সাতই মার্চ : স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে এক মাইলফলক

বৃহস্পতিবার , ৭ মার্চ, ২০১৯ at ৬:১৫ পূর্বাহ্ণ
13

স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পটভূমিতে ৭ই মার্চ এক ঐতিহাসিক দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে রমনার রেসকোর্স ময়দানে এক সুবিশাল জনসমাবেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণে বাংলাদেশের মুক্তির লক্ষ্যে সশস্ত্র সংগ্রামের আহ্বান জানান। সারা বাংলায় ছড়িয়ে পড়ে সেই আহ্বান। বীর বাঙালি দৃপ্ত শপথে প্রস্তুত হয় মরণপণ লড়াইয়ের জন্য।
১৯৪৭-এর পর থেকে পাকিস্তানি স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে একের পর এক আন্দোলনের সিঁড়ি ডিঙিয়ে চূড়ান্ত ফসল হিসেবে এসেছে মুক্তিযুদ্ধ ও বিজয়। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাঙালিদের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে অস্বীকৃতি জানায়, বেছে নেয় ষড়যন্ত্রের পথ। ১৯৭১-এর ২রা মার্চ থেকে ২৫শে মার্চ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সারা বাংলায় চলে অসহযোগ আন্দোলন। ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক বিশাল জনসমাবেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। আর এই ভাষণেই তিনি ডাক দেন মুক্তি সংগ্রামের। রেসকোর্স ময়দান পরিণত হয় এক বিশাল জনসমুদ্রে। বঙ্গবন্ধুর বজ্রকণ্ঠ বাণী লক্ষ লক্ষ প্রাণে প্রতিধ্বনি তুলেছিল সেদিন। সেদিনের সেই ভাষণ প্রতিটি মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে দেশের জন্যে প্রাণ বিসর্জন দেবার শপথে। দেশমাতৃকার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করার এই দীক্ষা জাতি পেয়েছিল অবিসংবাদিত এই মহান নেতার সেদিনের সেই আহ্বানে – ‘প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যা কিছু আছে তাই দিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে। …মনে রাখবা, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেব। এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ।’ সাতই মার্চে বঙ্গবন্ধুর সেই আহ্বান আজও বাঙালিকে সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করে। উনিশ মিনিটের এই ভাষণ যেন মুক্তির দলিল। বিশ্ব ইতিহাসের সেরা ১০০টি ভাষণের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে বঙ্গবন্ধুর এই ঐতিহাসিক ভাষণ।

- Advertistment -