আমেরিকার নার্সারি স্কুলে গুলি ১৯ শিশু ও ২ শিক্ষক নিহত

‘গান লবির বিরুদ্ধে দাঁড়াতে’ বাইডেনের আহ্বান

| বৃহস্পতিবার , ২৬ মে, ২০২২ at ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের একটি এলিমেন্টারি স্কুলে এক বন্দুকধারীর গুলিতে ১৯ জন শিক্ষার্থী ও ২ শিক্ষক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অনেকেই। টেক্সাসের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার এই ঘটনা ঘটে। হামলায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে অভিযুক্ত বন্দুকধারী কিশোরের। রাজ্যটির গভর্নর একটি বিবৃতির মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছেন।

টেক্সাস প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ইউভালডে কাউন্টির প্রাথমিক স্কুলে গুলির ঘটনায় অভিযুক্ত কিশোরের নাম সালভাদর রামোস (১৮)। গত মঙ্গলবার একটি হ্যান্ডগান এবং রাইফেল নিয়ে স্কুলে ঢুকে গুলি চালাতে শুরু করে সে। ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন ২১ জন। এছাড়াও অনেকে আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।

ওই কিশোরের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে রাজ্যটির প্রশাসন। তবে আহতদের মধ্যে দু’জন পুলিশ কর্মকর্তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা যায়। দেশটির সংবাদমাধ্যমের দাবি, টেক্সাসের ইতিহাসে এ ধরনের হামলা আগে কখনও হয়নি। এমনকি, গত এক দশকের মধ্যে আমেরিকার ইতিহাসে এটিই অন্যতম বড় হামলা। ঘটনার পর টুইট করে শোকবার্তা জানান টেক্সাস গভর্নর। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যবাসীকে একজোট হয়ে থাকারও আর্জি জানিয়েছেন তিনি। হোয়াইট হাউসের তরফে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবারের হামলার নিহতদের পরিবারের প্রতি শোক ব্যক্ত করতে ২৮ মে অবধি সূর্যাস্ত পর্যন্ত জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন।

গান লবির বিরুদ্ধে : এদিকে বিডিনিউজ জানায়, টেঙাসে স্কুলে গুলির ঘটনায় ১৯ শিশু ও ২ শিক্ষক নিহতের পর প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের দেশটির শক্তিশালী ‘গান লবির’ বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। এশিয়া সফর শেষে দেশে ফিরে মঙ্গলবার তিনি বন্দুক নিয়ে সংবেদনশীল আইন পাসে কংগ্রেসের সদস্যদের ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

বাইডেন বলেন, জাতি হিসেবে, নিজেদের কাছেই আমাদের প্রশ্ন করা উচিত, ঈশ্বরের নামে কখন আমরা গান লবির বিরুদ্ধে দাঁড়াবো। ঈশ্বরের নামে কখন আমরা সেটা করবো, যা করা দরকার বলে আমরা সবাই জানি। আমি ক্লান্ত ও বিরক্ত। আমাদের কিছু করতেই হবে। আমাকে বলবেন না যে, এই হত্যাযজ্ঞ বন্ধে আমাদের কিছু করার নেই। নিহত ‘সুন্দর, নিষ্পাপ’ শিক্ষার্থীদের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আমি আশা করেছিলাম, আমি যখন প্রেসিডেন্ট হবো, আমাকে এরকমটা ফের আর করতে হবে না।

জীবনে একাধিক পারিবারিক দুর্ঘটনার সাক্ষী এ মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিহত শিশুদের মা-বাবাদের কথা উল্লেখ করে বলেন, তারা আর কখনো তাদের সন্তানদের দেখবে না, কখনোই ওই সন্তানরা বিছানায় ঝাঁপিয়ে পড়বে না, জড়াজড়ি করে থাকবে না। আরেকটা ‘নির্বিচার গোলাগুলি’ দেখার পর যে ‘ক্ষমতাহীনতার অনুভূতি’ হয়, তার বিরুদ্ধে লড়তে মার্কিনিদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন বাইডেন।

যুক্তরাষ্ট্রে ‘নির্বিচার গোলাগুলির’ ঘটনার পর প্রায়ই বিক্ষোভ ও ডেমোক্র্যাট রাজনীতিকদের প্রতি বন্দুক নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাতে দেখা যায়; কিন্তু রিপাবলিকানদের শক্ত বাধার মুখে অন্যান্য দেশের মতো কঠোর সুরক্ষার পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ ভেস্তে যায়। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, মঙ্গলবার রাতে বাইডেন বন্দুক নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুললেও তিনি কী কী পদক্ষেপ নিতে চান সে বিষয়ে কিছু বলেননি; এ বিষয়ে কংগ্রেসে ভোট বা সুনির্দিষ্ট কোনো নীতি গ্রহণের আহ্বানও জানাননি তিনি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধরোদ-বৃষ্টির লুকোচুরিতে সাকিব ঝলক
পরবর্তী নিবন্ধ‘গোপন একটা বিষয় আছে’