নগরীর লালখান বাজারে জাল দলিল তৈরির মাধ্যমে সরকারি অর্পিত সম্পত্তি আত্মসাৎ চেষ্টার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় এক ব্যক্তিকে ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও ১ মাস কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। গতকাল চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি হলেন, মো. সাদেক খান। তিনি লালখান বাজার এলাকার মৃত এম এ সোবহানের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় আদালতে অনুপস্থিত (পলাতক) থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা ইস্যু করা হয়েছে। দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. রেজাউল করিম রনি দৈনিক আজাদীকে বলেন, বিচার প্রক্রিয়ায় মোট ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য রেকর্ড করা হয়।
আদালতসূত্র জানায়, নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন লালখান বাজার মৌজার পিএস খতিয়ান নং– ৩১৩ ভুক্ত ৯২৩ দাগের বিএস খতিয়ান নং– ২৬৯, বিএস দাগ নং– ১৮১৫ এর অন্তর্ভুক্ত ০.৭৯০৬ একর টিলা শ্রেণীর জমিটি বাংলাদেশ সরকারের ০৪/০৮/২০১২ তারিখের প্রকাশিত গেজেটে অর্পিত সম্পত্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যেখানে জমির মালিকের নাম ‘টার্ণার মরিসান কোং লি., লালখান বাজার, হাল সাং–ভারত’ লিপিবদ্ধ আছে। পরবর্তীতে বিএস খতিয়ান ও দাগের উক্ত জমিটি সরকারি বন্দোবস্ত ভিপি মামলা নং– ১০–৬/৮৫–৮৬ সূত্রে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অর্পিত সম্পত্তি শাখা থেকে মো. কাজি জাকির হোসেনের (তিনিও লালখান বাজারের বাসিন্দা) বরাবরে ইজারা প্রদান করা হয়েছিল। কিন্তু অভিযুক্ত মো. সাদেক খান সরকারি অর্পিত ওই সম্পত্তি আত্মসাতের অসৎ উদ্দেশ্যে প্রতারণার আশ্রয় নেন। তিনি এস.আর. অফিস, চট্টগ্রামের নামাকরণে ২২/০৫/১৯৬৮ তারিখের ২৬০১ নং একটি জাল দলিল সৃজন করেন। পরবর্তীতে ওই জাল দলিলকে খাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে তিনি দাবি করেন যে, তিনি উক্ত তফসিলভুক্ত জমি ‘টার্ণার মরিসান কোং লি.’-এর কাছ থেকে রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে ক্রয় করেছেন। এই দাবির পক্ষে দলিলের ফটোকপি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অর্পিত সম্পত্তি শাখা এবং অর্পিত সম্পত্তি অর্পণ ট্রাইব্যুনালে (ট্রাইব্যুনাল মামলা নং– ১৬৮৮৩/২০১৩) দাখিল করা হয়।
সূত্র আরো জানায়, সরকারি অর্পিত সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা হচ্ছে–এমন অভিযোগ পেয়ে দুদক ঘটনাটির অনুসন্ধান শুরু করে। অনুসন্ধানকালে চট্টগ্রাম সদর সাব–রেজিস্ট্রার রেকর্ড রুমের মাধ্যমে আসামির দাখিলকৃত ২৬০১ নং দলিলের তথ্য যাচাই করা হয়। সদর সাব–রেজিস্ট্রার অফিসের ১৯৬৮ সালের ৩৬ নং ভলিউমের ২৮৮–২৮৯ পৃষ্ঠায় নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২৬০১ নং দলিলটি মূলত একটি ‘দানপত্র দলিল’, যার গ্রহীতা ছিল ‘সেক্রেটারি, রায়পুর ইউনিয়ন এইচ. ই. স্কুল, আনোয়ারা’। অর্থা’ৎ জমিটি আনোয়ারা উপজেলার। ১নং সূচিপত্রেও এ বিষয়ের হুবহু উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া, ১৯৬৮ সালের ২ নং সূচী বহির ‘লালখান বাজার’–এর জন্য নির্ধারিত এল (এ) ডিভিশনে উক্ত ২৬০১ নং দলিলের কোনো অস্তিত্ব বা এন্ট্রি পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ, মো. ছাদেক খানের দাখিলকৃত দলিলটি সম্পূর্ণ ভুয়া ও জাল ছিল।
আদালতসূত্র জানায়, জাল দলিল তৈরি করে সরকারি অর্পিত সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগে নগরীর কোতোয়ালী থানায় ২০১৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর মো. সাদেক খানের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় দুদকের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বাদী হন দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম–১ এর তৎকালীন সহকারী পরিচালক এইচ এম আখ্তারুজ্জামান। তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর মো. সাদেক খানের বিরুদ্ধে একই কার্যালয়ের তৎকালীন উপ–পরিচালক (সংযুক্ত) মো. ফজলুল বারী চার্জশিট দাখিল করেন। এরপর গত বছর তথা ২০২৫ সালের ১৯ জুন চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালত তার বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে গতকাল উক্ত আদালত দণ্ডবিধির ৪৭১ ধারায় আসামিকে ১ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেন।










