২৩ অক্টোবর সারা দেশে গণঅনশন ও গণঅবস্থান

সহিংসতাকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষণার বাস্তবায়ন দাবি রানা দাশগুপ্তের

আজাদী প্রতিবেদন | রবিবার , ১৭ অক্টোবর, ২০২১ at ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ

দেশের বিভিন্ন এলাকায় মন্দির-মণ্ডপে হামলা ও হামলা চেষ্টার প্রতিবাদে আগামী ২৩ অক্টোবর ভোর ৬টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত চট্টগ্রামসহ সারা দেশে গণঅনশন ও গণঅবস্থান কর্মসূচির ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। নগরীর আন্দরকিল্লা চত্বরে এবং ঢাকায় শাহবাগ চত্বরে এই কর্মসূচি পালন করা হবে।
গতকাল শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত। দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দিরে হামলা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই হামলায় যারা জড়িত তারা ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সামরিক জান্তাকে সহযোগিতা করেছিল। এরা একাত্তরের পরাজিত শক্তির প্রেতাত্মা। এই সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবি জানান তিনি। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে সারা দেশ থেকে ‘ঢাকা চলো’ রোডমার্চ কর্মসূচি পালন করাসহ প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়ে দাবিনামা পেশ করার সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।
এসব সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই উল্লেখ করে রানা দাশগুপ্ত বলেন, আমরা মনে করি এবং বিশ্বাস করি এর সবটাই পরিকল্পিত, যার মূল লক্ষ্য হচ্ছে একদিকে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আন্তর্জাতিক পরিসরে বিনষ্ট করা। অন্যদিকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারায় অগ্রসরমান উন্নতিকে ব্যাহত করা। তদুপরি বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের দেশ থেকে বিতাড়ন করে গোটা দেশকে সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে পরিণত করা। এহেন পরিস্থিতিতে সাম্প্রদায়িক সহিংসতাকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স ঘোষণার যথাযথ বাস্তবায়ন দাবি করেছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, গাজীপুর, কুড়িগ্রাম, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সিলেট, ভোলা, কক্সবাজার এবং চট্টগ্রামে শতাধিক পূজামণ্ডপ, বাড়িঘর, হিন্দুদের মালিকানাধীন দোকানপাটে হামলা ও ভাঙচুরের তথ্য তুলে ধরা হয়। বাঁশখালী উপজেলার শেখেরখীল, নাপোড়া গ্রামে, কর্ণফুলীর জুলদা গ্রামের জেলেপাড়ায় যারা হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদের নাম-ঠিকানাসহ পরিচয় প্রকাশ করা হয় সাংবাদিকদের সামনে।
রানা দাশগুপ্ত বলেন, করোনা পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে আসায় এবার হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আয়োজন করেছিল। আমরা ভেবেছিলাম, এবারের দুর্গাপূজা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সম্মিলনের উৎসবে পরিণত হবে। কিন্তু সব আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ঐক্য পরিষদের নেতাদের মধ্যে অধ্যাপক রণজিৎ কুমার দে, জীনবোধি ভিক্ষু, তাপস হোড়, শ্যামল পালিত, নিতাই প্রসাদ ঘোষ, অসীম দেব, অ্যাডভোকেট শংকর প্রসাদ দে, অধ্যাপিকা বিজয় লক্ষী দেবী, অ্যাডভোকেট প্রদীপ চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট রুবেল পাল।
এর আগে সকাল থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত আন্দরকিল্লা চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ করে ঐক্য পরিষদ। এতে বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্তসহ পরিষদের নেতারা। এরপর মিছিল সহকারে প্রেস ক্লাব চত্বরে এসে সেখানেও বিক্ষোভকারীরা সমাবেশ করেন বেলা ২টা পর্যন্ত। এ সময় এক পাশে সড়ক বন্ধ ছিল।
পূজা পরিষদের বিক্ষোভ : বিভিন্ন জেলায় মন্দির ও পূজামণ্ডপসহ বাড়িঘরে হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগর শাখা নেতৃবৃন্দ গতকাল বিকাল ৪টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি শ্যামল কুমার পালিত। চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক অসীম কুমার দেব ও মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক হিল্লোল সেন উজ্জ্বলের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নিতাই প্রসাদ ঘোষ, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি লায়ন আশীষ ভট্টাচার্য্য, প্রাক্তন সভাপতি অ্যাডভোকেট চন্দন তালুকদার, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি উত্তম শর্মা, কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন, সুগ্রীব মজুমদার দোলন, লিটন কুমার শীল, সুমন দে, রূপক শীল, মিঠুন সরকার, বলরাম চক্রবর্তী, রাজীব নন্দী বাবু, কাঞ্চন আচার্য্য, কাউন্সিলর সুনীল ঘোষ, লিটন দাশ ইপ্তি, সুজন তালুকদার, রুবেল শীল, কাজল শীল, উজ্জ্বল দেওয়ানজী, চন্দন দত্ত, নিউটন কুমার মজুমদার, লিংকন চক্রবর্ত্তী, মিত্র কুমার শীল, সজল দাশ, লিটন দেবনাথ লিখন, কল্লোল সেন, অধ্যাপক শিপুল দে, দীপক দাশ, শিবু প্রসাদ চৌধুরী, সৈকত মহাজন সাজু, সুজন কুমার শীল, দেবাশীষ মজুমদার প্রমুখ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধক্যাবের বিশ্ব খাদ্য দিবস পালিত
পরবর্তী নিবন্ধশিল্পী মনসুর উল করিমের চিত্র প্রদর্শনী ‘স্বদেশ আমার’ উদ্বোধন