বাঁশখালী উপজেলায় রাতের আঁধারে অবৈধভাবে মাটি কাটার বিরুদ্ধে পরিচালিত মোবাইল কোর্ট অভিযানের তথ্য পাচারের অভিযোগে তিনজনকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গত রোববার দিবাগত রাত থেকে (২ মার্চ সোমবার) ভোর রাত পর্যন্ত মাটি কাটার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ওমর সানি আকনের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এ সময় সরলের জালিয়াঘাটা এলাকায় মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনাকালে যথারীতি অভিযানের আগাম তথ্য পেয়ে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করলেও পরবর্তীতে পুরো এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে একাধিক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় মো. রিদুয়ান (২৯), নুরুল আলম (৪৫) ও মো. ইব্রাহিম (৪৫)-এর ফোনকল রেকর্ডে অভিযানের তথ্য সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেন, দীর্ঘদিন ধরে মোবাইল কোর্ট অভিযানের খবর পেয়ে মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের ফোনে সতর্ক করে পালিয়ে যেতে সহায়তা করতেন তারা। বিনিময়ে এ চক্রটি মাটি কাটার লভ্যাংশ ভোগ করত। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনার সময় উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে মাটি কাটার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের আগাম সতর্কবার্তা দিয়ে আসছিল। ফলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মোবাইল কোর্ট টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও একাধিকবার অভিযান ব্যর্থ হয়। অভিযানের তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ায় মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত এঙক্লেভেটর ও মিনি ড্যাম্পার ট্রাক নিয়ে পালিয়ে যায়। এদিকে ঘটনায় বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে মো. রিদুয়ানকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং নুরুল আলম ও মো. ইব্রাহিমকে ১৫ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।অভিযানের ব্যাপারে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ওমর সানি আকন বলেন, গভীর রাতে উপজেলার ২ টি স্থানে মাটি কাটার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মো.রিদুয়ানকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং নুরুল আলম ও মো. ইব্রাহিমকে ১৫ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। তিনি বলেন,এলাকার পরিবেশের স্বার্থে প্রশাসনের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। কৃষি ও প্রকৃতি বাঁচাতে মাটি কাটার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ তৈরি করতে তিনি সকলের প্রতি আহবান জানান।









