পাকিস্তানের বৃহত্তম শহর করাচিতে সিন্ধু রেঞ্জার্সের স্থাপনায় বোমা ও বন্দুক হামলায় আধাসামরিক বাহিনীটির তিন সদস্য নিহত হয়েছে। শনিবার রাতের ঘটনায় আরও তিন সেনা আহত হয়েছে বলে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী জানিয়েছে। খবর বিডিনিউজের।
সামরিক বাহিনীর বিবৃতির বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, পাকিস্তান তালেবানের উপদল জঙ্গি গোষ্ঠী জামাত–উল–আহরার করাচির গুলিস্তান–ই–জওহর এলাকায় রেঞ্জার্সের ক্যাম্পের প্রবেশ পথে বিস্ফোরণ ঘটানোর পর সেনাদের ওপর গুলিবর্ষণ শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, তারা একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বরাবর বড় ধরনের একটি বিস্ফোরণের পর গুলির শব্দ শুনেছেন। এই সড়কে পাকিস্তানের আবহওয়া বিভাগের দপ্তর ও বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। মোহাম্মদ বখশ নামের একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, নিকটবর্তী মসজিদে নামাজ পড়ার সময় তিনি বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান। ওই এলাকায় একটা রেস্তোরাঁ পরিচালনাকারী ৪০ বছর বয়সী বখশ বলেন, মাটি এমনভাবে কাঁপছিল যেন ভূমিকম্প হচ্ছে। আমরা বের হয়ে এসে দেখি চারদিক ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে আছে, তারপর গুলি শুরু হয়। তিনি জানান, প্রায় ১৫ মিনিট ধরে টানা গোলাগুলি চলে।
সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গুলি বিনিময়ের সময় তিন জঙ্গি নিহত হয়। আর চতুর্থ আরেকজন, এক আফগান নাগরিককে আটক করা হয়েছে।
পাকিস্তান হামলার দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক অভিযান চালাবে, বলেছে সামরিক বাহিনী। রয়টার্স লিখেছে, হামলার কারণে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে ফের লড়াই শুরু হতে আর তেমনটি হলে প্রতিবেশী দেশটিতে আরও বিমান হামলা চালাতে পারে ইসলামাবাদ। এক সময়ের মিত্র দেশ দুটি এখন শত্রুতে পরিণত হয়েছে। সীমান্তে প্রায়ই হামলা, পাল্টা হামলার পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দুপক্ষের মধ্যে তীব্র লড়াই হয়।
তারপর থেকে থেমে থেমে হামলা, পাল্টা হামলা চলছেই। এসব লড়াইয়ে চলতি বছর কয়েকশ মানুষ নিহত হয়েছেন। ইসলামাবাদের অভিযোগ, কাবুল এমন জঙ্গিদের আশ্রয় প্রশ্রয় দেয় যারা পাকিস্তানে হামলার ষড়যন্ত্র করে। কিন্তু আফগানিস্তানের শাসকদল তালেবান অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জঙ্গিবাদ পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা বলে দাবি করেছে।












