গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ যেতে বসেছিল যে দলটি তারাই সিডিএফএ মেয়র অনূর্ধ্ব–১৩ একাডেমি কাপ ফুটবলের শিরোপা জয় করে নিয়েছে। গতকাল চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফাইনালে রামপুর ফুটবল একাডেমি ৩–১ গোলে আকুবদন্ডী ফুটবল একাডেমিকে পরাজিত করে। মূলত গ্রুপ পর্বে ৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ছিল একরাম ফুটবল একাডেমি। কিন্তু তারা অবৈধ খেলোয়াড় খেলানোর কারণে কপাল খুলে যায় রামপুর ফুটবল একাডেমির। বাদ পড়ে একরাম একাডেমি। ৬ পয়েন্ট নিয়েও গ্রুপ শীর্ষ হয়ে পরবর্তী রাউন্ডে চলে যায় রামপুর। শেষ পর্যন্ত শিরোপাও করায়ত্ব করে নিল তারা।
গতকাল শুক্রবার বিকালে চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে নারীসহ বিপুল সংখ্যক দর্শকের উপস্থিতিতে ক্ষুদে ফুটবলারদের দুর্দান্ত ফুটবল শৈলী প্রদর্শিত হয়। প্রথমে আক্রমন–প্রতি আক্রমনে খেলা শুরু হলেও খেলার ৭ মিনিটে এগিয়ে যায় রামপুর। ডানদিকে গড়ে উঠা আক্রমন থেকে বক্সে ঢুকে আড়াআড়ি শটে বল জালে প্লেজ করে রামপুরের অংকুর দাশ। ১–০ গোলে এগিয়ে যায় তারা। এ গোলের পর আকুবদন্ডীর খেলোয়াড়রা গোল পরিশোধের চেষ্টা চালাতে থাকে। চাপ সৃষ্টি করতে থাকে তারা। আকুবদন্ডী বেশ কয়েকটি আক্রমন শানায় রামপুরের গোল অভিমুখে। কিন্তু তা থেকে গোল হয়নি। ব্যাকভলিতে তাদের একটি গোলের প্রচেষ্টা অবশ্য রুখে দেয় রামপুর কিপার। প্রথমার্ধে ১–০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় রামপুর। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই একটি নিশ্চিত গোল মিস করে তারা। এ অর্ধের ১১ মিনিটে খেলায় সমতা আনে আকুবদন্ডী। পায়েলের পাস থেকে আব্বাসউদ্দিন মিনহাজ ডি বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের নিপুন শটে বল জালে জড়ায় (১–১)। কিন্তু বেশিক্ষণ এ স্কোর লাইন বজায় থাকেনি। এ অর্ধের ১৬ মিনিটের মাথায় একটি ফ্রি কিক পায় রামপুর। প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে দলীয় অধিনায়ক মাহফুজুর রহমান মাহি’র নেয়া দুর্দান্ত শট সবাইকে অবাক করে জালে গিয়ে পৌঁছে (২–১)। উল্লাসে মেতে উঠে রামপুরের সমর্থকরা। আকুবদন্ডী এরপর খেলায় ফিরে আসতে বেশ কবার প্রচেষ্টা নেয়। কিন্তু তা ব্যর্থ হয়। উপরন্তু খেলার ইনজুরি টাইমে কফিনে শেষ পেরেক টুকে দেয় রামপুরের নুরুল হুদা তানভীর। আকুবদন্ডীর একটা পাল্টা আক্রমন থেকে বল পেয়ে একক প্রচেষ্টায় এগিয়ে যাওয়া তানভীর ডিফেন্স এবং কিপারকে কাটিয়ে বল জালে ঠেলে দেয় (৩–১)। এ গোলের পর আকুবদন্ডীর আর করার কিছুই ছিল না। রানার আপ ট্রফি নিয়েই বাড়ি ফিরতে হয় তাদের। ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয় রামপুর ফুটবল একাডেমির অংকুর দাশ।
খেলা শেষে সিডিএফএ সভাপতি শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আ ন ম ওয়াহিদ দুলালের সঞ্চালনায় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়। তবে স্টেজে বিপুল সংখ্যক অনাহূত ব্যক্তিকে অতিথিদের সারিতে দাঁড়িয়ে যেতে দেখা গেছে। যা ছিল দৃষ্টিকটু। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে পুরস্কার বিতরন করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। সিটি মেয়র তাঁর বক্তব্যে আগামীতে মেয়র কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের ঘোষণা দেন। তিনি একাডেমি কাপ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন ও রানাসআপ দলকে যথাক্রমে ৩০,০০০ টাকা ও ২০,০০০ টাকা প্রাইজমানি দেওয়ার ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক আকরাম খান, সিজেকেএস অ্যাডহক কমিটির সদস্য সচিব হাজী মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, সিডিএফএ সহ সভাপতি নজরুল ইসলাম লেদু ও মোহাং শাহাজাহান, সিজেকেএস ক্লাব সমিতির সাধারণ সম্পাদক, সৈয়দ শাহাবুদ্দীন শামীম, সহ সভাপতি আমিনুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ আবদুল হান্নান আকবর, বাফুফে প্রতিনিধি মাহাবুবুর রহমান পলো, সিডিএফএ নির্বাহী সদস্য মাহমুদুর রহমান মাহবুব, হারুন উর রশিদ, কাজী জসিম উদ্দিন, সাইফুল আলম খান, আবু সৈয়দ মাহামুদ, মো. সরওয়ার আলম মনি, যুগ্ম সম্পাদক ইয়াছিন আরাফাত পাবলু ও সালাউদ্দিন জাহেদ, সিজেকেএস কাউন্সিলর মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, সাজিব বিকাশ বড়ুয়া টুটুল, এ এস এম সাইফুদ্দিন, ইঞ্জি. জসিম উদ্দিন, নাসির মিঞা, সোহেল আহমেদ, রায়হান উদ্দীন রুবেল, সামিউল হাসান রুম্মন, শারীরিক শিক্ষা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এস এম বাবর, সিডিএফএ কাউন্সিলর আইনুল কবির জিতু, আবদুল মোমেন বাবু, মোহাম্মদ জহির, আলী আকবর, ক্রীড়া সংগঠক মোশারফ হোসেন লিটন প্রমুখ।












