আমরা শংকিত, ওদের নির্মূল করা হোক

সালাহউদ্দীন শাহরিয়ার | শনিবার , ২ জুলাই, ২০২২ at ৫:১১ পূর্বাহ্ণ

আমি নিজে একজন রাজনৈতিক কর্মী, দীর্ঘদিন ছাত্ররাজনীতি করেছি, স্কুল কলেজ থেকে মেধাবী রাজনৈতিক কর্মী সংগ্রহ করতাম দলের জন্য, কিন্তু কখনও অভিভাবক বা শিক্ষকরা আমাদের দেখে ভয় পেতেন না। কিন্তু এখনকার চিত্র ভিন্ন, আমার ছেলেটি একটি স্বনামধন্য সরকারি স্কুলে পড়ে কিন্তু আমি প্রতিদিন শংকিত থাকি স্কুলে পাঠিয়ে, কোনো কিশোর গ্যাং এর কুদৃষ্টি যদি আমার ছেলের উপর পড়ে এই ভয়ে, কারণ তাকে প্রায় বলতে শুনি স্কুলের বাইরে অমুক ভাইয়ের গ্রুপ না করায় একটা ছেলেকে অন্যরা পিটিয়েছে। এটি বাংলাদেশের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চিত্র। বাংলাদেশের অনেক জায়গায় কিশোর গ্যাং এর হাতে হতাহত হয়েছে, অনেকেই হয়েছে লাঞ্ছিত।

শিক্ষকরাও তাদের ভয়ে শংকিত থাকে, কারণ তারা তো শিক্ষকদের শ্রদ্ধা করতে শিখেনি, স্কুল থেকে বের হলে যদি লাঞ্ছিত করে। সেই শংকাটাই সত্যি হয়ে গেলো ইভটিজিং এ বাধা দেওয়ায় ছাত্রের হাতে জীবন দিতে হলো শিক্ষক উৎপল কুমার কে। তারা শুধু একজন শিক্ষক উৎপল কুমারকে হত্যা করেনি তারা ছুরিকাঘাত করেছে আপনার আমার আস্থার উপর।

রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় কিশোর গ্যাং এবং ইভটিজাররা এখন অভিভাবক, শিক্ষক, ছাত্র সকলের জন্য মূর্তিমান আতংক। এদের এখনি রুখতে হবে দলমত নির্বিশেষে। কঠোর আইন করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে, অপ্রাপ্ত বয়স্ক এই অজুহাতে যেন পাড় পেয়ে না যায় এসব অপরাধী।

আর এদের দমন শুরু হোক শিক্ষক উৎপল কুমার হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে। অভিভাবক-শিক্ষক সকলে আমরা শংকামুক্ত থেকে আমাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে চাই।

আমি নিরাশবাদী নই, আমি আশাবাদী- অমাবস্যার কৃষ্ণ কালো রাত পেরিয়ে প্রভাতের আলোকিত সূর্য উঠবেই, শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ হবে কিশোর গ্যাং ইভটিজার মুক্ত।