আগামী দুই বছর কঠিন হবে, অজনপ্রিয় সিদ্ধান্তও নিতে হতে পারে

সংসদে অর্থমন্ত্রী অর্থনীতিকে টেনে তুলতে হলে কঠিন সংস্কার ও নিয়ন্ত্রণ শিথিল করতে হবে বিএনপির কোনো ব্যাংক নেই, কাদের আছে তা মানুষ জানে

| শুক্রবার , ১ মে, ২০২৬ at ৯:৪৩ পূর্বাহ্ণ

দেশের অর্থনীতি এখন গভীর সংকটে আছে তুলে ধরে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে আগামী দুই বছর কঠিন সময় যেতে পারে। তিনি এও বলেছেন, এই সময়ে সরকারকে এমন কিছু সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ নিতে হবে, যা জনপ্রিয় নাও হতে পারে।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, আমাদের দুই বছর হয়তো কষ্ট করা লাগবে। আগামী দুই বছর কঠিন হবে। অনেকগুলো সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অনেকগুলো পদক্ষেপ নেব, যেগুলো জনপ্রিয় নাও হতে পারে।

সংসদে অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থনীতিকে এমন এক নিম্নস্তরে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে, যেখান থেকে একে আবার ওপরে তুলতে হলে কঠিন সংস্কার ও নিয়ন্ত্রণ শিথিল করতে হবে এবং কাঠামোগত পরিবর্তন আনতেই হবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশে খেলাপি ঋণ এখন ৩০ শতাংশের ওপরে চলে গেছে। তার মতে, কোনো দেশের খেলাপি ঋণ যখন ৩০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়, তখন অর্থনীতির গতি প্রায় থেমে যাওয়ার উপক্রম হয়। তিনি বলেন, বিএনপি সরকারের শেষ সময়ে এই হার ছিল ১৩ শতাংশ। খবর বিডিনিউজের।

আমির খসরু বলেন, সংসদে বিএনপির অনেক সদস্যকে ঋণখেলাপি হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ঋণ পুনঃতফসিলকরণ এটা ব্যবসাবাণিজ্য, ব্যাংকিং কালচারের মধ্যে সাধারণ প্রক্রিয়া। এটা বিএনপি আবিষ্কার করে নাই। যেদিন থেকে ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু হয়েছে, সেদিন থেকেই ঋণ তফসিলীকরণের ব্যবস্থা আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

গেল ৬ এপ্রিল সংসদে অর্থমন্ত্রী দেশের শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির তালিকা সংসদে তুলে ধরেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের ব্যাংকিং খাতে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। ঋণ খেলাপি হওয়ার ব্যাখ্যায় আমির খসরু বলেন, ব্যবসায়িক বাস্তবতায় যেমন ঋণ পুনঃতফসিলের প্রয়োজন হয়, তেমনি রাজনৈতিক নির্যাতনের কারণেও অনেকে সে অবস্থায় পড়েন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, গত দীর্ঘ ১৭ বছরের বিএনপির আন্দোলনসংগ্রামে বিএনপির যারা ব্যবসায়ী আছে তারা কেউ ব্যবসা করতে পারে নাই। তিনি বলেন, তাদেরকে ব্যাংকের অনুমোদন করা ঋণ পর্যন্ত দেওয়া হয় নাই। ঋণ অনুমোদন হয়ে গেছে, কিন্তু ঋণ দেওয়া হবে না। ঋণের সময় যখন শেষ হয়ে গেছে, ঋণের মেয়াদ বাড়িয়ে দেওয়া হবে না।

অর্থমন্ত্রী বলেন, তাদের অনেকের অনুমোদিত ঋণ ছাড় হয়নি, ঋণের মেয়াদ বাড়ানো হয়নি, গ্যাসবিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়া হয়েছে। বিএনপির অনেক নেতাকর্মী বাড়িতে থাকতে পারেননি, অনেকে পালিয়ে বেড়িয়েছেন, কারও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে, আবার অনেকে কারাগারে ছিলেন। তিনি বলেন, এখন জেলে বসে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করা কি এত সহজ ব্যাপার?

আমির খসরু মাহমুদ বলেন, প্রচার আছে, কিছু রাজনৈতিক দলের নিজস্ব ব্যাংক আছে। যাদের ব্যাংক আছে, তারা নিজেদের পছন্দের লোককে চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা অন্য পদে বসাতে পারেন। কিন্তু বিএনপির সে সুযোগ নেই। তিনি বলেন, বিএনপির কোন ব্যাংক নাই।

অর্থমন্ত্রী যোগ করেন, যাদের, যেই দলের ব্যাংক আছে তারা তো তাদের পছন্দের ব্যাংকের চেয়ারম্যান বানিয়েছেন, তাদের পছন্দের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর বানিয়েছেন, তাদের পছন্দের লোক নিয়োগ করেছেন। আবার তাদের অপছন্দের লোককে চাকরিচ্যুত করেছেন। এই কাজটি তো বিএনপি করতে পারবে না।

রাষ্ট্রপতির প্রসঙ্গ ধরে আমির খসরু বলেন, রাষ্ট্রপতির প্রতি ব্যক্তিগত ভালোবাসা থাক বা না থাক, রাষ্ট্রপতি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। তাই ব্যক্তি হিসেবে নয়, প্রতিষ্ঠান হিসেবে রাষ্ট্রপতিকে সম্মান করতে হবে। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ইজ অ্যান ইনস্টিটিউশন। অর্থমন্ত্রীর ভাষায়, আপনি যদি কনস্টিটিউশনাল ডেমোক্রেসি বিশ্বাস করেন, আপনাকে ইনস্টিটিউশনকে সম্মান করতে হবে। তিনি বিরোধী দলের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, যারা রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে শপথ নিয়েছেন, তারাই এখন বিরোধী দলে বসে সেই প্রতিষ্ঠানের সম্মান অস্বীকার করছেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের শান্তিপূর্ণ বসবাস নিশ্চিত করতে চায় সরকার : প্রধানমন্ত্রী
পরবর্তী নিবন্ধভারী বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় লণ্ডভণ্ড লবণ মাঠ