রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের পর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মসজিদ হচ্ছে চট্টগ্রামের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ। ১৯৭৬ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান ৯৯ বছরের জন্য মাত্র ১টাকা প্রতীকী মূল্যে ১২ একর সরকারি জমি জমিয়তুল ফালাহ মসজিদের অনুকূলে বরাদ্দ দেন। ১৯৮৬ সালে মসজিদটি সরকারি অর্থায়নে প্রতিষ্ঠার পর এর খ্যাতি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ হয়ে ওঠে চট্টগ্রামবাসীর প্রাণের মসজিদ এবং আস্থা ও ভালোবাসার ঠিকানা। মূলত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মনে প্রাণে চেয়েছিলেন জমিয়তুল ফালাহ মসজিদটি যেন বিশ্বমানের রূপ নেয়। চট্টগ্রামের তৎকালীন কিছু রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক ও ধর্মানুরাগী ব্যক্তিত্ব মসজিদ নির্মাণের স্বপ্ন দেখেছিলেন। অনেকেই নানাভাবে এ মসজিদের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাদের অনেকই আজ প্রয়াত হলেও জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ নির্মাণের স্বপ্নদ্রষ্টা ও এর সফল বাস্তবায়নে অবদানের জন্য তাঁরা বিশেষভাবে স্মরণীয়–বরণীয় হয়ে আছেন। অতীব দুঃখজনক যে, জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ প্রতিষ্ঠার চল্লিশ বছর পরও এখনো অবহেলার শিকার। বিশ্বমানের রূপও পায়নি এই মসজিদ। অন্যদিকে চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লাহ শাহী জামে মসজিদও বড় ধর্মীয় পীঠস্থান। ঐতিহাসিক এ মসজিদের বয়স আজ প্রায় সাড়ে ৩শত বছর। প্রায় চারশত কোটি টাকা ব্যয়ে গত ১২ অক্টোবর আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ সম্প্রসারণের কাজ উদ্বোধন করেছেন ধর্ম উপদেষ্টা। এ মসজিদ গড়ে তোলা হবে মসজিদে নববীর আদলে।
এবার নজর দিতে হবে জমিয়তুল ফালাহ মসজিদের দিকে। ১৯৮৬ সনে জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ প্রতিষ্ঠার পর বহু সরকারের পালাবদল ঘটেছে। কিন্তু সরকারগুলো এ মসজিদের দিকে বিশেষ সুনজর দেয়নি। মসজিদের প্রতিষ্ঠাকাল থেকে ২০১৬ সন পর্যন্ত প্রায় ৩৩ বছর ধরে খতিবের পদে ছিলেন খ্যাতিমান আলেমে দ্বীন খতিবে বাঙাল অধ্যক্ষ আল্লামা জালাল উদ্দীন আলকাদেরী (রহ.)। আমি হুজুরের সরাসরি ছাত্রদের একজন। আনজুমান–এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট পরিচালনাধীন চট্টগ্রাম জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদরাসায় কামিল শ্রেণিতে অধ্যয়নসূত্রে অধ্যক্ষ হুজুরের সঙ্গে সেই ১৯৯৩ সন থেকেই আমার পরিচয় ও সদ্ভাব গড়ে ওঠে। ২০০৬ সনে মহররম মাস শুরু হওয়ার কয়েক দিন আগে খতিবে বাঙাল হুজুর কেবলা (রহ.) আমাকে ডেকে নিয়ে জমিয়তুল ফালাহ মসজিদে প্রতি বছর ১০ দিনব্যাপী আয়োজিত শাহাদাতে কারবালা মাহফিলের নিউজ লেখার দায়িত্ব আমার ওপর অর্পণ করেন। গত ৬ জুলাই ২০২৫ ছিল আশুরা তথা কারবালা মাহফিলের সমাপনী দিন। যথারীতি এই মাহফিলের নিউজও আমি করেছি। এই সমাপনী দিবসের মাহফিলে প্রধান অতিথি ছিলেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। মাহফিলে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মদ একরামুল করিম। তিনি জমিয়তুল ফালাহ মসজিদের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন না হওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি মসজিদের উন্নয়নে সরকারের ধর্ম উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, খুবই দুর্ভাগ্য যে, গত ১৭ বছরে এই মসজিদে ১৭টি ইটও বসানো হয়নি। মসজিদের অজুখানা ও শৌচাগারের অবস্থা খুবই খারাপ। অথচ জমিয়তুল ফালাহ মসজিদের উন্নয়নে সরকার এখনো কোন পদক্ষেপ নেয়নি। চট্টগ্রামের একেবারে কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত জমিয়তুল ফালাহ মসজিদের ডিজাইন ও নকশায় একে মসজিদ ছাড়াও বিশ্বমানের পূর্ণাঙ্গ ইসলামিক কমপ্লেক্স হিসাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানা গেলেও চল্লিশ বছরেও তা বাস্তব রূপ পায়নি। অথচ এই মসজিদের উন্নয়ন, সম্প্রসারণ এবং একে বিশ্বমানের দৃষ্টিনন্দন আইকন মসজিদে রূপ দেয়ার সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা অবকাঠামো এখানে বিদ্যমান। কিন্তু বিগত দিনের সরকারগুলো এদিকে বিশেষ সুদৃষ্টি দেয়নি। চট্টগ্রামের সর্বস্তরের দ্বীনদার জনতা আজ অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে বিনীত আবেদন পেশ করছে, আসুন! এবার জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ কমপ্লেক্স বিশ্বমানের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলুন। আর নয় এই ঐতিহ্যবাহী মসজিদের প্রতি ইচ্ছাকৃত অবজ্ঞা ও উপেক্ষা। আমরা মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা এবং ধর্ম উপদেষ্টার কাছে এ ব্যাপারে ফরিয়াদ ও আবেদন জানাচ্ছি।
লেখক : সাংবাদিক











