মায়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে বেপরোয়া গতির একটি বাসের ধাক্কায় নিহত হয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) মেধাবী শিক্ষার্থী শাজমিলা জিসমাম মুন (২২)। দুর্ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীর ক্যান্সার আক্রান্ত মা, চবির ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর শিরিন আরা চৌধুরীও গুরুতর আহত হন। কলকাতার ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের সামনে জেব্রা ক্রসিং দিয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুত গতির একটি বাস এসে মা-মেয়েকে ধাক্কা দেয়। তাদেরকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মুন মারা যান। আহত প্রফেসর শিরিন আরা চৌধুরীকে চট্টগ্রামে আনা হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ফটিকছড়ির পাইন্দং সবুজবাগের বড় মৌলভী বাড়ির বাসিন্দা এবি ব্যাংকের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ম্যানেজার জসিম উদ্দিন চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক শিরিন আরা চৌধুরীর মেয়ে চবির ট্রিপল ই বিভাগের শিক্ষার্থী শাজমিলা জিসমাম মুন। তিনি মায়ের সঙ্গে কলকাতায় যান। সাথে ছিলেন ভাই সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট সাফওয়ান জাসির চৌধুরী। হল্যান্ডে অধ্যয়নরত তার ছোটভাই সাজিদ আন রাফসান চৌধুরী কলকাতায় এসে তাদের সঙ্গে যোগ দেন। মূলত মায়ের ক্যান্সার চিকিৎসা করাতে কোরবানির ঈদের দুদিন আগে তারা কলকাতা গিয়েছিলেন। সেখান থেকে দুয়েকদিনের মধ্যে দিল্লি এবং পরে সিঙ্গাপুর যাওয়ার কথা।
ঈদের দিন গত রোববার বিকেল ৪টার দিকে তারা চারজন ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের সামনে জেব্রা ক্রসিং দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। ওই সময় ট্রাফিক সিগন্যালে লাল বাতি জ্বলছিল এবং জেব্রা ক্রসিংয়ে রাস্তা পারাপারের সংকেত ছিল। শাজমিলা জিসমামসহ সবাই রাস্তা পার হওয়ার সময় দুই ভাই একটু আগে হাঁটছিলেন। পেছনে মায়ের হাত ধরে মুন। ওই সময় বেপরোয়া গতির একটি বাস এসে মা-মেয়েকে ধাক্কা দেয়। এতে তারা দুজন রাস্তায় পড়ে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় শিরিন আরা চৌধুরী ও শাজমিলাকে স্থানীয় পিজি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের দুজনকে ভর্তি করা হয়। বারো ঘণ্টা পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত সোমবার ভোরে শাজমিলা মারা যান। গুরুতর আহত শিরিন আরা চৌধুরীকে চিকিৎসা দেয়া হয়।
দুর্ঘটনার পর বাসটি পালিয়ে গেছে। কলকাতা পুলিশের বরাত দিয়ে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, ঘাতক বাসটিকে ধরতে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে স্থানীয় বিভিন্ন সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট সাফওয়ান জাসির চৌধুরী নিহত ছোট বোন মুনের মরদেহ এবং গুরুতর আহত মাকে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সযোগে গত মধ্যরাতে চট্টগ্রামে এসে পৌঁছেছেন। আজ সকালে নামাজে জানাজা শেষে মুনকে দাফন করা হবে।
মুনের পরিবার নগরীর গোলপাহাড় মোড় মেহেদি হাইটসে বসবাস করে বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে। মুনের স্বপ্ন ছিল অনেক বড় প্রকৌশলী হবেন। কিন্তু ভিনদেশের ঘাতক বাস তার সব স্বপ্ন কেড়ে নিয়েছে। মুনের অকাল মৃত্যুতে তার স্বজনদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।












