ইফতার মাহফিলে বিশৃঙ্খলায় শাস্তি পেলেন ৫ কর্মকর্তা-কর্মচারী

চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড

আজাদী প্রতিবেদন | শনিবার , ২ জুলাই, ২০২২ at ৫:৩৪ পূর্বাহ্ণ

ইফতার মাহফিলে শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের দায়ে ৫ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে শাস্তি দিয়েছে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষ। শাস্তিস্বরূপ তাদের প্রত্যেকের ২০২২ সালের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) স্থগিত করা হয়েছে। ২৮ জুন শিক্ষাবোর্ডের সচিব প্রফেসর আবদুল আলীম স্বাক্ষরিত পৃথক পৃথক প্রজ্ঞাপনে ৫ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে এ শাস্তি দেয়া হয়েছে। পাঁচজন হলেন- শিক্ষাবোর্ডের হিসাব শাখার সহকারী হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. ওসমান গণি, কলেজ শাখার স্টেনোগ্রাফার মো. নাসির উদ্দিন, কম্পিউটার শাখার সহকারী প্রোগ্রামার আবুল হাসনাত মো. রাজু আহম্মদ, সংস্থাপন শাখার অফিস সহকারী মো. জাহেদ হোসেন ও হিসাব শাখার অফিস সহকারী আইউব আলী। এই ৫ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে শাস্তি প্রদানের তথ্য আজাদীকে নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মোস্তফা কামরুল আখতার। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই ৫ জনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান।
এদিকে, ঘটনার পর দুই কর্মকর্তা মো. ওসমান গণি ও মো. নাসির উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তবে তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চূড়ান্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ায় তাদের দুজনের সাময়িক বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষাবোর্ডের সচিব প্রফেসর আবদুল আলীম। হাইকোর্টের রিট জালিয়াতি ও চেক জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির ঘটনায় এর আগেও দুইবার সাময়িক বরখাস্ত হয়েছিলেন ওসমান গণি (বর্তমানে সহকারী হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা)। জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে চাকরিতে যোগদানের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, কর্মচারী সংগঠনের নেতা হিসেবে দাপট দেখিয়ে বেড়ানো মো. নাসিরের বিরুদ্ধেও অসদাচরণসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।

শিক্ষাবোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ওসমান ও নাসির দুজনেই নামে-বেনামে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দিয়েছেন দুদকে (দুর্নীতি দমন কমিশনে)। সে অভিযোগ আমলে নিয়ে তা অনুসন্ধানের সিদ্ধান্তও নিয়েছে দুদক।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ এপ্রিল শিক্ষাবোর্ড মিলনায়তনে (৯ তলায়) ইফতার ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হয়। বোর্ডের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল আলীম ও বিভিন্ন শাখা প্রধানসহ বোর্ডের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এতে অংশ নেন।

শিক্ষাবোর্ড ও প্রত্যক্ষদর্শীর তথ্য মতে, ইফতারের আগ মুহুর্তে স্টেনোগ্রাফার মো. নাসিরের পাশে থাকা খালি চেয়ার টেনে নিয়ে বসতে যাচ্ছিলেন কম্পিউটার শাখার সহকারী প্রোগ্রামার আবুল হাসনাত মো. রাজু আহম্মদ। এসময় তাকে সেখানে বসতে বাধা দেন নাসির। ওই মুহুর্তে পাশ থেকে চিৎকার করে নাসিরের দিকে তেড়ে আসেন সহকারী হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ওসমান গণি। বেশ কিছুক্ষণ ধরে ওসমান গণি ও নাসিরের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একে অপরকে ধান্ধাবাজ, চোর-জালিয়াত বলে চিৎকার-চেঁচামেচি করেন। এক পর্যায়ে ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। কর্মচারী আবুল হাসনাত মো. রাজু, জাহেদ ও আইউব আলীও এতে যোগ দেন। বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, সকল শাখা প্রধান ও অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সামনেই তারা এ বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। হট্টগোল করেন। পরে কয়েকজন কর্মকর্তার

হস্তক্ষেপে তাদের নিবৃত্ত করা হয়। এ ঘটনার পরদিন (২৭ এপ্রিল) বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল আলীমের সভাপতিত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর জাহেদুল হক, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নারায়ণ চন্দ্র নাথ, বিদ্যালয় পরিদর্শক ড. বিপ্লব গাঙ্গুলী, উপ-পরিচালক (হি: ও নি:) মো. তাওয়ারিক আলমসহ সকল শাখা প্রধান বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। সভায় সর্বসম্মতিতে ইফতার মাহফিলে সংঘটিত ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়।

শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষ মনে করে, বোর্ডের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতিতে শিষ্টাচার বর্হিভূত ও চাকরির শৃঙ্খলা পরিপন্থী আচরণের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বোর্ডের সুনাম ও মর্যাদাহানি করেছেন। যা সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী অসদাচরণের শামিল। এহেন অসদাচরণের দায়ে ওসমান গণি ও নাসিরকে সাময়িক বরখাস্ত এবং অপর তিন কর্মচারীকে শোকজ করা হয়।

আর ঘটনা তদন্তে গঠন করা হয় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি। বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর জাহেদুল হককে আহবায়ক করে গঠিত কমিটিতে সদস্য হিসেবে রাখা হয় বোর্ডের উপ-পরিচালক (হিসাব ও নিরীক্ষা) মো. তাওয়ারিক আলম ও উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) নারায়ণ নাথকে। তদন্ত শেষে সমপ্রতি প্রতিবেদন জমা দেয় তিন সদস্যের এই কমিটি। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ৫ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষ।