অপতথ্য প্রতিরোধে আইনি সুরক্ষাই যথেষ্ট নয়, এজন্য সামাজিক ও রাজনৈতিক সচেতনতা গড়ে তোলা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। অপতথ্য রোধে সরকার নতুন ‘সাইবার সুরক্ষা আইন’–এর আইনি পরিকাঠামো প্রণয়নে কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে অংশীজনদের নিয়ে মতবিনিময় শুরু হয়েছে। আরও মতবিনিময় হবে। পাশাপাশি দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। খবর বাসসের।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বর্তমানে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। নৈরাজ্য (এনার্কি) অবস্থা থেকে দেশ বের হয়ে আসা একটি বড় উন্নয়ন। নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় থাকার কারণেই দেশে এই রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।
সম্প্রতি রাড্ডা এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের প্রতিষ্ঠানে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেখানে কোনো চাঁদাবাজির ঘটনা না ঘটলেও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সময় পুলিশের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রাড্ডার ঘটনায় তদন্ত চলছে এবং যদি সিসিটিভি ফুটেজে কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে, এ বিষয়ে সরকার আইনি পদক্ষেপ নেবে।
সালমান মুক্তাদিরের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে উপদেষ্টা বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে তার প্রতি আমাদের সহানুভূতি রয়েছে। তবে সেখানে চাঁদাবাজির ঘটনা না ঘটলেও অপতথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। বিএনপির সাথে চাঁদাবাজির বয়ান তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। সালমান মুক্তাদিরের মতো মানুষকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সালমান মুক্তাদিরের দেওয়া প্রাথমিক বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে জামায়াতে ইসলামীর আমির এবং এনসিপির বেশ কয়েকজন নেতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চাঁদাবাজির দাবি তুলে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে সালমান মুক্তাদির নিজেই এ অভিযোগ তুলে নিলেও বিরোধী দলীয় নেতা এবং এনসিপির নেতৃবৃন্দের সেই স্ট্যাটাসগুলো এখনো ফেসবুকে রয়ে গেছে।
ডা. জাহেদ আরও বলেন, সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের ওপর দাঁড়িয়ে যে কেউ সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করতে পারেন– তাতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু মিথ্যা ও অপতথ্য দিয়ে কোনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ন্যারেটিভ তৈরি করা অপরাধ। সবাইকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে দায়িত্বশীল হতে হবে। আর বিএনপির নামে চাঁদাবাজির ট্যাগ লাগানো এক ধরনের রাজনীতি হলেও সরকার কেবল ন্যারেটিভে কান না দিয়ে অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই ব্যবস্থা নিচ্ছে।
উপদেষ্টা ডা. জাহেদ বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্প্রতি বেসরকারি পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার সংক্রান্ত চুক্তি সই হয়েছে। এ চুক্তির ফলে দেশে ভবিষ্যতে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে নতুন প্রযুক্তির সহযোগিতার পথ প্রসারিত হবে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে ভারতের কাছ থেকে শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়া প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধের একজন দণ্ডপ্রাপ্ত ও ভিন্ন মাত্রার ভয়ঙ্কর আসামি। আন্তর্জাতিক আদালতেও তার বিচার করা সম্ভব। তিনি বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করতে সরকার তৎপর রয়েছে। হাসিনা প্রশ্নে তৃতীয় কোনো দেশের সম্পৃক্ততার প্রয়োজন নেই।
জাহেদ উর রহমান, আমরা তাকে (শেখ হাসিনা) চাইছি এবং ইনডিয়াকেই হস্তান্তর করতে হবে। মানে আমেরিকা যেটা বোঝানোর চেষ্টা করেছে সেটা আসলে একটা বাইল্যাটারাল ইস্যু, এটার মধ্যে কোনো অন্য কোনো দেশের আসলে কোনো ইনভলভমেন্টের প্রয়োজন নাই। আমরাও তাই মনে করি।













