ড. মইনুল ইসলামের কলাম

২০১৮-১৯ অর্থ-বছরের প্রবৃদ্ধি প্রশংসনীয় : তবে কতগুলো হিসাবে গোঁজামিল

শনিবার , ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৪:১৫ পূর্বাহ্ণ

গত ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপিত ২০১৮-১৯ অর্থ-বছরের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির তথ্য-উপাত্তগুলো বর্তমান সরকারের আমলে বাংলাদেশের অর্থনীতির যে প্রশংসনীয় অগ্রযাত্রার চিত্র তুলে ধরেছে সেজন্যে সরকারের নীতি-প্রণেতাদেরকে অবশ্যই অভিনন্দন জানাতে হবে। ২০১৮-১৯ অর্থ-বছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) চূড়ান্ত হিসাবে ৮.১৫ শতাংশ হয়েছে বলে নির্ণীত হওয়ায় এখন সরকার দাবি করতেই পারে যে এ-বছর এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ। বিবিএস গত পাঁচ অর্থ-বছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধির যে চূড়ান্ত হারগুলো প্রকাশ করেছে সেগুলো হল: ২০১৪-১৫ অর্থ-বছরে ৬.৫৫ শতাংশ, ২০১৫-১৬ অর্থ-বছরে ৭.১১ শতাংশ, ২০১৬-১৭ অর্থ-বছরে ৭.২৮ শতাংশ, ২০১৭-১৮ অর্থ-বছরে ৭.৮৬ শতাংশ এবং সর্বশেষ ২০১৮-১৯ অর্থ-বছরে ৮.১৫ শতাংশ। এর মানে, জিডিপি প্রবৃদ্ধির হারও পাঁচ বছর ধরে প্রশংসনীয়ভাবে তরান্বিত (ধপপবষবৎধঃবফ) হয়ে চলেছে, তাই এই ধারাবাহিকতাকে ফাঁকিবাজি বলা অযৌক্তিক হবে। অবশ্য, বিশ্ব ব্যাংক বাংলাদেশের এহেন সফলতার দাবি স্বীকার করবে না–তা-ও হয়তো আগেভাগেই বলে দেওয়া যায়। কারণ, জিডিপি’র প্রবৃদ্ধির হার বাংলাদেশ সরকার প্রতিবছর বাড়িয়ে বলছে–বিশ্বব্যাংক এই অভিযোগ থেকে সরে আসেনি। ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন সরকারের সাথে বিশ্ব ব্যাংকের মন-কষাকষি এবং টানাপড়েন এই প্রবৃদ্ধির হার-সম্পর্কীয় বিতর্কের পেছনে কতটুকু অবদান রাখছে তা উপলব্ধি করা দুরূহ হলেও রাজনৈতিক কারণে প্রবৃদ্ধির হার বাড়িয়ে দেখানো সকল উন্নয়নশীল দেশের সরকারগুলোর স্বাভাবিক প্রবণতা বলা চলে। কিন্তু, বিশ্ব ব্যাংক প্রতি বছর বিবিএস কর্তৃক প্রকাশিত প্রবৃদ্ধির হারের চাইতে অনেক কম প্রবৃদ্ধি দেখালেও বিশ্ব ব্যাংককেও স্বীকার করতে হচ্ছে যে গত পাঁচ বছর ধরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ক্রমবর্ধমান। আরও ইন্টারেস্টিং হলো, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এ-ব্যাপারে বিশ্ব ব্যাংকের তুলনায় অনেক বেশি উদারভাবে বাংলাদেশের সাফল্যকে মেনে নিচ্ছে। অতএব, প্রবৃদ্ধির নাম্বার-গেমে মেতে না উঠেও খুশি হওয়া যায় যে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সুবাতাস বইছে। ্ল্লআমি আজকের কলামে এই জিডিপি প্রবৃদ্ধির পেছনে ক্রিয়াশীল কতগুলো নেতিবাচক বাস্তবতার দিকে পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই, যেগুলো একটি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার সঠিক পরিমাপক হিসেবে জিডিপি’র গ্রহণযোগ্যতাকে তাত্ত্বিকভাবে এখন ব্যাপক প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। জিডিপি’র পাঁচটি কমপোনেন্ট রয়েছে, এটা এখন এই পরিমাপটির সাথে পরিচিত সবারই জানা থাকার কথা: অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে ভোগ+অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে বিনিয়োগ+সরকারি ব্যয়+(মোট রফতানি আয়-মোট আমদানি ব্যয়)। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বেশ কয়েক বছর ধরে ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ-জিডিপি অনুপাত ২৩ শতাংশের আশেপাশে ঘুরপাক খাচ্ছে, এই অনুপাতকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো যাচ্ছে না। বিবিএস-এর তথ্যে সরকারও স্বীকার করছে,২০১৭-১৮ অর্থ-বছরে বিনিয়োগ-জিডিপি অনুপাত ছিল ২৩.২৬ শতাংশ, যা ২০১৮-১৯ অর্থ-বছরে নামকা-ওয়াস্তে বেড়ে ২৩.৫৪ শতাংশে পৌঁছেছে। মানে, বাস্তবে এই অনুপাত স্থবির হয়ে আছে বলা চলে। অথচ, বিবিএস দাবি করছে ২০১৮-১৯ অর্থ-বছরে দেশের মোট বিনিয়োগ-জিডিপি অনুপাত ৩১.৫৭ শতাংশে পৌঁছে গেছে। এর মানে হলো, সরকারি খাতের বিনিয়োগ ২০১৮-১৯ অর্থ-বছরে জিডিপি’র ৮.০৩ শতাংশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। এ-ব্যাপারটা সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করলে জিডিপি’র উচ্চ প্রবৃদ্ধির হারের পেছনে প্রধান ভূমিকায় দেখা যাবে সরকারের বেশ কয়েকটি মেগা-প্রকল্পের জন্যে এ-বছর প্রাপ্ত কয়েক বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণের অর্থ-প্রবাহকে। রূপপুর আণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, পায়রা বিদ্যুৎ প্রকল্প, মহেশখালী বিদ্যুৎ প্রকল্প, রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প–এরকম বৈদেশিক ঋণের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন মেগা-প্রকল্পগুলো রাশিয়া, চীন, জাপান ও ভারতের সাপ্লায়ার্স ক্রেডিটের মাধ্যমে অর্থায়িত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে যে এই প্রকল্পগুলোর কোনটাই খুব ভাল ‘ফিজিবিলিটি স্টাডির’ মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়নি, এগুলো গ্রহণের পেছনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একক সিদ্ধান্তই প্রধান ভূমিকা রেখেছে। অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে রূপপুর আণবিক প্রকল্প বাংলাদেশের মত ঘনবসতিপূর্ণ দেশের জন্যে একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক প্রকল্প বিবেচিত হওয়াই বাঞ্ছনীয় ছিল, কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর খেয়াল-খুশির কাছে সব যুক্তি-তর্ককে হার মানতে হয়েছে। এখন যখন এই প্রকল্পের বিপুল রাশিয়ান ঋণ বিনিয়োগ-সরঞ্জাম হিসেবে দেশে আসতে শুরু করেছে তখন এর প্রভাবে জিডিপি’র অনুপাত হিসেবে সরকারি বিনিয়োগও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু, ‘ঋণ করে ঘি খাওয়ার’ এই ক্লাসিক উদাহরণ দেশের অর্থনীতিতে ভবিষ্যতে কতটুকু টেকসই ফায়দা সৃষ্টি করবে সে সন্দেহটা কোনমতেই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্যে এত ব্যয়বহুল ও বিপজ্জনক প্রকল্প গ্রহণের যৌক্তিকতা কখনোই প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। (সব প্রযুক্তি সব দেশের জন্যে সঠিক নয়!) ২০১৮-১৯ অর্থ-বছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির মোট অর্থায়নে বৈদেশিক ঋণের অবদান যে অতীতের বেশ কয়েক বছরের ক্রমহ্রাসমান অনুপাতকে বিপুলভাবে উল্টে দিয়েছে সে তথ্য কিন্তু বিবিএস লুকিয়ে ফেলেছে, কিংবা মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্রী মহোদয় সুপরিকল্পিতভাবে এড়িয়ে গেছেন। লজ্জাজনক পরনির্ভরতার ফাঁদ থেকে দেশের অর্থনীতি যে ক্রমশ বেরিয়ে আসছিল সে প্রবণতাকে বর্তমান সরকার ধরে রাখা হয়তো গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে না! কিন্তু, বৈদেশিক ঋণ পাওয়া গেলেই আলতু-ফালতু প্রকল্প গ্রহণের বদখাসলত যেভাবে বর্তমান নীতি-প্রণেতাদেরকে পেয়ে বসেছে সেটাকে কোনমতেই গ্রহণযোগ্য বলা যাবে না। পাঠকদের অনেকেরই হয়তো জানা নেই, বৈদেশিক ঋণ/অনুদান-নির্ভর স্বল্পোন্নত দেশ হলেও বাংলাদেশ স্বাধীনতা-উত্তর ৪৮ বছরে কখনোই বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে অপারগ দেশের অন্তর্ভুক্ত হয়নি, অথবা ‘হাইলি ইনডেটেড পুওর কান্ট্রিজ (এইচ আই পি সি)’ এর অমর্যাদাকর ক্যাটেগরিতেও তালিকাভুক্ত হয়নি। সেজন্যে, জিডিপি’র অনুপাত হিসেবে বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক ঋণের দেনার যোগফল এখনো ২০ শতাংশের নিচে রয়ে গেছে। আরো গুরুত্বপূর্ণ হলো, প্রতি বছর বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ (ডেট সার্ভিসিং) এখনো বাজেটের অসহনীয় বোঝা হয়ে উঠেনি। কিন্তু, গত কয়েক বছর ধরে বর্তমান সরকার যেভাবে অপচয়মূলক বিভিন্ন প্রকল্পের জন্যে বৈদেশিক ঋণ নেয়া শুরু করেছে তাতে এই স্বস্তিকর অবস্থা আর বেশিদিন থাকবে না। অতএব, মেগা-প্রকল্পের খায়েস পরিত্যাগ করার জন্যে আকুল আবেদন জানাচ্ছি। তাতে যদি জিডিপি’র প্রবৃদ্ধির হার কিছুটা শ্লথ হয়েও যায় কোন ক্ষতি নেই। জিডিপি’র প্রবৃদ্ধির উচ্চহার নিয়ে মাতামাতি করতে গিয়ে আমরা আরেকটি মহাগুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে আড়ালে ঠেলে দিয়েছি, সেটা হলো বিপজ্জনকভাবে ক্রমবর্ধমান আয়বৈষম্য। বিবিএস জানাচ্ছে, চূড়ান্ত হিসাবেও ২০১৮-১৯ অর্থ-বছরের জুনে দেশের জনগণের মাথাপিছু জিএনআই ১৯০৯ ডলার এবং মাথাপিছু জিডিপি ১৮২৮ ডলারে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু, মাথাপিছু জিডিপি যেহেতু একটি গড় সূচক তাই মাথাপিছু জিডিপি প্রবৃদ্ধির সাথে সাথে যদি দেশে আয়বন্টনে বৈষম্যও বাড়তে থাকে তাহলে জিডিপি প্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের উচ্চবিত্ত জনগোষ্ঠীর কাছে পুঞ্জীভূত হওয়ার প্রবণতা ক্রমশ শক্তিশালী হতে থাকে, যার ফলে নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ প্রবৃদ্ধির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত থেকে যায়। অতএব, আয়বৈষম্য ক্রমে বাড়তে থাকার প্রবণতাকে দেশের আসন্ন মহাবিপদ সংকেত বললে অত্যুক্তি হবে না। প্রবৃদ্ধির সুখবরের পাশাপাশি এই একটি মহাবিপদ যে এদেশের ১৯৭৫-পরবর্তী শাসকমহল তাদের ভ্রান্ত অর্থনৈতিক দর্শন ও উন্নয়ন কৌশলের মাধ্যমে ডেকে আনছে তার প্রতি যথাযথ গুরুত্ব প্রদানের জন্যে আমি গত সাড়ে তিন দশক ধরে সর্বশক্তি দিয়ে জাতির মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি। দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, আশির দশক থেকেই এদেশে আয় ও সম্পদ বৈষম্য ক্রমশ বাড়তে বাড়তে এখন বাংলাদেশ একটি ‘উচ্চ আয়বৈষম্যের দেশে’ পরিণত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এদেশের শাসক মহল কিন্তু খানা আয় ব্যয় জরিপ ২০০০ (ঐওঊঝ ২০০০) এর মাধ্যমে ২০০০ সালেই বিপদ সংকেত পাওয়ার কথা, যে জরিপে প্রথম সরকারিভাবে জিনি (বা গিনি) সহগ হিসাব করা শুরু হয়েছিল! অর্থনীতিতে আয়বৈষম্য বৃদ্ধি বা হ্রাস পরিমাপ করার জন্য নানা পরিমাপক ব্যবহার করা হয়, যার মধ্যে লরেঞ্জ কার্ভ এবং জিনি সহগ অন্যতম। কোন অর্থনীতির জিনি সহগ যখন দ্রুত বাড়তে থাকে এবং ০.৫ এর কাছাকাছি পৌঁছে যায় বা ০.৫ অতিক্রম করে তখন নীতি-নির্ধারকদের বোঝার কথা যে আয়বৈষম্য মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশের জিনি সহগ ছিল মাত্র ০.৩৬, মানে প্রচণ্ড দারিদ্র্য-কবলিত দেশ হলেও ঐ পর্যায়ে এদেশে আয়বৈষম্য তুলনামূলকভাবে সহনীয় ছিল। ১৯৮৩-৪ অর্থ-বছর পর্যন্ত জিনি সহগ ০.৩৬ ছিল। এরপর আশির দশক ও নব্বই দশকে জিনি সহগ বেড়ে ২০০০ সালে তা ০.৪৫ এ পৌঁছে যায়। ২০০৫ সালে জিনি সহগ বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ০.৪৬৭। ২০১০ সালেও জিনি সহগ ০.৪৬৫ এ রয়ে গেছে, তেমন কমানো যায়নি। ২০১৬ সালের খানা আয় ও ব্যয় জরিপ মোতাবেক জিনি সহগ আবার বেড়ে ০.৪৮৩ এ পৌঁছে গেছে। বর্তমান সরকারের নীতি-প্রণেতারা সুকৌশলে আয়বৈষম্য মারাত্মকভাবে বাড়ার ব্যাপারটি বারবার এড়িয়ে যাচ্ছেন। অথচ, এই ধনাঢ্য সৃষ্টিকারী ও ধনাঢ্য গোষ্ঠীগুলোর দখলে জিডিপি’র ক্রমবর্ধমান অংশ পুঞ্জীভূত হতে দেওয়ার বিপদ সৃষ্টিকারী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার বাড়ানোর কৌশল কী ফল প্রসব করতে পারে তা নাটকীয়ভাবে ধরা পড়েছে ১১ ও ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখে বাংলাদেশের পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হেডলাইন সংবাদ ‘বিশ্বে ধনকুবেরের সংখ্যার প্রবৃদ্ধির হারের শীর্ষে বাংলাদেশ’ এর মাধ্যমে। ঐ খবরে জানানো হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘ওয়েলথ এঙ’ এর প্রতিবেদন ওয়ার্ল্ড আল্‌ট্রা ওয়েলথ রিপোর্ট-২০১৮ মোতাবেক ২০১২ সাল থেকে ২০১৭ এই পাঁচ বছরে অতি ধনী বা ধনকুবেরের সংখ্যা বৃদ্ধির দিক দিয়ে বিশ্বের বড় অর্থনীতির দেশগুলোকে পেছনে ফেলে সারা বিশ্বে এক নম্বর স্থানটি দখল করেছে বাংলাদেশ। ঐ পাঁচ বছরে বাংলাদেশে ধনকুবেরের সংখ্যা বেড়েছে বার্ষিক ১৭.৩ শতাংশ হারে। একনেক সভার বিবরণ সাংবাদিকদের কাছে উপস্থাপনের সময় মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্রীও আয়বৈষম্যবৃদ্ধির বিষয়টি গৌণ করে দেখালেন, যা খুবই হতাশ করেছে আমাদেরকে। ক্রমবর্ধমান আয়বৈষম্য সমস্যা মোকাবেলা করা দুরূহ, কিন্তু অসম্ভব নয়। রাষ্ট্রের শীর্ষ নেতৃত্বের সদিচ্ছা এক্ষেত্রে সর্বাগ্রে প্রয়োজন, কারণ আয় ও সম্পদ পুনর্বন্টন খুবই কঠিন রাজনৈতিক নীতি-পরিবর্তন ছাড়া অর্জন করা যায় না। বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি কর্তৃক ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখে আয়োজিত জাতীয় সেমিনারে উপস্থাপিত ‘বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান আয়বৈষম্য: সমাধান কোন্‌ পথে?’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধে এ-সম্পর্কে জাতিকে একটি পথনির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নজরে পড়েছে কি? (রচনাকাল : ১২ ডিসেম্বর ২০১৯)
লেখক : একুশে পদকপ্রাপ্ত অর্থনীতিবিদ ও অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর,
অর্থনীতি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

x