নগরীর অ্যাপোলো ইমপেরিয়াল হাসপাতালে দ্বিতীয়বারের মতো জন্মগতভাবে জোড়া লাগানো (কনজয়েন্ট) জমজ শিশুর সফল সার্জারি সম্পন্ন হয়েছে। শিশু দুটির পেটের অংশ, নাভি ও ১১তম পাঁজরের হাড় জোড়া লাগানো ছিল। একই সাথে লিভারও সংযুক্ত ছিল। পরবর্তীতে সার্জারির মাধ্যমে জোড়া লাগানো অংশগুলো সফলভাবে আলাদা করা হয়েছে। জটিল এই সার্জারির নেতৃত্ব দেন হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আদনান ওয়ালিদ। এর আগে গতবছরের মে মাসে জন্মগত জোড়া লাগানো দুটি জমজ শিশুকে সার্জারির মাধ্যমে আলাদা করা হয়। পর পর এমন সাফল্যকে পুরো বাংলাদেশের শিশু সার্জারিতে বিরাট মাইলফলক বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ উপলক্ষে গতকাল বিকেলে অ্যাপোলো ইমপেরিয়াল হাসপাতালের মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সংবাদ সম্মেলনে হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও দৈনিক আজাদীর পরিচালনা সম্পাদক ওয়াহিদ মালেক বলেন, অ্যাপোলো ইমপেরিয়াল হাসপাতালে দ্বিতীয়বারের মতো জন্মগত জোড়া লাগানো জমজ শিশুর সফল সার্জারি সম্পন্ন হওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। এই ধরনের জটিল সার্জারি সফলভাবে সম্পন্ন করায় আমি চিকিৎসক–নার্সসহ সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। একইসাথে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি, ওই শিশুদের পরিবারের প্রতি, যারা আমাদের হাসপাতালের ওপর আস্থা রেখেছেন। আমাদের প্রথম থেকে অঙ্গীকার ছিল, আমরা অ্যাপোলো ইমপেরিয়াল হাসপাতালে বিশ্বমানের সেবা দিবো।
হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাফিদ নবী বলেন, গত বছরের মে মাসেও অ্যাপোলো ইমপেরিয়াল হাসপাতালে সফলভাবে জোড়া লাগানো শিশুর সফল সার্জারি হয়েছিল। এ বছর আবারও আমাদের হাসপাতাল সফলভাবে এমন জটিল সার্জারির মাইলফলক অর্জন করেছে। অথচ চট্টগ্রামে আগে কেউ কখনো জোড়া লাগানো শিশুর সার্জারির কথা চিন্তাও করতো না। এটি অ্যাপোলো ইমপেরিয়াল হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক টিমের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় সম্ভব হয়েছে। টিমের সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। একইসাথে আমাদের ওপর আস্থা রাখায় শিশুটির পরিবারকেও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আদনান ওয়ালিদ বলেন, সার্জারি সময় দেখা যায়–শিশু দুটির একটি সাধারণ নাভি, লিভারের একটি অংশ পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত এবং একটি সাধারণ ১১তম পাঁজর ছিল। তবে উভয় শিশুর বাইল ডাক্ট বা পিত্তনালির সংযোগ পৃথক ছিল। অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে প্রথমে শিশু দুটির সংযুক্ত লিভারের অংশ পৃথক করা হয়। এ সময় উভয় শিশুর পৃথক পিত্তনালি সুরক্ষিত রাখা হয়। এরপর সাধারণ ১১তম পাঁজর আলাদা করা হয়। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সংযুক্ত টিস্যু আলাদা করার পর শিশু দুটিকে সম্পূর্ণভাবে আলাদা করা সম্ভব হয়। পরে উভয় শিশুর পেটের দেয়ালের পুনর্গঠন করা হয়। সাধারণ নাভিটি একটি শিশুর সঙ্গে রাখা হয় এবং তার পেটের দেয়ালের পুনর্গঠনের সঙ্গে নাভিটি সংযুক্ত করা হয়। অন্য শিশুর পেটের দেয়ালও পুনর্গঠন করা হয়। ওই শিশুর নাভি পুনর্গঠন পরবর্তীতে প্রায় ছয় মাস পর পরিকল্পিতভাবে করা হবে। এর আগে বেসরকারি মেরিন সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জোড়া লাগানো শিশু দুটির সিজারিয়ান অপারেশন করেন অধ্যাপক ডা. কামরুন নেসা রুনা ম্যাডাম। একদিন পর অর্থাৎ গত ২৮ আগস্ট চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখান থেকে ওইদিন দিবাগত রাত ১ টায় শিশু দুটিকে অ্যাপোলো ইমপেরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে আসেন তাদের পরিবার। পরদিন অর্থাৎ ২৯ আগস্ট শনিবার দুপুরে প্রায় ৫ ঘণ্টার প্রচেষ্টায় সফল সার্জারি করা হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ধরনের জটিল অপারেশনের ক্ষেত্রে শিশু সার্জারির পাশাপাশি শিশু অ্যানেসথেশিয়া, নবজাত বিভাগ, নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা ইউনিট (এনআইসিইউ), নার্সিং বিভাগসহ সকলের সমন্বিত ভূমিকা ছিল। এছাড়া হাসপাতালের অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ও উন্নত ল্যাব সুবিধাও সফল সার্জারির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স এবং সংশ্লিষ্ট সকল স্বাস্থ্যকর্মীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে। তারা জানান, জটিল পরিস্থিতিতে অ্যাপোলো ইমপেরিয়াল হাসপাতালের চিকিৎসক দলের আন্তরিকতা ও নিবিড় পরিচর্যা তাদের আস্থা ও সাহস জুগিয়েছে।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন হাসপাতালের অ্যানেসথেশিয়া বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. কামরুল হাসান, হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হেলাল উদ্দিন, চিফ অফ মেডিকেল সার্ভিস ডা. ফজলে আকবর চৌধুরী এবং সহকারী মহাব্যবস্থাপক ডা. শাহেদ পারভেজ। এ সময় তারা এই সফল অস্ত্রোপচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অভিনন্দন জানান এবং জটিল শিশু রোগীদের জন্য উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন।










