কক্সবাজারের পেকুয়ায় শিলখালী জারুলবুনিয়া সেগুন বাগিচা এলাকার আলোচিত জসিম উদ্দিন হত্যা মামলার প্রধান আসামি স্ত্রী সেলিনা আক্তারকে (৪২) গ্রেপ্তার করেছে পেকুয়া থানা পুলিশ। গত শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পেকুয়া থানার এসআই সুনয়ন বড়ুয়ার নেতৃত্বে কক্সবাজারের পিটি স্কুল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেখানে তিনি দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপন করে ছিলেন।
পেকুয়া থানা সূত্রে জানা যায়, শিলখালী ইউনিয়নের সেগুন বাগিচা এলাকায় গত বছরের ১০ আগস্ট গভীর রাতে নিজ ঘরে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন জসিম উদ্দিন। সেলিনা আক্তারের সাথে একই এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে আব্দুর রাজ্জাকের পরকীয়া সম্পর্কের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। ঘটনার রাতে আব্দুর রাজ্জাকের সাথে সেলিনাকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলায় পরকীয়া প্রেমিক ও স্ত্রী মিলে স্বামী জসিম উদ্দিনকে কুপিয়ে হত্যা করে। প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দিতে স্ত্রী সেলিনা ভিন্নভাবে গল্প সাজিয়ে পরের দিন নিজেই বাদী হয়ে প্রতিবেশীকে ফাঁসিয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে পেকুয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই দিন পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে ২ প্রতিবেশী মনছুর আলম ও জহির আলমকে আটক করে। সে সময় সেলিনা আক্তার দাবি করেন, প্রতিবেশী সৌদি প্রবাসী মনির ইসলামের মেয়ে উর্মির সাথে তার মালয়েশিয়া প্রবাসী ছেলে ইফতেখারের প্রেমের সম্পর্কের জের ধরে উর্মির চাচা মনছুর আলমসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজন গভীর রাতে ঘরে ঢুকে স্বামী জসিম উদ্দিনকে হত্যা করে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সুনয়ন বড়ুয়া হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে ব্যাপক তদন্ত চালিয়ে যান। এতে সামনে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তে জসিম উদ্দিনের হত্যাকাণ্ডে স্ত্রী সেলিনা আক্তার ও পরকীয়া প্রেমিক আবদুল রাজ্জাকের সম্পৃক্ততার স্পষ্ট প্রমাণ খুঁজে পায়। স্থানীয়দের বক্তব্য এবং ঘটনার সময়ের আচরণ বিশ্লেষণ করে পুলিশ নিশ্চিত হয় সেলিনা আক্তারের বক্তব্য ছিল সাজানো ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন নিহতের স্ত্রী সেলিনা আক্তার (৪২) ও পরকীয়া প্রেমিক আব্দুর রাজ্জাক। পরকীয়া সম্পর্ক আড়াল করতে স্বামীকে কুপিয়ে হত্যার পর প্রতিবেশীদের ফাঁসাতে সাজানো হয়েছিল বানোয়াট মামলা। ঘটনার ১ মাস ৭ দিন পর প্রকৃত ঘটনা উল্লেখ করে নিহত জসিম উদ্দিনের বাবা মো. নুর আহমদ বাদী হয়ে সেলিনা আক্তারকে প্রধান আসামি ও পরকীয়া প্রেমিক আব্দুর রাজ্জাকসহ ৩ জনের নাম উল্লেখ করে পেকুয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা নিশ্চিত হয়ে অবশেষে সেলিনাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। ওই মামলায় দীর্ঘদিন সেলিনা আক্তার পলাতক ছিলেন।
এ বিষয়ে পেকুয়া থানার ওসি খাইরুল আলম বলেন, শিলখালী এলাকার স্বামী হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত সেলিনা আক্তারকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ডে আবেদন করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।












