যাচ্ছে। এই দলটি (কেইপ ভার্দে) গ্রুপ পর্বে স্পেন ও উরুগুয়ের মতো দলের বিপক্ষে অপরাজিত ছিল। আমরা ম্যাচের সবচেয়ে কঠিন কাজটা প্রথমে করতে পেরেছিলাম প্রথম গোলটি করা। ভেবেছিলাম এরপর আমরা আমাদের চেনা ছন্দ খুঁজে পাব এবং কিছুটা স্বস্তিতে খেলব; কিন্তু হয়েছে ঠিক তার উল্টো। কেপ ভার্দে মাঠে নিজেদের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছিল।’ বিশ্বকাপের মঞ্চে কোনো দলই যে ছোট নয় এবং নকআউট পর্বের কোনো ম্যাচই সহজ নয় ফুটবলের এই চিরন্তন সত্যটিই যেন আজ হারে হারে টের পেল তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। নকআউট পর্বের তীব্র প্রতিযোগিতা নিয়ে মেসি আরও যোগ করেন, ‘নকআউটের লড়াইয়ে কেউ কাউকে কোনো সুযোগ উপহার দেয় না। আমরা সবসময় সব প্রতিপক্ষকে সম্মান করি। এখন বিশ্বফুটবলে দলগুলোর মধ্যে শক্তির ভারসাম্য অনেক বেশি, তাই প্রতিটি ম্যাচই কঠিন হবে। এই মুহূর্তে আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিশ্রাম নেওয়া এবং সামনের ম্যাচ নিয়ে ভাবা। এই ম্যাচ থেকে ইতিবাচক দিকগুলো নিতে হবে। আমরা অনেক ভালো কিছু করেছি, তবে কিছু ভুলও শুধরে নিতে হবে।’ নিজেদের মাঠের দুর্বলতা ও ট্যাকটিক্যাল ঘাটতি নিয়ে আর্জেন্টাইন মহাতারকা বলেন, ‘আমরা ঠিকঠাক প্রেসিং (প্রতিপক্ষকে চাপে রাখা) করতে পারছিলাম না। আমাদের রক্ষণভাগ ও মাঝমাঠের লাইনের মধ্যে দূরত্ব অনেক বেশি ছিল, যার কারণে কিছুটা সমন্বয়ের অভাব দেখা দেয়। তাছাড়া ওরা যেভাবে শারীরিক শক্তি দিয়ে খেলছিল, আমরা শুরুতে তার সঙ্গে ঠিকঠাক তাল মেলাতে পারছিলাম না।’ অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো এই ম্যাচটি ছিল পরতে পরতে রোমাঞ্চে ঠাসা। মেসির গোলে আর্জেন্টিনা প্রথমে এগিয়ে গেলেও কেপ ভার্দের দিরয় দুয়ার্তে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান। এরপর লিসান্দ্রো মার্তিনেস আবারও আলবিসেলেস্তেদের লিড এনে দেন। কিন্তু দমে না গিয়ে কেপ ভার্দের কাবরাল এক দৃষ্টিনন্দন গোলে ম্যাচটিকে ২২ সমতায় নামিয়ে আনেন। অবশেষে অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে ডিনে বোর্জেসের একটি আত্মঘাতী গোলে স্বস্তির জয় নিশ্চিত হয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। সেটপিস থেকে পাওয়া গোলের গুরুত্ব উল্লেখ করে মেসি কেপ ভার্দেকে প্রশংসায় ভাসিয়ে বলেন, ‘হ্যাঁ, এই দলটি এমন এক দল যা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করতে জানে। আজ সেটপিস (ফ্রিকিক/কর্নার) থেকে আমরা গুরুত্বপূর্ণ গোল পেয়েছি, যা এর আগে এই টুর্নামেন্টে হয়নি। আমাদের দলে ভালো হেডার আছে এবং আজ আমরা সেটার সঠিক সুবিধা নিতে পেরেছি। টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে সুযোগের সঠিক ব্যবহার ও গোল করাটা সবচেয়ে জরুরি।’

পূর্ববর্তী নিবন্ধচব্বিশের গণঅভ্যুত্থান ক্রীড়া উৎসবে ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন
পরবর্তী নিবন্ধষোলোতম দেশ হিসাবে শেষ ষোলোতে কলম্বিয়া