বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ গণিত প্রতিযোগিতা ‘সিঙ্গাপুর ইন্টারন্যাশনাল ম্যাথ অলিম্পিয়াড চ্যালেঞ্জ (SIMOC) ২০২৬’-এ অংশ নিয়ে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা। বিশ্বের ৪০টি দেশ ও অঞ্চলের ১,১১৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২,২৮৫ জন প্রতিযোগীর সঙ্গে লড়াই করে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল ৭টি স্বর্ণ, ১টি রৌপ্য ও ২টি ব্রোঞ্জসহ মোট ৯টি আন্তর্জাতিক পদক অর্জন করেছে।
গত ২১ জুলাই সিঙ্গাপুরের মেরিনা বে স্যান্ডস এক্সপো অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টারে এই বৈশ্বিক আসরে অংশ নেওয়া তরুণ গণিতপ্রেমীরা ব্যক্তিগত মেধা প্রকাশের পাশাপাশি দলগত দক্ষতা, কৌশলগত চিন্তাভাবনা ও সমস্যা সমাধানের সামর্থ্যের পরিচয় দিয়েছে। প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা মূল তিনটি ক্যাটাগরি—’Math Olympiad’, ‘Math Warriors’ এবং ‘Math Master Mind’-এ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।
স্বর্ণপদক পাওয়া ছয় জনের মধ্যে দু্ইজন চট্টগ্রাম আল হিদায়া ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষার্থী ড্যানিয়েল হোসাইন ইবনে মাহমুদ (প্রথম শ্রেণি) ও মেহেজাবিন ইসলাম মানহা (৮ম শ্রেণি)।
জাঁকজমকপূর্ণ এই অনুষ্ঠানে ২৫টি দেশের রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিক, শিক্ষা প্রতিনিধি ও আয়োজক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।বাংলাদেশের পক্ষে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিয়াডস বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মো. তানভীরুল হক, সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের ভারপ্রাপ্ত চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ও বাণিজ্য কাউন্সিলর লুৎফুন নাহার এবং দ্বিতীয় সচিব শেখ মো. ফয়সাল।
মানহার বাবা ব্যবসায়ী মো. মোরশেদুল ইসলাম বলেন, মেয়ের এই আন্তর্জাতিক অর্জন আমাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত গর্ব ও আনন্দের।চট্টগ্রাম থেকে এ ধরণের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের দুর্লভ সুযোগ করে দেয়ার জন্য ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিয়াড বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।তাদের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা প্রশংসার যোগ্য।আসলে এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ না করলে জানতেই পারতামনা বিশ্ব শিক্ষাগত কৌশল ও জ্ঞানে কত এগিয়ে গেছে।সারাবিশ্বের মেধাবী ছেলেমেয়েদের সাথে এই প্রতিযোগিতা আমার সন্তানের ক্যারিয়ারে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে আমার বিশ্বাস।
ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিয়াড বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা মো. তানভীরুল হক বলেন, আমরা বিশ্বব্যাপি প্রায় ৫০ টিরও অধিক অলিম্পিয়াডস আয়োজক সংগঠনের সহযোগী অংশীদার।প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিয়াডস বাংলাদেশ দেশের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক গণিত, বিজ্ঞান, ইংরেজি, ইনফরমেটিক্স, রোবটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), উদ্ভাবনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াড ও একাডেমিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করে আসছে। আমাদের সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনায় ছোট্ট মেধাবীরা এযাবত দারুণ সব সাফল্য দেখিয়ে আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, জাপান. সিংগাপুর থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ডায়মন্ড ও গোল্ড, সিলভার এওয়ার্ড নিয়ে এসেছে। গত এক বছরে চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৪ জন স্বর্ণপদক, ৯ জন রৌপ্যপদক ও ৬ জন ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে।












