ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র নিবিড়ভাবে কাজ করবে। দেশটিতে ফলপ্রসূ সরকার পরিবর্তন ঘটেছে। সেখানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ হবে না বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দুই দেশ বর্তমানে শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয় নিয়ে আলোচনা করছে বলেও জানান তিনি। গতকাল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প এসব কথা বলেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্প জানান, ইরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ১৫টি প্রস্তাবের অনেকগুলোতেই দুই দেশ একমত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। একটি পোস্টে তিনি লেখেন, আমরা ইরানের সঙ্গে শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞা শিথিল ৫নিয়ে কথা বলছি এবং সামনেও বলব। ট্রাম্পের এই ইতিবাচক মন্তব্যের পর ইরানের সাধারণ মানুষ এবং বিশ্ব শেয়ার বাজারে স্বস্তির আভাস পাওয়া গেছে।
তবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার মূল বিরোধগুলো এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে এবং দুই পক্ষই তাদের নিজস্ব দাবিগুলোতে অনড় রয়েছে। গতকাল ট্রাম্প আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, কোনও দেশ যদি ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করে, তবে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের রপ্তানি করা পণ্যের ওপর তাৎক্ষণিকভাবে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। খবর বিডিনিউজের।
গত বছর জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর যেসব ইউরেনিয়াম মাটির নিচে চাপা পড়েছে সেগুলো ইরানের সঙ্গে একযোগে কাজ করে অপসারণ হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি লেখেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে, দেশটিতে অত্যন্ত ফলপ্রসূ সরকার পরিবর্তন সম্পন্ন হয়েছে! তিনি আরও লেখেন, ইরানে আর কোনও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ হবে না। ইরানের সঙ্গে মিলে যুক্তরাষ্ট্র মাটি খুঁড়ে চাপা পড়া সব পারমাণবিক ‘ধূলিকণা’ (বি–২ বোমারু বিমান হামলার পর মাটির নিচে চলে যাওয়া ইউরেনিয়াম) অপসারণ করবে। গত বছরের জুনের ওই হামলার পর থেকে স্থাপনাগুলোর কোনও কিছুই এখনও স্পর্শ করা হয়নি।
তবে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি যদি স্থায়ী শান্তি এনেও দেয়, তারপরও ইরান যুদ্ধ এবং ট্রাম্পের সামপ্রতিক কথাবার্তা বিশ্ব এতদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে যে দৃষ্টিতে দেখতো, হয়তো তাতে মৌলিক পরিবর্তন ঘটিয়ে দেবে, মত এ বিশ্লেষকের। যে যুক্তরাষ্ট্র একসময় বিশ্বের কাছে নিজেকে স্থিতিশীলতার পক্ষের শক্তি হিসেবে হাজির করার চেষ্টা করতো, সেই দেশই এখন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ভিত নড়িয়ে দিচ্ছে। যে প্রেসিডেন্ট দেশের ভেতরকার রাজনীতির রীতিনীতি ও চর্চা ভেঙে আমোদ পেতেন, তিনি এখন বিশ্ব মঞ্চেও একই কাজে মত্ত।
যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়া ট্রুথ সোশাল পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সব সামরিক লক্ষ্য ‘পূরণ করেছে এবং অনেক বেশি কিছু অর্জন করেছে’। যুক্তরাষ্ট্রের আরও অনেক লক্ষ্য পূরণ নিয়েও সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে। পারমাণবিক অস্ত্র বানানোর মূল উপাদান ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কোথায় তা অজানা। ইয়েমেনের হুতিদের মতো আঞ্চলিক প্রঙিদের ওপরও তেহরানের প্রভাব থেকেই যাচ্ছে। এর বাইরে থাকছে হরমুজ প্রসঙ্গও। ইরান যদি শুল্ক বা অন্য কোনো উপায়ে অর্থ না নেওয়ার শর্তেও প্রণালিটি পুরোপুরি খুলে দেয়, তাও বিশ্ববাণিজ্য ও ভূ–রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ জলসীমার ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ এখন আগের চেয়ে আরও বেশি দৃশ্যমান হল।













