এবার কী শুরু হবে কাজ

সাড়ে ৪৬ মাস পর ভূমি জটিলতার অবসান হতে যাচ্ছে, আজ-কালের মধ্যে সাইট পরিদর্শনে আসবেন প্রকল্প পরিচালক

আজাদী প্রতিবেদন | রবিবার , ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২ at ৬:৩৮ পূর্বাহ্ণ

নগরে আধুনিক কসাইখানা নির্মাণ কাজ অনুমোদনের সাড়ে ৪৬ মাসেও শুরু হয়নি। চান্দগাঁও পুরাতন থানা এলাকায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) জায়গায় ৮৩ কোটি টাকায় এ পশু জবাইখানা নির্মাণের কথা। তবে এতদিন চসিক ভূমি বুঝিয়ে না দেয়ায় কাজ শুরু করতে পারেনি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। নির্মিত হলে এটি হবে এশিয়ার সবচেয়ে বড় ও আধুনিক এবং বাংলাদেশের মধ্যে সরকারিভাবে নির্মিত প্রথম আধুনিক কসাইখানা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের গৃহীত চার হাজার ২৮০ কোটি ৩৬ লাখ টাকায় ‘প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন’ (দি লাইভস্টক এন্ড ডেইরি ডেভলপমেন্ট প্রজেক্ট-এলডিডিপি) শীর্ষক প্রকল্প ২০১৮ সালে ৮ নভেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পায়। প্রকল্পের আওতায় স্বাস্থ্যসম্মতভাবে পশু জবাই ও মাংস প্রক্রিয়াকরণের জন্য চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন এলাকায় তিনটি সেমি অটো এবং ২০টি জেলায় একটি করে আধুনিক পশু জবাইখানা নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব কসাইখানার জন্য বরাদ্দ রাখা হয় ৭৩৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে চট্টগ্রামসহ দেশের তিনটি সিটি কর্পোরেশন এলাকার প্রতিটি কসাইখানার জন্য বরাদ্দ ৮৩ কোটি টাকা।
জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ইতোমধ্যে একটি ডিজাইন ও সুপারভিশন ফার্ম নিয়োগ দেয়। ২০টি জেলা থেকে পশু জবাইখানা নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় স্থানের প্রস্তাবনা পাওয়া গেছে এবং ১৭টি স্থান ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে এলডিডিপির সর্বশেষ অগ্রগতি প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে। এদিকে নগরে কসাইখানা নির্মাণে চান্দগাঁও পুরাতন থানা এলাকায় ৮৮ শতক জায়গার প্রস্তাব করে চসিক। তবে ওই ভূমির পাশে থাকা একটি স্কুল কর্তৃপক্ষ পরিবেশ দূষণের সম্ভাবনা থেকে এতে আপত্তি জানায়। এর ফলে তৈরি হয় জটিলতা। এদিকে চসিকও বিকল্প জায়গার ব্যবস্থা করতে পারেনি। ফলে আটকে যায় প্রকল্পের কাজ। তবে সম্প্রতি জটিলতার অবসান হয়েছে। তাই প্রাথমিকভাবে পূর্ব নির্ধারিত জায়গাতেই প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। আজ-কালের মধ্যে প্রকল্প পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টরা এ ভূমি পরিদর্শনে আসার কথা রয়েছে।
নগরে আধুনিক কসাইখানা নির্মাণের অগ্রগতি বিষয়ে জানতে চাইলে ‘প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন’ প্রকল্প পরিচালক (যুগ্মসচিব) মো. আবদুর রহিম দৈনিক আজাদীকে বলেন, ডিজাইন ও সুপারভিশন করার জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেয়া হয়েছে। পরিবেশের ছাড়পত্রও পাওয়া গেছে। এখন সাইট সিলেকশন পর্যায়ে আছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আধুনিক কসাইখানা নির্মাণ কাজ শেষ হলে নগরের যেখানে-সেখানে পশু জবাই বন্ধ হবে। এতে পরিবেশ দূষণ কমে আসবে। রোগ-বালাই আছে এমন গরু জবাই করা বন্ধ হবে। প্রকল্পের আওতায় যেখানে মাংস বিক্রি করা হবে সেখানে পৌঁছে দেয়ার জন্য কুল-ভ্যান ক্রয় করা হবে। এই ভ্যানে করেই মাংসগুলো পৌঁছে দেয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আধুনিক কসাইখানাটিকে ঘিরে নগরীতে গবাদি পশু সংক্রান্ত বড় মাপের একটি ইনস্টিটিউশন গড়ে তোলা হবে। এতে থাকবে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, আইসোলেশন, স্মার্ট স্টকিং স্পেস সুবিধা, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, রক্ত ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট শৃক্সখলা। এছাড়া এ প্রকল্পের আওতায় ৫ তলা বিশিষ্ট ভবন এবং জবাই এরিয়া করা হবে। পশুর নাড়ি-ভুড়িসহ শিং ফেলে না দিয়ে বিদেশে রপ্তানির ব্যবস্থা থাকবে এই কসাইখানার আওতায়। এ কসাইখানায় পশু জবাই করার আগে একজন পশু চিকিৎসক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে দেখবেন জবাইয়ের জন্য আনা পশুর। জবাইয়ের পর সেই মাংসও পরীক্ষা করা হবে। পশুর রক্তকে পোল্ট্রি ফিডে রূপান্তর করা হবে। পশুর অন্যান্য বর্জ্যগুলোও রিসাইক্লিং করা হবে। এই কসাইখানায় একদিনে জবাই করা যাবে ১০০ পশু এবং অপেক্ষায় রাখা যাবে ৩০০ পশু।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে বাংলাদেশে সরকারিভাবে নির্মিত সর্বোচ্চ মানের আধুনিক কোনো কসাইখানা নেই। তবে পাবনায় বেসরকারিভাবে বাণিজ্যিক উদ্দেশে গড়ে উঠা একটি আধুনিক কসাইখানা রয়েছে। ওই হিসেবে চট্টগ্রামের কসাইখানাটি হবে দেশের প্রথম আধুনিক পশু জবাই কারখানা।