এক্সপ্রেসওয়ের র‌্যাম্প নির্মাণকাজের মাটির কারণে ফ্রি পোর্টে রাস্তার বেহাল দশা

সড়কটি দ্রুত সংস্কার এবং কিছু সড়ক উঁচু করার পরিকল্পনার কথা বললেন মেয়র

আজাদী প্রতিবেদন | সোমবার , ৪ মে, ২০২৬ at ৬:১০ পূর্বাহ্ণ

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের র‌্যাম্প নির্মাণকাজের মাটি ফেলে রাখায় বিমানবন্দর সড়কের ফ্রি পোর্টে রাস্তার বেহাল দশা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অধীনে বাস্তবায়নাধীন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের র‌্যাম্প নির্মাণকাজের কারণে ওই এলাকায় মাটি ফেলে রাখা হয়েছে। ফলে সড়কের সংস্কারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। ম্যাক্স গ্রুপকে (এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজের ঠিকাদার) দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে জমে থাকা মাটি সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। র‌্যাম্পের কাজ চলুক বা না চলুক, নগরবাসীর স্বার্থে আমরা দ্রুত ওই সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেব।

গতকাল রোববার নগরীর বিভিন্ন জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকা পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। শাহাদাত বলেন, বৃষ্টির পানি জমে থাকার অন্যতম কারণ হচ্ছে কিছু সড়ক নিচু হয়ে যাওয়া। দীর্ঘদিনের উন্নয়নকাজ, খাল প্রশস্তকরণ ও বিভিন্ন স্থাপনা অপসারণের কারণে কোথাও কোথাও রাস্তা দেবে গেছে। এসব সড়ক উঁচু করার পরিকল্পনা রয়েছে। কাজগুলো বাস্তবায়িত হলে জলাবদ্ধতা আরো কমে আসবে।

এদিকে চসিকের জনসংযোগ শাখা থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, জলাবদ্ধতা নিরসনে নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে মাঠপর্যায়ে তদারকি কার্যক্রম জোরদার করেছেন মেয়র। দিনরাত খালনালা, ড্রেন ও পানিপ্রবাহ সচল রাখতে পরিচ্ছন্নতা ও উন্নয়ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন তিনি। বর্ষা মৌসুমে নগরবাসীকে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে স্বস্তি দিতে চলমান প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের উপর গুরুত্বারোপ করেছেন মেয়র।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান খাল খনন, ড্রেন পরিষ্কার ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মেয়র নগরবাসীকে যত্রতত্র প্লাস্টিক, পলিথিন ও বর্জ্য না ফেলার আহ্বান জানিয়ে পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে সবাইকে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

ডা. শাহাদাত বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন যথেষ্ট নয়; নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। সবাই সচেতন হলে এবং চলমান প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়িত হলে নগরবাসী আগের তুলনায় অনেক বেশি স্বস্তি পাবে।

গতকাল পরিদর্শনকালে মেয়র বলেন, যেসব স্থাপনা বা প্রতিবন্ধকতার কারণে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, সেগুলো অপসারণ করে খালনালা পরিষ্কার করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থানে ময়লাআবর্জনা ও পলি অপসারণের ফলে পানি দ্রুত নিষ্কাশন শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, মেগা প্রকল্পের বাইরে থাকা খালগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে নতুন সমন্বিত প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে নতুন ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রোপোজাল (ডিপিপি) প্রস্তুতের কাজ চলছে। ডিপিপি অনুমোদন হলে আগামী বছর থেকে বাস্তবায়ন শুরু করা যাবে। এটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম মহানগরের জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশন সমস্যার ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ সমাধান সম্ভব হবে বলে আমরা আশা করছি।

তিনি বলেন, বর্তমানে নগরের ৩৭টি খালের পাশাপাশি চসিকের আওতাধীন আরো ২১টি খাল নিয়ে কাজ চলমান রয়েছে। তবে জনদুর্ভোগ কমাতে বর্ষা মৌসুমে কিছু বড় প্রকল্পের কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।

মেয়র বলেন, গত বছর আমরা প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ জলাবদ্ধতা নিরসনে সফল হয়েছিলাম। চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ সম্পন্ন হলে এ বছর তা ৭০ থেকে ৮০ শতাংশে উন্নীত হবে বলে আশা করছি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ দুটিকে বিশেষ নিরাপত্তায় আনা হলো জেটিতে
পরবর্তী নিবন্ধশাপলা চত্বরে ‘৩২ প্রাণহানির’ তথ্য পেয়েছে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা