আমিন জুট মিলস ও এশিয়াটিক কটন মিলস আবারও চালু করা হবে

পরিদর্শনকালে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী

আজাদী প্রতিবেদন | শুক্রবার , ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ at ১০:০০ পূর্বাহ্ণ

বন্ধ থাকা আমিন জুট মিলস ও এশিয়াটিক কটন মিলস আবারও চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে মিল দুটি পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী। এসময় উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি বলেন, পরিদর্শনের মূল উদ্দেশ্য হল, আমরা এই মিলগুলো প্রাইভেট সেক্টরের বিনিয়োগকারীদের মাধ্যমে আবার চালু করতে চাই। চালু হলে সেখানে স্থানীয় পর্যায়ের মানুষের কর্মসংস্থান হবে। দেশি–বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আসবে। কর্মসংস্থানের পাশাপাশি জাতীয় ও স্থানীয় অর্থনীতিতে অনেক অবদান রাখবে।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশনের (বিজেএমসি) চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কবির উদ্দিন সিকদার ও বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস কর্পোরেশনের (বিটিএমসি) চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম জাহিদ হাসান। পরিদর্শনকালে পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী আমিন জুট মিলস ও এশিয়াটিক কটন মিলস–এর সার্বিক কার্যক্রম, বিদ্যমান অবকাঠামো, উৎপাদন সক্ষমতা এবং উন্নয়নের সম্ভাবনা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এসময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মিল দুটির বর্তমান অবস্থা, কার্যক্রম এবং বিদ্যমান সুযোগ–সুবিধা সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রীকে অবহিত করেন।

আমিন জুট মিলস প্রসঙ্গে মো. শরীফুল আলম বলেন, এই মিলকে উৎপাদনমুখী করার সম্ভাবনা যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

মিলটির বিদ্যমান অবস্থা, উৎপাদন সক্ষমতা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা পর্যালোচনার মাধ্যমে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন, যাতে প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কার্যকর অবদান রাখতে পারে। এই মিলকে কীভাবে পুনরায় উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা যায়, কীভাবে এই মিলের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা যায় এবং দেশের অর্থনীতিতে এর অবদান নিশ্চিত করা যায়, তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাট বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী অর্থকরী ফসল। পাট ও পাটজাত পণ্যের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পাটশিল্পকে আরো গতিশীল করা গেলে কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ উপকৃত হবেন। পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং দেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতেও এই খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

শরীফুল আলম বলেন, বন্ধ শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালুর সম্ভাবনা কাজে লাগানো গেলে দেশের বেকার জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং শিল্প খাতে নতুন গতির সঞ্চার হবে। তিনি বলেন, শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, উৎপাদন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বিদ্যমান সম্পদের কার্যকর ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বাস্তব অবস্থা পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে শিল্প খাতের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা সম্ভব হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বন্ধ বস্ত্রকল, পাটকল ও টেঙটাইল মিলগুলো চালু করা সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার। এসব শিল্পকারখানাকে পুনরায় উৎপাদনমুখী করার মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বেকারত্ব হ্রাস এবং দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে শিল্প খাতের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশের শিল্পকারখানা গুলোকে শুধু অবকাঠামোগত স্থাপনা হিসেবে বিবেচনা করলে চলবে না; এগুলোকে উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কার্যকর কেন্দ্রে পরিণত করতে হবে। এ জন্য বিদ্যমান সুযোগ–সুবিধা, উৎপাদন সক্ষমতা এবং বাস্তবসম্মত পরিকল্পনার ভিত্তিতে শিল্প কারখানাগুলো চালুর সম্ভাবনা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকওমি ঘরানার ৭ দলের জোট
পরবর্তী নিবন্ধ‘ককরোচদের ডাকা বিক্ষোভে যাইনি,’দিল্লি হাই কোর্টে বললেন নেহা বোরা