কক্সবাজারে সাগরে ডুবে তিন পর্যটকের মৃত্যু, নিখোঁজ ২

সমুদ্রের মাঝে জেগে ওঠা চরে ঘুরতে গিয়ে জোয়ারে ভেসে যায় তারা নিহত ও নিখোঁজদের দুজন চট্রগ্রামের

কক্সবাজার প্রতিনিধি | বৃহস্পতিবার , ২২ অক্টোবর, ২০২৬ at ৮:৩৯ পূর্বাহ্ণ

কক্সবাজারের রেজুখাল পেরিয়ে সমুদ্রের মাঝে জেগে ওঠা চরে ঘুরতে গিয়ে জোয়ারের পানিতে তলিয়ে চট্টগ্রাম ও ঢাকা থেকে যাওয়া তিন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও দুইজন। এছাড়া তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেলে মেরিনড্রাইভ সড়কের হিমছড়ি পেঁচারদ্বীপ জাদুঘরসংলগ্ন সৈকতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ও নিখোঁজদের মধ্যে চট্টগ্রামের পর্যটক দুজন। নিহত মো. আকাশ (২০) নগরীর বায়েজিদ শেরশাহ জামতলা এলাকার মো. এরশাদের ছেলে। নিখোঁজ রয়েছেন বায়েজিদের শেরশাহ এলাকার মো. কবিরের ছেলে মো. হারুন (২০)। জীবিত উদ্ধার হওয়া তিনজন হলেন বায়েজিদ এলাকার মৃত আবুল কালামের ছেলে রাকিব হাসান (১৯), একই এলাকার মৃত ছগিরের ছেলে মো. সানী (২০) এবং বায়েজিদে বসবাসকারী নোয়াখালীর মো. হেলালের ছেলে মো. আকাশ। তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একই ঘটনায় ঢাকার নিহত দুই পর্যটক হলেন উত্তরা দিয়াবাড়ি এলাকার মোকারম হোসেনের ছেলে আল মাহিবুল ইবনে মোকারম ওরফে রোহান (২৩) এবং দক্ষিণখান এলাকার মাহবুবুল হকের ছেলে সাইফুল হক জিসান (২৩)। নিখোঁজ রয়েছেন উত্তরা আজমপুর এলাকার লাবিবর রহমানের ছেলে এস এম নাফিজুর রহমান নিবিড় (২৩)।

রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমান প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানান, পর্যটকদের দুটি দল পেঁচারদ্বীপ জাদুঘরসংলগ্ন রেজুখাল পেরিয়ে সমুদ্রের মাঝে জেগে ওঠা একটি চরে ঘুরতে যায়। বিকেলে সাগরে জোয়ার শুরু হলে পানির উচ্চতা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে চরটি পানিতে ডুবে গেলে সেখানে থাকা পর্যটকেরা তলিয়ে যান। বিষয়টি তারা আগে থেকে বুঝতে পারেননি। পরে স্থানীয় লোকজন চট্টগ্রামের পর্যটক দলের তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজ থাকেন আরও দুজন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মো. সানী ও মো. আকাশ জানান, তারা দুপুর ১২টার দিকে ট্রেনে করে কক্সবাজার পৌঁছান। আগে থেকে বুকিং করা পেঁচারদ্বীপের একটি রিসোর্টে ওঠার পর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সাগরে গোসল করতে নামেন। পরে রেজুখাল পেরিয়ে চরে চলে যান। তাদের মতো অন্য একটি পর্যটক দলের সদস্যরাও খাল পেরিয়ে ওই চরে গিয়েছিলেন।

অন্যদিকে, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাত বন্ধু গত ১৮ অক্টোবর রাতে ঢাকা থেকে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পরদিন তারা বান্দরবানে পৌঁছে বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে দেখেন। গতকাল দুপুরে তারা কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকার ‘শোর নেস্ট বিচ ক্যাম্প’ রিসোর্টে ওঠেন। পরে বিকেলে সাত বন্ধু পেঁচারদ্বীপ জাদুঘরসংলগ্ন সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে নেমে দুর্ঘটনার শিকার হন।

ইউএনও মো. জিল্লুর রহমান জানান, আইনগত প্রক্রিয়া শেষে গতকাল বুধবার রাতেই উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। নিখোঁজ দুজনের সন্ধানে সাগরে তল্লাশি চলছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকক্সবাজারে ১৫ লাখ পর্যটক, হাজার কোটির ব্যবসার আশা
পরবর্তী নিবন্ধবদলে যাবে যোগাযোগ ও জীবন-জীবিকা