একদিনের শাটডাউন শেষে আজ ক্লাসে ফিরছেন চুয়েট শিক্ষার্থীরা

স্থগিত ৪০ পরীক্ষা,সিন্ডিকেটে নতুন ২ সদস্য

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি | মঙ্গলবার , ৩ নভেম্বর, ২০২৬ at ৬:১৩ পূর্বাহ্ণ

উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব প্রদান ঘিরে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) সৃষ্টি হওয়া নতুন অচলাবস্থার মাঝে গতকাল একদিনের শাটডাউন কর্মসূচি পালন করেছে আন্দোলনরত শিক্ষক–শিক্ষার্থীরা। তাদের একদিনের সর্বাত্মক শাটডাউন শেষে আজ মঙ্গলবার থেকে তারা আবার ক্লাসে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে চুয়েটের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. মঈনুল ইসলাম জানিয়েছেন, দীর্ঘ আন্দোলন ও সামপ্রতিক শাটডাউনের কারণে বিভিন্ন বিভাগের অন্তত ৪০টি পরীক্ষা স্থগিত হয়ে গেছে, যা সম্পন্ন করতে অন্তত ১৭টি কার্যদিবস (প্রায় ৩ সপ্তাহ থেকে ১ মাস) সময় অতিরিক্ত লাগবে।

জানা যায়, চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম ইউজিসির এক সরকারি সভায় অংশ নিতে ঢাকায় অবস্থান করায় রোববার ই–মেইল বার্তার মাধ্যমে তড়িৎ ও কম্পিউটার কৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. কাজী দেলোয়ার হোসেনকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা রোববার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে সোমবার সর্বাত্মক শাটডাউন ঘোষণা করেন। শিক্ষার্থীদের দেওয়া সেই ঘোষণার কারণে গতকাল সোমবার চুয়েটের কোনো ক্লাসরুমেই শিক্ষা কার্যক্রম চলেনি; সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজ বন্ধ ছিল।

আন্দোলনের পেছনের কারণ তুলে ধরে যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আহনাফ শাহরিয়ার অর্ণব জানান, ‘গত ২৮ অক্টোবর থেকে আমরা একাডেমিক কার্যক্রমে ফেরার সিদ্ধান্ত নিলেও আগেই জানিয়েছিলাম যে, উপাচার্যের ক্যাম্পাস কেন্দ্রিক যেকোনো কার্যক্রম আমরা প্রত্যাখ্যান করব। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করে আমরা সোমবার ক্লাস বর্জন করেছি। যেহেতু এই দায়িত্বের মেয়াদ গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত, তাই আজ মঙ্গলবার থেকে আমরা যথারীতি আবার ক্লাসে ফিরে যাব।’

এদিকে, আন্দোলনরত অন্যান্য শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও অচল অবস্থার পর নিজেদের ভবিষ্যৎ এবং একাডেমিক পরিবেশের কথা বিবেচনা করেই তারা ক্লাসে ফিরেছিলেন। কিন্তু নতুন উপাচার্যের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও ক্যাম্পাসে অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপের কারণে ফের অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার আমার তৃতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনও বসতে পারিনি। যত দিন যাচ্ছে আমাদের শিক্ষাবর্ষের ক্ষতি ততই বাড়ছে, তবুও আমরা দাবির জায়গা থেকে সরে আসছি না।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে চুয়েটের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মঈনুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমানে শিক্ষকদের কর্মবিরতিতে একাডেমিক কার্যক্রমের বিষয়টি আওতামুক্ত রয়েছে। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছিলেন এই ক্লাস বর্জন শুধু একদিনের জন্য, যেহেতু রুটিন দায়িত্বটি একদিনের ছিল। আশা করছি কাল থেকে স্বাভাবিক ক্লাস কার্যক্রম পরিচালনা সম্ভব হবে।’ তবে পরীক্ষা স্থগিতের বিশাল জট নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, ৪০টি পরীক্ষা সচল করতে ১৭টি কার্যদিবস লাগবে, যার প্রভাব পড়বে সার্বিক সেশনজটে।

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এই চলমান উত্তাপের মধ্যেই চুয়েট সিন্ডিকেটে সরকার মনোনীত সদস্য হিসেবে নতুন দুজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন–বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবির) সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. ইকবাল করিম এবং স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সাবেক সিনিয়র মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার শফিকুল ইসলাম খান। আগামী দুই বছরের জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক গবেষণা বা শিল্পপ্রতিষ্ঠান ক্যাটাগরিতে তাদের এই মনোনয়ন দেওয়া হয়।

রোববার (১ নভেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বৃত্তি ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহকারী সচিব মো. সুলতান আহমেদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগ নিশ্চিত করা হয়। এতে ২০২৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি জারি করা এ–সংক্রান্ত আগের আদেশটি বাতিল করে নতুন সদস্যদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চুয়েট উপাচার্যের কাছে অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, চুয়েটের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা একযোগে টানা আন্দোলন শুরু করেন। দীর্ঘ ৩৬ দিন অচল থাকার পর গত ২৮ অক্টোবর শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফেরার সিদ্ধান্ত নিলেও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলানোসহ মূল আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামে স্ত্রীসহ সাবেক কাস্টমস কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের দুই মামলা
পরবর্তী নিবন্ধএবার সিসিটির দায়িত্বও ছাড়তে হচ্ছে সাইফ পাওয়ারটেককে