চট্টগ্রাম আউটার রিং রোডের বাস্তবায়ন এবং যান চলাচলে গতি আনতে শহরে নতুন একটি ফ্লাইওভার নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। নগরীর ফিরিঙ্গিবাজারের কাছ থেকে নদীর পাড় দিয়ে এই ফ্লাইওভার নির্মাণ করে বারিক বিল্ডিং মোড়ে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সাথে যুক্ত করা হবে। এতে পতেঙ্গা থেকে ফৌজদারহাট হয়ে কালুরঘাট ঘুরে শাহ আমানত ব্রিজের পাশ দিয়ে বারিক বিল্ডিং হয়ে চক্রাকারে আবারো পতেঙ্গায় যাওয়া সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, পতেঙ্গা থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত আউটার রিং রোড নির্মাণ করা হয়েছে। বায়েজিদ ও অক্সিজেন হয়ে এই রোড ধরে যাওয়া যাচ্ছে কালুরঘাটে। কালুরঘাট থেকে নদীর পাড় দিয়ে শাহ আমানত ব্রিজ পর্যন্ত বাঁধ ও রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। এই রাস্তা শাহ আমানত সেতুর কাছে এসে যুক্ত হচ্ছে। অপরদিকে শাহ আমানত সেতু থেকে মেরিন ড্রাইভ হয়ে ফিরিঙ্গিবাজারের ভিতর দিয়ে একটি রাস্তা সদরঘাট হয়ে বারিক বিল্ডিং মোড়ে এসে শেখ মুজিব রোডের সাথে যুক্ত হয়েছে। কিন্তু ঘনবসতির কারণে শহরের ভিতর দিয়ে আসা রাস্তাটিতে দিনভর যানজট থাকে। এতে করে এই রাস্তাটিকে আউটার রিং রোডের অংশ হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। অথচ চট্টগ্রাম মহানগরীর মাস্টারপ্ল্যানে আউটার রিং রোড বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী, আউটার রিং রোড চক্রাকারে বাস্তবায়ন করা না গেলে শহরের যান চলাচলে প্রত্যাশিত গতি আসবে না। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সিডিএ আউটার রিং রোড প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য নতুন করে পরিকল্পনা নেয়। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শাহ আমানত সেতু থেকে মেরিন ড্রাইভ রোড যে পয়েন্টে ফিরিঙ্গিবাজারের দিকে প্রবেশ করেছে, সেখান থেকে একটি ফ্লাইওভার নির্মাণ করে নদীর পাড় দিয়ে বারিক বিল্ডিং মোড়ে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সাথে যুক্ত করা হবে। ফিরিঙ্গিবাজার থেকে বারিক বিল্ডিং মোড় পর্যন্ত নদীর পাড় দিয়ে সরকারি-বেসরকারি যে কয়েকটি জেটি রয়েছে সেগুলো নিচে থাকবে, উপর দিয়ে ফ্লাইওভার নেয়া হবে। নিচে জেটির কার্যক্রমে যাতে ব্যাঘাত না ঘটে তা নিশ্চিত করা হবে। এখানে ২.৭ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল ফ্লাইওভারসহ ৩ কিলোমিটারের বেশি অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে। এই ফ্লাইওভারের সাথে সদরঘাট ও বারিক বিল্ডিং মোড়ে দুটি র্যাম্প যুক্ত করা হবে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েসহ আউটার রিং রোডে চলাচলে কানেক্টিভিটি বাড়ানোর জন্য র্যাম্প দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস আজাদীকে বলেন, আমরা নতুন একটি ফ্লাইওভার
নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছি। ডিপিপি তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠাব। এই ফ্লাইওভারটি নির্মাণ করা হলে নগরীর আউটার রিং রোডের ব্যাপারটি পুরোপুরি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এতে শহরের যান চলাচলে প্রত্যাশিত গতি আসবে।











