এশিয়া কাপ ভারতের

লজ্জায় ডুবল শ্রীলংকা, দর্শক নড়েচড়ে বসার আগেই ম্যাচ শেষ

ক্রীড়া প্রতিবেদক | সোমবার , ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ at ৭:৩৪ পূর্বাহ্ণ

একশ ওভারের খেলা। প্রতি দলের জন্য বরাদ্দ ৫০ ওভার করে। কিন্তু পুরো ম্যাচটাই কিনা হলো মাত্র ২১.৩ ওভার। একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এতটা স্বল্প সময়ের ফাইনাল ম্যাচ আগে কেউ দেখেনি। এক তরফাই শুধু নয় এই ফাইনাল ম্যাচটাকে কোনো সংজ্ঞায়ও ফেলা যাবে না। কারণ দর্শকরা নড়েচড়ে বসার আগেই ম্যাচ শেষ। মাঠের দর্শকদের অনেকেই হয়তো তখন মাঠেও ঢুকেনি। আবার যারা টিভি পর্দায় তারাও যেন টিভিটা ছাড়ছিলেন কেবল। কিন্তু তখনই খেলা শেষ। এশিয়া কাপের এবারের ফাইনালে এ ধরনের চরম লজ্জাজনক পারফরমেন্স উপহার দিয়েছে গতবারের চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা। শ্রীলংকা ব্যাট করেছে ১৫.২ ওভার আর ভারত করেছে মাত্র ৬.১ ওভার। আর তাতেই ফাইনালে শ্রীলংকার হার ১০ উইকেটের। ২৬৩ বল হাতে রেখে অষ্টমবারের মতো এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন হলো ভারত। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৫০ রানেই গুটিয়ে যায় শ্রীলংকা। ওয়ানডে ইতিহাসে এটি কোনো দলের নবম সর্বনিম্ন সংগ্রহের রেকর্ড। আর শ্রীলঙ্কার ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। এর আগে ২০১২ সালে পার্লে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৪৩ রানে অলআউট হয়েছিল লংকানরা। ভারতের পেসার মোহাম্মদ সিরাজ একাই ধসিয়ে দেয় লংকান ব্যাটিংকে।

কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক দাসুন শানাকা। কে জানতো প্রথমে ব্যাট করতে নেমে এমন হাল হবে তাদের। প্রথম ওভারে আঘাত হানেন ভারতীয় পেসার জাসপ্রিত বুমরাহ। ইনিংসের তৃতীয় বলে তাকে ড্রাইভ করতে গিয়ে উইকেটরক্ষককে ক্যাচ দেন কুশল পেরেরা। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে সিরাজ ঝড়। নিজের প্রথম ওভার মেইডেন দিয়ে শুরু করেন সিরাজ। পরের ওভারে এসেই তিনি দেখিয়েছেন ভয়ংকর রূপ। একে একে সাজঘরে ফিরিয়েছেন লঙ্কান ৪ ব্যাটারকে। এই ওভারের প্রথম বলেই ৪ বলে ২ রান করা পাথুম নিশাঙ্কাকে রবীন্দ্র জাদেজার ক্যাচ বানান সিরাজ। তৃতীয় বলে তিনি এলবিডব্লিউ করেন সাদিরা সামারাবিক্রমাকে। রানের খাতা খুলতে পারেননি তিনি। পরের বলে চারিথ আসালাঙ্কাকে কভারে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন সিরাজ। তিনিও রানের খাতা খুলতে পারেননি। হ্যাটট্রিক ডেলিভারিটিতে চার মেরেছেন ধনঞ্জয়া ডি সিলভা। কিন্তু পরের বলেই উইকেটরক্ষককে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন ২ বলে ৪ রান করা ধনঞ্জয়া। ওই ওভারে ৪ উইকেট নেন সিরাজ।

নিজের পরের ওভারে অর্থাৎ ইনিংসের ষষ্ট ওভারের চতুর্থ বলে আরও এক শিকার সিরাজের। এবার উড়িয়ে দিলেন লঙ্কান অধিনায়ক দাসুন শানাকার অফস্ট্যাম্প। সিরাজ ৪ রানেই পূরণ করে নেন পাঁচ উইকেট। বলের হিসেবে এটি চামিন্দা ভাসের সঙ্গে যৌথভাবে দ্রুততম পাঁচ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড। ২০০৩ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে তার সমান ১৬ বলে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন চামিন্দা ভাস। শেষ পর্যন্ত ৭ ওভারে এক মেইডেনসহ মাত্র ২১ রানে ৬টি উইকেট নেন সিরাজ। যা সিরাজের ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং। এর আগে একবারও ইনিংসে ৫ উইকেট পাননি সিরাজ। আগের সেরাটি ছিল এ বছরের জানুয়ারিতে শ্রীলংকার বিপক্ষে ৩২ রানে ৪ উইকেট। হার্দিক পান্ডিয়া ৩ রানে নেন ৩ উইকেট। আর তাতেই শ্রীলংকা অল আউট হয় ৫০ রানে। এই স্বল্প রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ঝড় তোলেন ইশান কিশান এবং শুভমান গিল। স্বল্প রান বলেই হয়তো রোহিত শর্মা নামেননি ইনিংস শুরু করতে। তবে গিল এবং ইশান মিলে মাত্র ৩৭ বলে কোনো উইকেট না হারিয়ে জয় তুলে নেন। ইশান ১৮ বলে ২৩ আর গিল ১৯ বলে ২৭ রান করে অপরাজিত ছিলেন। ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন ভারতীয় পেসার মোহাম্মদ সিরাজ। আর টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরষ্কার জিতেছেন কুলদিপ যাদব।