কাপ্তাইয়ে দিনে আসতে পারেন ১০ হাজার পর্যটক

হোটেল-মোটেলে শতভাগ বুকিং

কাজী মোশাররফ হোসেন, কাপ্তাই | শনিবার , ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ at ৫:৩৪ পূর্বাহ্ণ

দুর্গাপূজার লম্বা ছুটিকে কেন্দ্র করে কাপ্তাইয়ে প্রতিদিন কমপক্ষে ১০ হাজার পর্যটক ভ্রমণে আসবেন বলে আশা করছেন কাপ্তাইয়ে অবস্থিত হোটেল ও মোটেলের পরিচালকরা। আর আগত পর্যটকদের স্বাগত জানানোর জন্য বিভিন্ন হোটেলের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। কাপ্তাই উপজেলার সকল হোটেল, মোটেল ও রেস্ট হাউজ অনেক আগেই বুকিং হয়ে গেছে। এখন নতুন করে কেউ কোনো রুম বা রেস্ট হাউজ বুকিং পাচ্ছেন না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, কাপ্তাই উপজেলার অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র প্যানোরমা জুম রেস্তোঁরা, লেক প্যারাডাইস পিকনিক স্পট, রাইংখ্যং আইল্যান্ড, নিসর্গ রিভ্যার ভ্যালি এন্ড পড হাউজ–সবগুলোই পুজার ছুটি উপলক্ষে বুকিং হয়ে আছে। পড হাউজের ম্যানেজার মাসুদ তালুকদার বলেন, আমাদের ১০টি নন এসি এবং ৮টি এসি রুম গত এক মাস আগেই বুকিং হয়ে গেছে। নুতন করে কেউ রুম বুকিং চাইলে আমরা দিতে পারব না। পূজার বন্ধে প্রতিদিন দুপুরে খাবারের জন্যও তাদের এখানে বুকিং দিয়ে রেখেছেন অনেকে।

রাইংখ্যং আইল্যান্ডের পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর জানান, তাদের ১০টি রুমের সবগুলোই বুকিং হয়ে গেছে। অনেকে তাঁবু টাঙিয়ে থাকার জন্যও তাঁবু বুকিং দিয়ে রেখেছেন। নতুন করে কাউকে রুম বুকিং দেওয়া সম্ভব নয়।

লেক প্যারাডাইস পিকনিক স্পটের ম্যানেজার বলেন, পর্যটকদের কাছে কাপ্তাইয়ের আকর্ষণ অন্যসব জায়গার চেয়ে বেশি। এখানে পাহাড়, লেক, নদী, সমতল, সবুজের সমারোহ এবং জীবজন্তু দেখা পাবার সুযোগ রয়েছে। অনেক সময় রাস্তার পাশে বা পাহাড়ের পাদদেশে বন্য হাতিরও দেখা মেলে। কর্ণফুলী নদী এবং কাপ্তাই লেকে দল বেঁধে বন্য হাতির গোসলের দৃশ্য সবাইকে আকৃষ্ট করে। যে কারণে কাপ্তাইয়ের প্রতি পর্যটকদের বাড়তি আকর্ষণ থাকে।

কাপ্তাই বোট মালিক সমিতির সভাপতি মো. ইদ্রিস জানান, এবারের লম্বা পূজার ছুটিতে বিপুল সংখ্যক পর্যটক কাপ্তাই লেকে নৌভ্রমণ করবেন। নৌভ্রমণের জন্য পর্যটকরা আমাদের কাছ থেকে ইঞ্জিনচালিত বোট ভাড়া করে থাকেন। ছোট বোট এবং বড় বোট দুই ধরনের বোটেরই চাহিদা রয়েছে।

মাইক্রোবাস চালক মো. জসিম জানান, পূজার বন্ধে শুধু যে দূর দূরান্ত থেকে পর্যটকরা কাপ্তাই ভ্রমণে আসবেন তা নয়। কাপ্তাই থেকেও অনেক পর্যটক বিভিন্ন এলাকায় ভ্রমণে যাবেন। এ জন্য অনেকেই আমাদের কাছ থেকে মাইক্রাবাস এবং প্রাইভেট কার আগাম বুকিং দিয়ে রেখেছেন। সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মো. আবদুল জলিল জানান, তাদের অটোরিকশা আগাম বুকিং না নিলেও প্রতিদিন তাদের ভাড়া থাকবে। এই বন্ধে সবাই ভালো ব্যবসা করবেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধককরোচ প্রধান দিপকে ও নেহা বোরা আটক
পরবর্তী নিবন্ধচলছে সোনালি অধ্যায় ফেরানোর প্রক্রিয়া