অনুশীলনে ফিরলেও হাইতি ম্যাচে নেই নেইমার

আগামীকাল সকাল ৭টায় খেলা, জয় দিয়ে ছন্দে ফিরতে চায় ব্রাজিল

স্পোর্টস ডেস্ক | শুক্রবার , ১৯ জুন, ২০২৬ at ৮:০৬ পূর্বাহ্ণ

মরক্কোর কাছে প্রথম ম্যাচে ধাক্কা খাওয়া পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল তাদের দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতির মুখোমুখি হচ্ছে। বাংলাদেশ সময় আগামীকাল শনিবার সকাল ৭টায় ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপ ফুটবলের গ্রুপ ‘সি’র এই ম্যাচটি। নিজেদের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট হারানোয় কোচ কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যদের জন্য এই ম্যাচটি ঘুরে দাঁড়ানোর বড় পরীক্ষা। অন্যদিকে, স্কটল্যান্ডের কাছে ১০ গোলে হেরে ব্যাকফুটে থাকা হাইতিও লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া।

মরক্কোর বিপক্ষে ড্র করার পর দলের কৌশল ও ভারসাম্য নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার দানিলো। কোচ কার্লো আনচেলত্তি স্কোয়াডে বেশ কিছু পরিবর্তনের কথা নিয়ে ভাবছেন। গ্যাব্রিয়েল ম্যাগালহায়েসের উরুতে সামান্য অস্বস্তি থাকায় ডিফেন্সে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে দলের ফরোয়ার্ড লাইনে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনিয়ারা নিজেদের প্রমাণ করতে মরিয়া হয়ে আছেন।

তারকা খেলোয়াড় নেইমারকে নিয়ে এখনো কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না ম্যানেজমেন্ট। হাইতি তাদের প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের কাছে হারলেও তাদের লড়াকু মানসিকতা বেশ প্রশংসিত হয়েছে। তবে ব্রাজিলের আক্রমণভাগের বিপক্ষে তাদের রক্ষণভাগকে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হবে। হেডটুহেড ও পরিসংখ্যান অনুযায়ী ঐতিহাসিকভাবে ব্রাজিল ও হাইতির মধ্যকার লড়াইয়ে সেলেসাওরাই একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে আছে। কারণ এর আগের ৩ বারের মুখোমুখি দেখায় হাইতির জালে ১৭টি গোল করেছে ব্রাজিল এবং বিপরীতে হজম করেছে মাত্র ১টি গোল।

৪ ফরমেশনে মাঠে নামার সম্ভাবনা রয়েছে ব্রাজিলের। গোলরক্ষক হিসেবে থাকবেন অ্যালিসন। রক্ষণভাগে দানিলো, মার্কিনহোস, গ্যাব্রিয়েল ও ব্রেমার জায়গা পেতে পারেন। মাঝমাঠে ফ্যাবিনহো এবং ফরোয়ার্ড লাইনে রদ্রিগো, ভিনিসিয়ুস, রাফিনহা ও এনড্রিকের মতো তারকারা খেলতে পারেন। পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের অবস্থান মজবুত করতে এবং গোল ব্যবধান বাড়াতে ব্রাজিল এই ম্যাচে কোনো ছাড়ই দেবে না। তাই হাইতিকে বড় ধরনের অঘটন ঘটাতে হবে। তা করতে না পারলে এই ম্যাচে ব্রাজিলের বড় ব্যবধানে জয়ের সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি বলে ভাবছেন বিশেষজ্ঞরা।

হাইতির বিপক্ষে ব্রাজিলের একাদশ সাজাতে কার্লো আনচেলত্তির পরিকল্পনায় নতুন চমক আসতে পারে। বিশ্বকাপের শুরুটা ব্রাজিলের প্রত্যাশামতো হয়নি। মরক্কোর বিপক্ষে ১১ গোলে ড্র করে মাঠ ছাড়তে হয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। ফলে দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতির বিপক্ষে জয়ের বিকল্প নেই কার্লো আনচেলত্তির দলের সামনে। গত দুই দিনের অনুশীলনে বেশ কিছু পরিবর্তনের আভাস দিয়েছেন তিনি। ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম গ্লোবোর তথ্য অনুযায়ী, রক্ষণভাগে ইবানিয়েজের জায়গায় সুযোগ পেতে পারেন অভিজ্ঞ দানিলো। অন্যদিকে মাঝমাঠে লুকাস পাকেতার বদলে দেখা যেতে পারে লুইস হেনরিকেকে।

মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের আক্রমণে ধার থাকলেও মাঝমাঠে ছন্দের ঘাটতি ছিল। সে কারণেই হয়তো আরও আক্রমণমুখী ৪৪ ফরমেশনে ফেরার চিন্তা করছেন আনচেলত্তি। তবে দুশ্চিন্তার জায়গাও আছে। দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার গ্যাব্রিয়েল ম্যাগালহায়েস ও রাফিনিয়া পুরোপুরি ফিট নন। গ্যাব্রিয়েলের বাম ঊরুতে অস্বস্তি রয়েছে, আর রাফিনিয়া ভুগছেন পায়ের ফোস্কার সমস্যায়। এজন্য অনুশীলনে তাদের বিকল্প হিসেবে লিও পেরেইরা ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লিকে পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। যদিও ম্যাচের দিন মূল একাদশে দুজনকেই দেখা যেতে পারে।

মাঝমাঠে আরেকটি লড়াই চলছে। ফ্যাবিনহোকে সামপ্রতিক অনুশীলনে ব্রুনো গিমারায়েসের পাশে খেলানো হলেও কাসেমিরোর থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। মরক্কো ম্যাচে হলুদ কার্ড পাওয়ার পর বিরতির সময় তাকে তুলে নিয়েছিলেন আনচেলত্তি। এবার অভিজ্ঞ এই মিডফিল্ডার আবারও শুরু থেকে সুযোগ পেতে পারেন। আক্রমণভাগে ইগর থিয়াগো ও মাতেউস কুনহার মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে একটি জায়গার জন্য। অনুশীলনে এগিয়ে ছিলেন ইগর থিয়াগো, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও নেননি কোচ।

এর মধ্যে ব্রাজিল শিবিরে সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর এসেছে নেইমারকে ঘিরে। দীর্ঘদিনের চোট কাটিয়ে তিনি আবার বল নিয়ে অনুশীলন শুরু করেছেন। যদিও তাকে নিয়ে কোনো তাড়াহুড়া করতে চাইছে না টিম ম্যানেজমেন্ট। চিকিৎসক ও কোচিং স্টাফ তার শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। সেই হিসেবে হাইতির বিপক্ষেও তার মাঠে নামার সম্ভাবনা খুবই কম। আনচেলত্তি যদি সত্যিই ৪৪ ফরমেশনে ফেরেন, তাহলে হাইতির রক্ষণভাগকে কঠিন এক পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হতে পারে। বিশ্বকাপের শুরুতে হারানো ছন্দ ফিরে পাওয়ার এটাই হতে পারে সেলেসাওদের সবচেয়ে বড় সুযোগ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসাজিনাস হাসপাতালের পরিচালকসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা
পরবর্তী নিবন্ধপেনাল্টিতে চেকিয়ার জয় কাড়ল দক্ষিণ আফ্রিকা